০২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ধনিয়া পাতায় মাথায় হাত

ন্যায্য মূল্য না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন রাজবাড়ীর ধনিয়া পাতা চাষি ও ব্যবসায়ীরা। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করে এবার ধনিয়া পাতার ব্যাপারীরা আগেই পুরো খেত কিনে নেন। তারপর খেত থেকে তুলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানি করছেন। কিন্তু সেখানেই ঘটেছে বিপত্তি। গন্তব্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার পর দাম না পেয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে।

এমনকি অনেক চাষি এখন বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে খেত পরিষ্কার করছেন ধনিয়া পাতার মধ্যে থাকা মরিচ গাছ ভালো রাখার জন্য। রাজবাড়ী গোয়ালন্দ উপজেলায় ধনিয়া পাতার আড়তে প্রতি মণ পাতা ১শ থেকে ৩শ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি করতে দেখা গেছে।

জেলা কৃষি সস্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এখন পর্যন্ত রাজবাড়ীতে ধনিয়া আবাদ হয়েছে ১৬০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৮০, গোয়ালন্দে ৫০, কালুখালীতে ৫, পাংশায় ১০ ও বালিয়াকান্দিতে ১৫ হেক্টর জমিতে ধনিয়া পাতা ও পরবর্তীতে ধনিয়া বীজ ও মসলা হিসেবে আবাদ হয়েছে।

চাষিরা জানান, তাদের এক বিঘা জমির খেত প্রস্তুত থেকে শুরু করে সার, বীজ, কিটনাশকসহ পাতা তোলা পর্যন্ত খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে দাম একটু ভালো পেলেও এখন বিক্রি করছেন ২ থেকে ৩শ টাকা মণ। অনেক সময় বিক্রি না করতে পেরে ফেলে রেখেই চলে আসছেন।

এর উপর আবার ধনিয়া পাতার খেতের মধ্যে মরিচের চারা থাকায় পাতা তুলতে নারীদের কেজি প্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা করে দিতে হচ্ছে। প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৫ মণ ধনিয়া পাতা হয়।

ধনিয়া পাতার ব্যাপারীরা জানান, গত বছর ধনিয়া পাতার দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর তারা চাষিদের থেকে বিঘা হিসাব করে মৌসুম শুরুর আগেই পুরো খেত কিনেছেন ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। মৌসুমের শুরুতে ২ হাজার থেকে ২৫শ টাকা মণ বিক্রি করলেও এখন ১শ থেকে ৩শ টাকা মণ কিনছেন।

ছোট একটি ট্রাকে করে ঢাকায় নিতে গেলে খরচ হয় আরও ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এবার ধনিয়া পাতা ব্যবসায় তাদের সবারই লোকসান হয়েছে।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সস্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুর রহমান জানান, রাজবাড়ী কৃষিতে একটি উন্নত জেলা। এখানে রবি মৌসুমে নানা ধরনের ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। এর মধ্যে ধনিয়া একটি ব্যাতিক্রমী ফসল। প্রথম দিকে যে ধনিয়া আবাদ হয় সেটা পাতা হিসেবেই ব্যাবহার হয়ে থাকে। এ বছর ব্যাপক হারে চাষ ও বাজারে সরবরাহ থাকায় এর দামও কম।

বিবি/রেআ

ট্যাগ :

১২ দফা অঙ্গীকারে ‘আগামী ভালুকা’র রূপরেখা দিলেন ডা. জাহিদুল ইসলাম

ধনিয়া পাতায় মাথায় হাত

প্রকাশিত : ১২:১০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮

ন্যায্য মূল্য না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন রাজবাড়ীর ধনিয়া পাতা চাষি ও ব্যবসায়ীরা। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করে এবার ধনিয়া পাতার ব্যাপারীরা আগেই পুরো খেত কিনে নেন। তারপর খেত থেকে তুলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানি করছেন। কিন্তু সেখানেই ঘটেছে বিপত্তি। গন্তব্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার পর দাম না পেয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে।

এমনকি অনেক চাষি এখন বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে খেত পরিষ্কার করছেন ধনিয়া পাতার মধ্যে থাকা মরিচ গাছ ভালো রাখার জন্য। রাজবাড়ী গোয়ালন্দ উপজেলায় ধনিয়া পাতার আড়তে প্রতি মণ পাতা ১শ থেকে ৩শ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি করতে দেখা গেছে।

জেলা কৃষি সস্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এখন পর্যন্ত রাজবাড়ীতে ধনিয়া আবাদ হয়েছে ১৬০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৮০, গোয়ালন্দে ৫০, কালুখালীতে ৫, পাংশায় ১০ ও বালিয়াকান্দিতে ১৫ হেক্টর জমিতে ধনিয়া পাতা ও পরবর্তীতে ধনিয়া বীজ ও মসলা হিসেবে আবাদ হয়েছে।

চাষিরা জানান, তাদের এক বিঘা জমির খেত প্রস্তুত থেকে শুরু করে সার, বীজ, কিটনাশকসহ পাতা তোলা পর্যন্ত খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে দাম একটু ভালো পেলেও এখন বিক্রি করছেন ২ থেকে ৩শ টাকা মণ। অনেক সময় বিক্রি না করতে পেরে ফেলে রেখেই চলে আসছেন।

এর উপর আবার ধনিয়া পাতার খেতের মধ্যে মরিচের চারা থাকায় পাতা তুলতে নারীদের কেজি প্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা করে দিতে হচ্ছে। প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৫ মণ ধনিয়া পাতা হয়।

ধনিয়া পাতার ব্যাপারীরা জানান, গত বছর ধনিয়া পাতার দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর তারা চাষিদের থেকে বিঘা হিসাব করে মৌসুম শুরুর আগেই পুরো খেত কিনেছেন ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। মৌসুমের শুরুতে ২ হাজার থেকে ২৫শ টাকা মণ বিক্রি করলেও এখন ১শ থেকে ৩শ টাকা মণ কিনছেন।

ছোট একটি ট্রাকে করে ঢাকায় নিতে গেলে খরচ হয় আরও ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এবার ধনিয়া পাতা ব্যবসায় তাদের সবারই লোকসান হয়েছে।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সস্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুর রহমান জানান, রাজবাড়ী কৃষিতে একটি উন্নত জেলা। এখানে রবি মৌসুমে নানা ধরনের ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। এর মধ্যে ধনিয়া একটি ব্যাতিক্রমী ফসল। প্রথম দিকে যে ধনিয়া আবাদ হয় সেটা পাতা হিসেবেই ব্যাবহার হয়ে থাকে। এ বছর ব্যাপক হারে চাষ ও বাজারে সরবরাহ থাকায় এর দামও কম।

বিবি/রেআ