০১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

আবার আসিব ফিরে এই সংসদে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা জীবনানন্দ দাশের কবিতা আবৃত্তি করে বলেছেন, ‘আবার আসিব ফিরে ধান সিঁড়িটির তীরে, এই বাংলায়। আবার আসিবো ফিরে এই সংসদে।’

দেশবাসীর কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে তিনি বলেন, আপনারা আরেকটিবার নৌকায় ভোট দিন, আরেকটিবার দেশসেবার সুযোগ দিন, ইনশাআল্লাহ এই বাংলাদেশ আর পিছিয়ে থাকবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে অদম্য গতিতে, এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে।

সোমবার রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাপনী অধিবেশন সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল। অধিবেশনে বিরোধী দলের নেতাও সমাপনী বক্তব্য দেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘ছাড়পত্র’ কবিতাটির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সুকান্তের ভাষায় বলবো- ’চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি- নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’

এর আগে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের অদম্য অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। সারাদেশে যে উন্নয়নের ছোঁয়া বাংলাদেশ পেয়েছে, তাতে আমি বিশ্বাস করি- বাংলাদেশের মানুষ নিশ্চয়ই আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে। জনগণের কাছে আমার আবেদন, আমরা যে মেগা প্রজেক্ট (প্রকল্প) গ্রহণ করেছি, তা সমাপ্ত করার জন্য আমাদের আরও কিছু সময় প্রয়োজন। আর সেই সুযোগটি দিতে পারে একমাত্র দেশের জনগণ। আমি বিশ্বাস করি, দেশের মানুষ নিশ্চয়ই সেই সুযোগ আমাদের করে দেবেন। বাংলাদেশের মানুষ সেই সুযোগটি যদি দেয়, ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত করার যে কাজে আমরা হাত দিয়েছি, সেটা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে পারব।

এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহ না হয়, এটাই হচ্ছে সংসদের শেষ অধিবেশন।

বিরোধী দলের দাবির জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সারাদেশে প্রাণচাঞ্চল্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় সেজন্য ব্যাংক, বীমা, বেসরকারি টেলিভিশনসহ সবকিছু বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যত কী হবে, জীবনমান কেমন হবে, কেমন বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই, সেটাই একমাত্র চিন্তা। টানা ১০ বছরে আমাদের শাসনমালে তরুণ প্রজন্মের সুন্দর জীবন দিতে প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছি। আজকে আমরা নিজস্ব বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৫ কোটি সিম ব্যবহার হচ্ছে। এতো সিম ব্যবহার পৃথিবীর কোনো দেশে নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, আমরা তাদের মর্যাদা রক্ষা করেছি। ২০২১ সালের মধ্যে সুনির্দিষ্ট টার্গেট করেছি শুধু আইসিটি খাত থেকেই ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করবো। ইন্টারনেট ব্যবহারে বিশ্বব্যাংকের মতে বাংলাদেশ হচ্ছে এখন দ্বিতীয়। দেশের ৬ লাখেরও বেশি তরুণ-তরুণী দেশে ঘরে বসেই আউটসোর্সিয়ের মাধ্যমে বিদেশ থেকে অর্থ উপার্জন করছে। মোবাইল ব্যাংকিংও যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মোবাইল ব্যাংকে প্রতিদিন এক হাজার কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে, এটাই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। কোরবানির গরুও এখন অনলাইনে বিক্রি হয়। সাড়ে সাত হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব গড়ে তুলেছি। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আইটি খাতে বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য। ২০২১ সাল নাগাদ ১ হাজার ১৮৭টি ই-সেবা চালু করা হবে। সাইবার ঝুঁকি থেকে দেশকে রক্ষায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করেছি, যারা শুধু ক্রাইম করবে তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার হবে এ আইন, অন্যদের চিন্তা করার কোনো কারণ নেই।

দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের কাছে আহ্বান, মেগা প্রকল্প নিয়েছি, তরুণ প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে যে সব পদক্ষেপ নিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করতে আরও কিছু সময় আমাদের প্রয়োজন। আর এ সময় দিতে পারে দেশের জনগণ। জনগণ ভোট দিলে আমরা লক্ষ্য স্থির করেছি, বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ, সেটি আমরা অবশ্যই গড়ে তুলব। ২০২০-২১ বর্ষকে মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ে তুলবো। আগামী ১০০ বছরে বাংলাদেশ কেমন হবে, সেজন্যও ডেল্টা প্লান-২১০০ ঘোষণা করেছি। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশকে স্বাধীন করেছি। তাই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

