০৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

আগামী অর্থবছরের মধ্যে বদলে যাবে দেশের স্বাস্থ্যখাত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আগামী অর্থবছরের বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্য খাতের চেহারা বদলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, ক্যানসার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার থিয়েটারে আয়োজিত ‘মেডিকেল ফিজিক্স কার্যক্রমের উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন থেকে প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরিত করতে যাচ্ছি। শুধু উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে উঁচু ভবন করা হবে। এখানেই আমরা থেমে থাকিনি। ইউনিয়নের প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে একটি করে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টার করা হবে। আগের কমিউনিটি ক্লিনিককে আমরা হেলথ ওয়েলবিং সেন্টারে রূপান্তরিত করবো। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেক নারী-পুরুষের রোগ-বৃত্তান্ত, জন্ম, ওজন, উচ্চরক্তচাপসহ যা যা রয়েছে, সবকিছু রেকর্ড করে কার্ড দেওয়া হবে। অতএব আগামী অর্থবছরের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতের চেহারা পরিবর্তন হবে ইনশাআল্লাহ।

দেশে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে সরকার ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ১৭টি লিনিয়ার এক্সিলারেটর বা রেডিওথেরাপি মেশিন আনতে যাচ্ছি। এসব মেশিন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বাংকার প্রস্তুত ও সংস্কারের কাজ চলছে। আগামী অর্থবছরে আরও বাংকার নির্মাণ করা হবে। এছাড়া আট বিভাগে রেডিওথেরাপি সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি জেলা পর্যায়েও এ সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

ডা. সাখাওয়াত বলেন, লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল তৈরির পাশাপাশি মেডিকেল ফিজিসিস্ট নিয়োগ দেওয়া হবে। কেননা রেডিওথেরাপির ক্ষেত্রে মেডিকেল ফিজিসিস্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ থেরাপির ডোজ নির্ধারণে তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। ডোজ নির্ধারণে ভুল হলে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকের পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই মেডিকেল ফিজিসিস্ট নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় জনবলের সংখ্যা নির্ধারণ করে দ্রুত চিঠি প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠি প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে রেডিওথেরাপি মেশিন বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু যন্ত্রপাতি কেনাই যথেষ্ট নয়। এসব পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবলও প্রয়োজন। এ কারণে প্রযুক্তিবিদ ও টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নার্সদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যেন ক্যানসার চিকিৎসার বিভিন্ন ইউনিটে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে পাঁচটি রোবোটিক সার্জারি মেশিন আনা হবে বলেও জানান তিনি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল ফিজিক্স প্রোগ্রামের প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাসেবায় মেডিকেল ফিজিক্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। এ বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্যোগকে সরকার সহযোগিতা করবে। মেডিকেল ফিজিসিস্টের সংখ্যা বাড়াতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডিএস./

জনপ্রিয়

আগামী অর্থবছরের মধ্যে বদলে যাবে দেশের স্বাস্থ্যখাত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০২:১৬:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

আগামী অর্থবছরের বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্য খাতের চেহারা বদলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, ক্যানসার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার থিয়েটারে আয়োজিত ‘মেডিকেল ফিজিক্স কার্যক্রমের উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন থেকে প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরিত করতে যাচ্ছি। শুধু উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে উঁচু ভবন করা হবে। এখানেই আমরা থেমে থাকিনি। ইউনিয়নের প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে একটি করে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টার করা হবে। আগের কমিউনিটি ক্লিনিককে আমরা হেলথ ওয়েলবিং সেন্টারে রূপান্তরিত করবো। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেক নারী-পুরুষের রোগ-বৃত্তান্ত, জন্ম, ওজন, উচ্চরক্তচাপসহ যা যা রয়েছে, সবকিছু রেকর্ড করে কার্ড দেওয়া হবে। অতএব আগামী অর্থবছরের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতের চেহারা পরিবর্তন হবে ইনশাআল্লাহ।

দেশে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে সরকার ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ১৭টি লিনিয়ার এক্সিলারেটর বা রেডিওথেরাপি মেশিন আনতে যাচ্ছি। এসব মেশিন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বাংকার প্রস্তুত ও সংস্কারের কাজ চলছে। আগামী অর্থবছরে আরও বাংকার নির্মাণ করা হবে। এছাড়া আট বিভাগে রেডিওথেরাপি সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি জেলা পর্যায়েও এ সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

ডা. সাখাওয়াত বলেন, লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল তৈরির পাশাপাশি মেডিকেল ফিজিসিস্ট নিয়োগ দেওয়া হবে। কেননা রেডিওথেরাপির ক্ষেত্রে মেডিকেল ফিজিসিস্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ থেরাপির ডোজ নির্ধারণে তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। ডোজ নির্ধারণে ভুল হলে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকের পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই মেডিকেল ফিজিসিস্ট নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় জনবলের সংখ্যা নির্ধারণ করে দ্রুত চিঠি প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠি প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে রেডিওথেরাপি মেশিন বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু যন্ত্রপাতি কেনাই যথেষ্ট নয়। এসব পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবলও প্রয়োজন। এ কারণে প্রযুক্তিবিদ ও টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নার্সদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যেন ক্যানসার চিকিৎসার বিভিন্ন ইউনিটে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে পাঁচটি রোবোটিক সার্জারি মেশিন আনা হবে বলেও জানান তিনি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল ফিজিক্স প্রোগ্রামের প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাসেবায় মেডিকেল ফিজিক্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। এ বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্যোগকে সরকার সহযোগিতা করবে। মেডিকেল ফিজিসিস্টের সংখ্যা বাড়াতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডিএস./