বিদ্যুৎ বিল কমাতে এবং লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি দূর করতে নতুন প্রযুক্তির রিচার্জেবল সিলিং ফ্যান বাজারে ছাড়লো সিনট্যাক্স মার্ট। দেশীয় উৎপাদনে এটিই প্রথম ব্রাশলেস ডিসি (বিএলডিসি) প্রযুক্তিসম্পন্ন রিচার্জেবল সিলিং ফ্যান বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। এই ফ্যানটি একদিকে যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, অন্যদিকে মাত্র একবার চার্জ দিয়ে দীর্ঘ সময় চালানো যায়। আবাসিক ও বাণিজ্যিক সব ধরনের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই পণ্যটি তৈরি করা হয়েছে।
সিনট্যাক্স মার্টের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ফ্যানটির বিদ্যুৎ খরচ ৩৫ ওয়াট বা তার কম। প্রচলিত ৬০ থেকে ৮০ ওয়াটের সিলিং ফ্যানের তুলনায় এতে বিদ্যুৎ ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। পূর্ণ চার্জে সর্বোচ্চ আট ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে ফ্যানটি। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ের সময়ও এটি ব্যবহার করা যাবে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যারিস্টার এফ এম রিয়াজ উল ইসলাম শাহরিয়ার বলেন, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে পণ্যটি তৈরি করা হয়েছে। বিএলডিসি প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রচলিত ফ্যানের তুলনায় বিদ্যুৎ ব্যবহার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ: বর্তমানে আবাসিক ও বাণিজ্যিক উভয় খাতেই বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় ফ্যান ব্যবহারের কারণে বিদ্যুৎ বিলের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। এ অবস্থায় কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রযুক্তির বৈদ্যুতিক পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সিনট্যাক্স মার্টের হিসাবে, নতুন ফ্যান ব্যবহারে বছরে প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ ব্যবহারকাল, বিদ্যুতের মূল্য এবং ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ব্যাটারি ব্যাকআপ থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও ফ্যানটি চালু রাখা সম্ভব। ফলে একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচ কমানো এবং জরুরি সময়ে বিকল্প ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যাবে।
নতুন ফ্যানটিতে রিচার্জেবল ব্যাটারি ব্যবস্থা রয়েছে। একবার পূর্ণ চার্জে এটি সর্বোচ্চ আট ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে। পাশাপাশি সৌর প্যানেলের সঙ্গে সংযোগের সুবিধাও রাখা হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বৈদ্যুতিক পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত, সেখানে সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি ব্যাকআপের সমন্বিত ব্যবহার বিকল্প সুবিধা দিতে পারে।
ফ্যানটিতে পাঁচ গতির রিমোট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মুঠোফোনের অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের সুবিধা রয়েছে। মাত্র ২৮ ডেসিবেল শব্দে পরিচালিত হওয়ায় বাসাবাড়ির পাশাপাশি অফিস ও হাসপাতালের মতো জায়গায় ব্যবহারের উপযোগী করে এটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সিনট্যাক্স মার্ট নতুন রিচার্জেবল ফ্যানের চারটি মডেল বাজারে এনেছে। মডেলভেদে এসব ফ্যানের দাম ৮ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যানের জন্য পাঁচ বছরের এবং ব্যাটারির জন্য দুই বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হচ্ছে। ঢাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রথম এক হাজার ইউনিটে ১৫ শতাংশ মূল্যছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তির ফ্যানটি বাজারে দ্রুত পরিচিত করার পাশাপাশি গ্রাহকদের মধ্যে এর ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বাড়ছে সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক পণ্যের বাজার: সিনট্যাক্স মার্টের হিসাবে, দেশে রিচার্জেবল বিএলডিসি ফ্যানের বার্ষিক বাজারের আকার বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা। এ বাজারে বছরে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়, লোডশেডিং মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে এ ধরনের পণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রযুক্তির বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির চাহিদা বাড়ছে।
এ ধরনের পণ্যের স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে একদিকে ভোক্তাদের জন্য বিকল্প তৈরি হবে, অন্যদিকে দেশীয় বৈদ্যুতিক পণ্য শিল্পে প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
নতুন পণ্য নিয়ে আগামী ১২ মাসে ৫ হাজার ইউনিট বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সিনট্যাক্স মার্ট। স্থানীয় বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি ২০২৭-২৮ সাল থেকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকার বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
সিনট্যাক্স মার্ট জানিয়েছে, তাদের উৎপাদনকেন্দ্র সৌরবিদ্যুৎনির্ভর এবং শূন্য-বর্জ্য উৎপাদন ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি আইএসও ৯০০১, আইএসও ১৪০০১ ও লিড সনদপ্রাপ্ত বলেও জানিয়েছে। নতুন ফ্যানের বিভিন্ন উপাদান বাংলাদেশি মান এবং আন্তর্জাতিক বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির মানদণ্ড অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে প্রযুক্তিনির্ভর বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেও এ উদ্যোগকে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী দিনে বাজার সম্প্রসারণ ও রপ্তানি কার্যক্রম বাড়ানো গেলে এ খাতে নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির সুযোগও তৈরি হতে পারে।
ডিএস,.