বিবি/জেজে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

উলাশী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বােধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আবার আসিব ফিরে এই সংসদে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৯:২৭:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা জীবনানন্দ দাশের কবিতা আবৃত্তি করে বলেছেন, ‘আবার আসিব ফিরে ধান সিঁড়িটির তীরে, এই বাংলায়। আবার আসিবো ফিরে এই সংসদে।’

দেশবাসীর কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে তিনি বলেন, আপনারা আরেকটিবার নৌকায় ভোট দিন, আরেকটিবার দেশসেবার সুযোগ দিন, ইনশাআল্লাহ এই বাংলাদেশ আর পিছিয়ে থাকবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে অদম্য গতিতে, এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে।

সোমবার রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাপনী অধিবেশন সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল। অধিবেশনে বিরোধী দলের নেতাও সমাপনী বক্তব্য দেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘ছাড়পত্র’ কবিতাটির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সুকান্তের ভাষায় বলবো- ’চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি- নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’

এর আগে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের অদম্য অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। সারাদেশে যে উন্নয়নের ছোঁয়া বাংলাদেশ পেয়েছে, তাতে আমি বিশ্বাস করি- বাংলাদেশের মানুষ নিশ্চয়ই আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে। জনগণের কাছে আমার আবেদন, আমরা যে মেগা প্রজেক্ট (প্রকল্প) গ্রহণ করেছি, তা সমাপ্ত করার জন্য আমাদের আরও কিছু সময় প্রয়োজন। আর সেই সুযোগটি দিতে পারে একমাত্র দেশের জনগণ। আমি বিশ্বাস করি, দেশের মানুষ নিশ্চয়ই সেই সুযোগ আমাদের করে দেবেন। বাংলাদেশের মানুষ সেই সুযোগটি যদি দেয়, ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত করার যে কাজে আমরা হাত দিয়েছি, সেটা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে পারব।

এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহ না হয়, এটাই হচ্ছে সংসদের শেষ অধিবেশন।

বিরোধী দলের দাবির জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সারাদেশে প্রাণচাঞ্চল্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় সেজন্য ব্যাংক, বীমা, বেসরকারি টেলিভিশনসহ সবকিছু বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যত কী হবে, জীবনমান কেমন হবে, কেমন বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই, সেটাই একমাত্র চিন্তা। টানা ১০ বছরে আমাদের শাসনমালে তরুণ প্রজন্মের সুন্দর জীবন দিতে প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছি। আজকে আমরা নিজস্ব বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৫ কোটি সিম ব্যবহার হচ্ছে। এতো সিম ব্যবহার পৃথিবীর কোনো দেশে নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, আমরা তাদের মর্যাদা রক্ষা করেছি। ২০২১ সালের মধ্যে সুনির্দিষ্ট টার্গেট করেছি শুধু আইসিটি খাত থেকেই ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করবো। ইন্টারনেট ব্যবহারে বিশ্বব্যাংকের মতে বাংলাদেশ হচ্ছে এখন দ্বিতীয়। দেশের ৬ লাখেরও বেশি তরুণ-তরুণী দেশে ঘরে বসেই আউটসোর্সিয়ের মাধ্যমে বিদেশ থেকে অর্থ উপার্জন করছে। মোবাইল ব্যাংকিংও যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মোবাইল ব্যাংকে প্রতিদিন এক হাজার কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে, এটাই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। কোরবানির গরুও এখন অনলাইনে বিক্রি হয়। সাড়ে সাত হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব গড়ে তুলেছি। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আইটি খাতে বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য। ২০২১ সাল নাগাদ ১ হাজার ১৮৭টি ই-সেবা চালু করা হবে। সাইবার ঝুঁকি থেকে দেশকে রক্ষায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করেছি, যারা শুধু ক্রাইম করবে তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার হবে এ আইন, অন্যদের চিন্তা করার কোনো কারণ নেই।

দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের কাছে আহ্বান, মেগা প্রকল্প নিয়েছি, তরুণ প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে যে সব পদক্ষেপ নিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করতে আরও কিছু সময় আমাদের প্রয়োজন। আর এ সময় দিতে পারে দেশের জনগণ। জনগণ ভোট দিলে আমরা লক্ষ্য স্থির করেছি, বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ, সেটি আমরা অবশ্যই গড়ে তুলব। ২০২০-২১ বর্ষকে মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ে তুলবো। আগামী ১০০ বছরে বাংলাদেশ কেমন হবে, সেজন্যও ডেল্টা প্লান-২১০০ ঘোষণা করেছি। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশকে স্বাধীন করেছি। তাই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

বিবি/জেজে