০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ভেড়ামারা দিয়ে আসলো ভারতীয় বিদ্যুৎ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় স্থাপিত উচ্চক্ষমতার সঞ্চালন লাইনের দুই ব্লকের মাধ্যমে রবিবার রাত ১টার পর ভারতীয় ৭৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেশে এসেছে বলে জানিয়েছেন ভেড়ামারা সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের পরিচালক কিউএম শফিকুল ইসলাম। এ বিষয়ে গত শুক্রবার পিডিবির সঙ্গে ভারতের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী গতকাল ১২টা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর কথা ছিল।

এর আগে রাত ৮টায় ভেড়ামারা সঞ্চালন লাইনের প্রথম ব্লক দিয়ে ৪৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছিল। এরপর নতুন নিমিত দ্বিতীয় ব্লক দিয়েও ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ আসতে শুরু করে। রাত ঠিক ১২টায় দুই ব্লক মিলিয়ে মোট ৫৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসা শুরু হয়।

এদিকে আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ আমদানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ভেড়ামারায় স্থাপিত উচ্চক্ষমতার সঞ্চালন লাইনের দ্বিতীয় ব্লকের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ।

আজ সোমবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ভেড়ামারা কেন্দ্রে এক সুধীসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেবেন। সুধীসমাবেশে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে, ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়। গতকাল পর্যন্ত ওই ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়াও ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হচ্ছিল। আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে আমদানি শুরু হলো।

সব মিলিয়ে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মোট পরিমাণ দাঁড়ালো ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট। ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াটের চুক্তি হলেও বাংলাদেশ তার চাহিদা মতো ভারতের কাছ থেকে এই বিদ্যুৎ নেবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, এই বিদ্যুৎ আমদানির জন্য এরইমধ্যে ভারতের কোম্পানি এনটিপিসি বিদ্যুৎ ভ্যাপার নিগাম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও পাওয়ার ট্রেডিং করপোরেশন (পিটিসি) ইন্ডিয়া লিমিটেডকে নির্বাচিত করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। গত ১১ এপ্রিল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি তাদের দর প্রস্তাব অনুমোদনও করেছে।

পিডিবি সূত্র জানায়, বর্তমানে স্বল্পমেয়াদে ৩০০ ও ২০০ মেগাওয়াট করে ভারতের এই দুই কোম্পানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। সরকার স্বল্প ও দীর্ঘ—দুই মেয়াদে ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০১৮ সাল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদ এবং ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ মে পর্যন্ত মেয়াদকে দীর্ঘমেয়াদ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, এনভিভিএন (ইন্ডিয়া) থেকে স্বল্পমেয়াদে প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৭১ পয়সা দামে প্রতিদিন ৩০০ মেগাওয়াট ও পিটিসি ইন্ডিয়া থেকে প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৮৬ পয়সা দামে প্রতিদিন ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে।

তবে, দীর্ঘমেয়াদে এনভিভিএন প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৪৮ পয়সা মূল্যে ৩০০ মেগাওয়াট ও পিটিসি থেকে প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৫৪ পয়সা মূল্যে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে আজ তারেক রহমানের জনসভা

ভেড়ামারা দিয়ে আসলো ভারতীয় বিদ্যুৎ

প্রকাশিত : ১০:১৬:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় স্থাপিত উচ্চক্ষমতার সঞ্চালন লাইনের দুই ব্লকের মাধ্যমে রবিবার রাত ১টার পর ভারতীয় ৭৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেশে এসেছে বলে জানিয়েছেন ভেড়ামারা সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের পরিচালক কিউএম শফিকুল ইসলাম। এ বিষয়ে গত শুক্রবার পিডিবির সঙ্গে ভারতের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী গতকাল ১২টা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর কথা ছিল।

এর আগে রাত ৮টায় ভেড়ামারা সঞ্চালন লাইনের প্রথম ব্লক দিয়ে ৪৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছিল। এরপর নতুন নিমিত দ্বিতীয় ব্লক দিয়েও ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ আসতে শুরু করে। রাত ঠিক ১২টায় দুই ব্লক মিলিয়ে মোট ৫৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসা শুরু হয়।

এদিকে আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ আমদানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ভেড়ামারায় স্থাপিত উচ্চক্ষমতার সঞ্চালন লাইনের দ্বিতীয় ব্লকের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ।

আজ সোমবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ভেড়ামারা কেন্দ্রে এক সুধীসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেবেন। সুধীসমাবেশে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে, ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়। গতকাল পর্যন্ত ওই ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়াও ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হচ্ছিল। আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে আমদানি শুরু হলো।

সব মিলিয়ে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মোট পরিমাণ দাঁড়ালো ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট। ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াটের চুক্তি হলেও বাংলাদেশ তার চাহিদা মতো ভারতের কাছ থেকে এই বিদ্যুৎ নেবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, এই বিদ্যুৎ আমদানির জন্য এরইমধ্যে ভারতের কোম্পানি এনটিপিসি বিদ্যুৎ ভ্যাপার নিগাম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও পাওয়ার ট্রেডিং করপোরেশন (পিটিসি) ইন্ডিয়া লিমিটেডকে নির্বাচিত করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। গত ১১ এপ্রিল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি তাদের দর প্রস্তাব অনুমোদনও করেছে।

পিডিবি সূত্র জানায়, বর্তমানে স্বল্পমেয়াদে ৩০০ ও ২০০ মেগাওয়াট করে ভারতের এই দুই কোম্পানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। সরকার স্বল্প ও দীর্ঘ—দুই মেয়াদে ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০১৮ সাল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদ এবং ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ মে পর্যন্ত মেয়াদকে দীর্ঘমেয়াদ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, এনভিভিএন (ইন্ডিয়া) থেকে স্বল্পমেয়াদে প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৭১ পয়সা দামে প্রতিদিন ৩০০ মেগাওয়াট ও পিটিসি ইন্ডিয়া থেকে প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৮৬ পয়সা দামে প্রতিদিন ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে।

তবে, দীর্ঘমেয়াদে এনভিভিএন প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৪৮ পয়সা মূল্যে ৩০০ মেগাওয়াট ও পিটিসি থেকে প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৫৪ পয়সা মূল্যে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে।