০২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

৫০১ রান ও ৩৩ ছক্কার ম্যাচ শেষে বোলারদের ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কিত গম্ভীর

এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বোলার-ব্যাটারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর। ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে সবমিলিয়ে ৫০১ রান, ৩৩ ছক্কা ও ৪৬টি চারের বাউন্ডারি হয়েছে। বলতে গেলে লড়াইটা হয়েছে ব্যাটার বনাম ব্যাটারের। এরপরই বোলারদের ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেন গম্ভীর।

রাঁচিতে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শ্রেয়াস আইয়ারের দল ৫ ‍উইকেটে ২৪৯ রান তোলে। যা অধিনায়ক শাই হোপের সেঞ্চুরি ও শেরফান রাদারফোর্ডের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৯ বল এবং ৬ উইকেট হাতে রেখে পেরিয়েছে ক্যারিবীয়রা। এটি টি-টোয়েন্টিতে তাদের সর্বোচ্চ এবং পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়ায় জয়। ফরম্যাটটিতে সর্বোচ্চ ২৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

এর আগে ভারতীয় দল গুয়াহাটিতে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ৪০৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৩৯ বল হাতে রেখেই জিতেছিল। এরপর সর্বশেষ টি-টোয়েন্টিতেও বোলারদের হতাশাগ্রস্ত চেহারা দেখে স্বাগতিক কোচ গৌতম গম্ভীর বলছেন, ‘আপনারা কি ব্যাট-বলের মধ্যে ভালো লড়াই দেখতে চান না? আপনারা যা দেখতে চান, আমরাও ঠিক সেটাই দেখতে চাই। একটি সমান-সমান লড়াই দেখতে চাই। এরা আমাদেরই বোলার, অন্য কারও নয়। তাদের ক্যারিয়ার এখন ঝুঁকির মুখে। এই ড্রেসিংরুমে জায়গা করে নিতে তারা কঠোর পরিশ্রম করেছে। প্রতিযোগিতা যদি সমান-সমান হয়, তবে আমরা আরও ভালো একটি ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে পাব।’

বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ওভারে দুটি ও পাওয়ার প্লেতে মোট তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। তবে হোপ ও রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী দুটি ইনিংসে তাদের লক্ষ্য সহজ করে দেয়। ৪৫ বলে ৬ চার ও ৯ ছক্কায় অপরাজিত ১০২ রানের টর্নেডো ইনিংসে হোপ ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন। এ ছাড়া ৩৭ বলে ৭টি করে চার-ছক্কায় ৮৪ রান করেন রাদারফোর্ড। রোমারিও শেফার্ড শেষদিকে ১৩ বলে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৩৪ রান করেন।

টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়ায় ক্যারিবীয়দের জয়ের পর ভারতীয় কোচ বললেন, ‘কোনো পরাজয়কেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। যদি আপনি ক্রমাগত উন্নতি করতে চান, তবে কোনো কিছুই ধামাচাপা দিয়ে রাখতে চাইবেন না। আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল, তাই উন্নতি করতে চাই। এটি বোলিংয়ের জন্য কঠিন কন্ডিশন, আমরা জানি ফ্ল্যাট উইকেটে শিশির পড়ার পর কী হয়। অবশ্য আমাদের এ থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে হবে। বিশেষ করে পাওয়ার প্লেতে প্রতিপক্ষ পাওয়ার প্লেতে ৫ হারানো সত্ত্বেও। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কৃতিত্ব প্রাপ্য, হোপ-শেরফান বিশ্বমানের ব্যাটার।’

যদিও দারুণ গতিময় বোলিংয়ে পরপর দুই উইকেট নিয়ে সফরকারীদের চাপে ফেলেছিলেন মায়াঙ্ক যাদব। তরুণ এই পেসারের প্রশংসা করে গম্ভীর বলছেন, ‘সে একজন ফাস্ট বোলার, তাই তার ফাস্ট বোলারের মতোই বল করা উচিত। সে তো আর স্লো বোলার নয়। ঘণ্টায় ১৫০ কিমি গতিতে বল করার ক্ষমতা থাকলে সেটাই করো, আবার ১২০ কিমি গতিতে করার হলে সেটাই করো। ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলার সময় দ্রুত বল করাটা তোমার দায়িত্ব। আর আজ সে সেটাই করেছে এবং সফলও হয়েছে।’

