১০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

‘সীমতি আকারে ইভএিম ব্যবহার করতে চায় ইসি’

নির্বাচন কমিশন একাদশ সংসদ নির্বাচনে সীমিত আকারে হলেও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘ইভিএম ব্যবহারের জন্য আরপিও সংশোধন করা প্রয়োজন। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেটি পাশ হলে সীমিত আকারে ব্যবহারের চেষ্টা করা হবে।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে বগুড়ায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বিএনপি নির্বাচনে আসবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন অংশগ্রহণমুলক, প্রতিযোগিতামূলক এবং প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক হলেই সুষ্ঠু হবে।’ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘এ বিষয়টি এখনও ঠিক হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে কিভাবে ব্যবহার করা হবে কি হবে না।’

এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে জেলা এবং পুলিশ প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা সনাতনী ভোট গ্রহণ পদ্ধতির নানা অসুবিধার কথা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৃটিশ আমল থেকে চলে আসা পেপার ভোটিংয়ে অনেক সমস্যা। পক্ষান্তরে ইভিএম এমন একটা পদ্ধতি যাতে আমরা কনভিন্সড। আমাদের ইচ্ছা এবং স্বপ্ন হলো ইভিএম ব্যবহার করা।
ইভিএমের ব্যবহারের বিভিন্ন সুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইভিএমের অনেক সুবিধা। যেমন নির্ধারিত সময়ের আগে-পরে কেউ ভোট দিতে পারবে না। এক কেন্দ্রের সব ভোটারদের তথ্য সেখানে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে অন্য কেন্দ্রের কোন ভোটার সেখানে ভোট দিতে পারবে না। টেকনোলজির দিক দিয়ে পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে কিন্তু আমরা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেই টেকনোলজিটা ব্যবহার করতে পারিনি। আমরা ইভিএমকে জনগণের সামনে নিতে পারিনি। ইতিপূর্বে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে কেবল কিছু কেন্দ্রে এর ব্যবহার করা হয়েছে।’

ইভিএমের ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য সম্পর্কে কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে আমরা ইভিএম এর ব্যবহার নিয়ে একটা প্রদর্শনীর আয়োজন করবো। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোকে ডাকা হবে। তখন হয়তো তাদের আস্থা বাড়বে। এছাড়া অক্টোবরের প্রথম সম্পহে সারাদেশে যে উন্নয়ন মেলা হবে সেখানেও নির্বাচন কমিশনের স্টল থাকবে এবং ইভিএম মেশিনের ব্যবহার সম্পর্কেও জনগণকে ধারণা দেওয়া হবে।’

নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কোন উদ্যোগ নেবে কি’না-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন,‘আমরা নির্বাচনকে কিভাবে সুষ্ঠু এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ করা যায় সেটি নিয়ে কাজ করছি। এর বাইরে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আমাদের আলোচনা করা কিংবা বসা সম্ভব নয়। এটা তাদের স্বাধীনতা। তবে আমরা সব দলের অংশগ্রহণ কামনা করি।’

বিএনপি নির্বাচনে আসবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেন, অংশগ্রহণমুলক, প্রতিযোগিতামূলক এবং প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক হলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আমি আশা করি তারা নির্বাচনে আসবে।’ বিএনপি নির্বাচনে না এলে নিবন্ধন বাতিল হবে কি’না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি তারা একটি আসনেও নির্বাচন না করে তাহলে তো ঝুঁকি থেকেই যায়।’

বিবি/ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ছাত্রদলের নতুন কমিটির আলোচনায় বারবার গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আবু হান্নান তালুকদার

‘সীমতি আকারে ইভএিম ব্যবহার করতে চায় ইসি’

প্রকাশিত : ০৯:২৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নির্বাচন কমিশন একাদশ সংসদ নির্বাচনে সীমিত আকারে হলেও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘ইভিএম ব্যবহারের জন্য আরপিও সংশোধন করা প্রয়োজন। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেটি পাশ হলে সীমিত আকারে ব্যবহারের চেষ্টা করা হবে।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে বগুড়ায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বিএনপি নির্বাচনে আসবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন অংশগ্রহণমুলক, প্রতিযোগিতামূলক এবং প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক হলেই সুষ্ঠু হবে।’ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘এ বিষয়টি এখনও ঠিক হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে কিভাবে ব্যবহার করা হবে কি হবে না।’

এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে জেলা এবং পুলিশ প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা সনাতনী ভোট গ্রহণ পদ্ধতির নানা অসুবিধার কথা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৃটিশ আমল থেকে চলে আসা পেপার ভোটিংয়ে অনেক সমস্যা। পক্ষান্তরে ইভিএম এমন একটা পদ্ধতি যাতে আমরা কনভিন্সড। আমাদের ইচ্ছা এবং স্বপ্ন হলো ইভিএম ব্যবহার করা।
ইভিএমের ব্যবহারের বিভিন্ন সুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইভিএমের অনেক সুবিধা। যেমন নির্ধারিত সময়ের আগে-পরে কেউ ভোট দিতে পারবে না। এক কেন্দ্রের সব ভোটারদের তথ্য সেখানে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে অন্য কেন্দ্রের কোন ভোটার সেখানে ভোট দিতে পারবে না। টেকনোলজির দিক দিয়ে পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে কিন্তু আমরা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেই টেকনোলজিটা ব্যবহার করতে পারিনি। আমরা ইভিএমকে জনগণের সামনে নিতে পারিনি। ইতিপূর্বে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে কেবল কিছু কেন্দ্রে এর ব্যবহার করা হয়েছে।’

ইভিএমের ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য সম্পর্কে কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে আমরা ইভিএম এর ব্যবহার নিয়ে একটা প্রদর্শনীর আয়োজন করবো। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোকে ডাকা হবে। তখন হয়তো তাদের আস্থা বাড়বে। এছাড়া অক্টোবরের প্রথম সম্পহে সারাদেশে যে উন্নয়ন মেলা হবে সেখানেও নির্বাচন কমিশনের স্টল থাকবে এবং ইভিএম মেশিনের ব্যবহার সম্পর্কেও জনগণকে ধারণা দেওয়া হবে।’

নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কোন উদ্যোগ নেবে কি’না-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন,‘আমরা নির্বাচনকে কিভাবে সুষ্ঠু এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ করা যায় সেটি নিয়ে কাজ করছি। এর বাইরে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আমাদের আলোচনা করা কিংবা বসা সম্ভব নয়। এটা তাদের স্বাধীনতা। তবে আমরা সব দলের অংশগ্রহণ কামনা করি।’

বিএনপি নির্বাচনে আসবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেন, অংশগ্রহণমুলক, প্রতিযোগিতামূলক এবং প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক হলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আমি আশা করি তারা নির্বাচনে আসবে।’ বিএনপি নির্বাচনে না এলে নিবন্ধন বাতিল হবে কি’না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি তারা একটি আসনেও নির্বাচন না করে তাহলে তো ঝুঁকি থেকেই যায়।’

বিবি/ইএম