ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সম্প্রতি “bookmyrailbd.com” নামে একটি অননুমোদিত ওয়েবসাইট স্বয়ংক্রিয় বট (Automated BOT) ব্যবহার করে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং সিস্টেম থেকে বিপুলসংখ্যক টিকিট কৃত্রিমভাবে ব্লক করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রেলওয়ের অভিযোগ, এ ধরনের সাইবার কারসাজির কারণে সাধারণ যাত্রীরা নির্ধারিত মূল্যে টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন না। একই সঙ্গে টিকিটপ্রত্যাশীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। বিষয়টি যাত্রীস্বার্থ ও রেলওয়ের টিকিটিং ব্যবস্থার নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) বাংলাদেশ রেলওয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “bookmyrailbd.com” একটি অননুমোদিত ও অবৈধ ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইটটি স্বয়ংক্রিয় বটের মাধ্যমে রেলওয়ের ই-টিকিটিং ব্যবস্থায় প্রবেশ করে বিপুলসংখ্যক টিকিট কৃত্রিমভাবে ব্লক করছে। পরে এসব টিকিট অতিরিক্ত মূল্যে কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে বলে রেলওয়ের কাছে তথ্য রয়েছে।
রেলওয়ে বলছে, অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় বট ব্যবহার করে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক টিকিট দখলে নেওয়ার ফলে সাধারণ যাত্রীদের টিকিট পাওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট গন্তব্যের জনপ্রিয় ট্রেন ও ব্যস্ত সময়ে টিকিটের চাহিদা বেশি থাকায় এ ধরনের কারসাজির প্রভাব আরও বেশি পড়তে পারে।
এ অবস্থায় যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ই-টিকিটিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ইতোমধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রথমত, রেলওয়ের টিকিটিং পার্টনার সহজ লিমিটেডকে ই-টিকিটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় বট শনাক্ত ও প্রতিরোধে জরুরি কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, অবৈধভাবে টিকিট সংগ্রহ ও কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর পত্র পাঠিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত, গ্রেফতার এবং প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তৃতীয়ত, “bookmyrailbd.com” ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট আইপি (Internet Protocol) এবং মোবাইল অ্যাপ বাংলাদেশ থেকে ব্লক করার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানিয়েছে রেলওয়ে।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থায় প্রযুক্তির অপব্যবহার বন্ধ করা না গেলে একদিকে যেমন সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়বেন, অন্যদিকে রেলওয়ের ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি কালোবাজারি চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, ট্রেনের টিকিট কেনার ক্ষেত্রে কোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা ব্যক্তির ওপর নির্ভর না করতে। শুধুমাত্র রেলওয়ের অনুমোদিত অফিসিয়াল ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd এবং Rail Sheba অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট কেনার জন্য যাত্রীদের অনুরোধ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে কোনো অননুমোদিত মাধ্যম থেকে অতিরিক্ত দামে টিকিট না কেনার আহ্বান জানিয়েছে রেলওয়ে। টিকিট কালোবাজারি, অবৈধভাবে টিকিট সংগ্রহ বা বিক্রির কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্যও যাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
রেলওয়ের এই পদক্ষেপের ফলে অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থায় কৃত্রিমভাবে টিকিট আটকে রেখে কালোবাজারি করার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত মূল্যে টিকিট পাওয়ার সুযোগ আরও সুরক্ষিত হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
ডিএস./






