_RAKIB_

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

৫০১ রান ও ৩৩ ছক্কার ম্যাচ শেষে বোলারদের ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কিত গম্ভীর

প্রকাশিত : ০১:৩৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বোলার-ব্যাটারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর। ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে সবমিলিয়ে ৫০১ রান, ৩৩ ছক্কা ও ৪৬টি চারের বাউন্ডারি হয়েছে। বলতে গেলে লড়াইটা হয়েছে ব্যাটার বনাম ব্যাটারের। এরপরই বোলারদের ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেন গম্ভীর।

রাঁচিতে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শ্রেয়াস আইয়ারের দল ৫ ‍উইকেটে ২৪৯ রান তোলে। যা অধিনায়ক শাই হোপের সেঞ্চুরি ও শেরফান রাদারফোর্ডের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৯ বল এবং ৬ উইকেট হাতে রেখে পেরিয়েছে ক্যারিবীয়রা। এটি টি-টোয়েন্টিতে তাদের সর্বোচ্চ এবং পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়ায় জয়। ফরম্যাটটিতে সর্বোচ্চ ২৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

এর আগে ভারতীয় দল গুয়াহাটিতে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ৪০৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৩৯ বল হাতে রেখেই জিতেছিল। এরপর সর্বশেষ টি-টোয়েন্টিতেও বোলারদের হতাশাগ্রস্ত চেহারা দেখে স্বাগতিক কোচ গৌতম গম্ভীর বলছেন, ‘আপনারা কি ব্যাট-বলের মধ্যে ভালো লড়াই দেখতে চান না? আপনারা যা দেখতে চান, আমরাও ঠিক সেটাই দেখতে চাই। একটি সমান-সমান লড়াই দেখতে চাই। এরা আমাদেরই বোলার, অন্য কারও নয়। তাদের ক্যারিয়ার এখন ঝুঁকির মুখে। এই ড্রেসিংরুমে জায়গা করে নিতে তারা কঠোর পরিশ্রম করেছে। প্রতিযোগিতা যদি সমান-সমান হয়, তবে আমরা আরও ভালো একটি ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে পাব।’

বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ওভারে দুটি ও পাওয়ার প্লেতে মোট তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। তবে হোপ ও রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী দুটি ইনিংসে তাদের লক্ষ্য সহজ করে দেয়। ৪৫ বলে ৬ চার ও ৯ ছক্কায় অপরাজিত ১০২ রানের টর্নেডো ইনিংসে হোপ ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন। এ ছাড়া ৩৭ বলে ৭টি করে চার-ছক্কায় ৮৪ রান করেন রাদারফোর্ড। রোমারিও শেফার্ড শেষদিকে ১৩ বলে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৩৪ রান করেন।

টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়ায় ক্যারিবীয়দের জয়ের পর ভারতীয় কোচ বললেন, ‘কোনো পরাজয়কেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না। যদি আপনি ক্রমাগত উন্নতি করতে চান, তবে কোনো কিছুই ধামাচাপা দিয়ে রাখতে চাইবেন না। আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল, তাই উন্নতি করতে চাই। এটি বোলিংয়ের জন্য কঠিন কন্ডিশন, আমরা জানি ফ্ল্যাট উইকেটে শিশির পড়ার পর কী হয়। অবশ্য আমাদের এ থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে হবে। বিশেষ করে পাওয়ার প্লেতে প্রতিপক্ষ পাওয়ার প্লেতে ৫ হারানো সত্ত্বেও। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কৃতিত্ব প্রাপ্য, হোপ-শেরফান বিশ্বমানের ব্যাটার।’

যদিও দারুণ গতিময় বোলিংয়ে পরপর দুই উইকেট নিয়ে সফরকারীদের চাপে ফেলেছিলেন মায়াঙ্ক যাদব। তরুণ এই পেসারের প্রশংসা করে গম্ভীর বলছেন, ‘সে একজন ফাস্ট বোলার, তাই তার ফাস্ট বোলারের মতোই বল করা উচিত। সে তো আর স্লো বোলার নয়। ঘণ্টায় ১৫০ কিমি গতিতে বল করার ক্ষমতা থাকলে সেটাই করো, আবার ১২০ কিমি গতিতে করার হলে সেটাই করো। ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলার সময় দ্রুত বল করাটা তোমার দায়িত্ব। আর আজ সে সেটাই করেছে এবং সফলও হয়েছে।’

_RAKIB_