০৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দক্ষ ব্যবস্থাপনায় ড্রেজিংয়ে নতুন দৃষ্টান্ত: ব্যয় কমিয়ে নাব্যতা নিশ্চিত করছে চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) দক্ষ ব্যবস্থাপনা, দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ড্রেজিং কার্যক্রমে এসেছে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে শুরু করে বন্দর সীমানাভুক্ত প্রধান জেটি, কালুরঘাট পর্যন্ত নেভিগেশনাল চ্যানেলসহ বন্দর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেলে নাব্যতা রক্ষায় এখন একটি সাশ্রয়ী, কার্যকর ও টেকসই ড্রেজিং মডেল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

চবকের হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ করা হয়। জরিপ তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করায় অপ্রয়োজনীয় কাজ ও অতিরিক্ত ব্যয়ের সুযোগ কমে এসেছে। এর ফলে অতীতের তুলনায় ড্রেজিং খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, যা সংস্থার আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত ড্রেজিং কার্যক্রমে বর্তমানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে দক্ষ ঠিকাদার নিয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেজিং কাজকে ছোট ছোট পরিকল্পিত অংশে ভাগ করে প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়ায় ঠিকাদারদের দায়বদ্ধতা বহুগুণে বেড়েছে।

বাস্তবসম্মত ব্যয় নির্ধারণ, আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা এবং নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়নের ফলে অতীতে ড্রেজিং খাতে যে অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল, তা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ড্রেজিং কার্যক্রমের সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং এবং কঠোর প্রশাসনিক তদারকি। চবকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ড্রেজিংয়ের প্রকৃত পরিমাণ ও কাজের মান যাচাই করা হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

এই ব্যবস্থাপনার ফলে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চ্যানেলগুলোতে সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় নাব্যতা বজায় থাকছে। এর সুফল হিসেবে বড় আকারের বাণিজ্যিক জাহাজ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারছে।

নাব্যতা নিশ্চিত হওয়ায় বন্দরের পণ্য খালাস ও হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌ-রুটে চট্টগ্রাম বন্দরের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করবে।

ড্রেজিং খাতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ এখন বন্দরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে। এর মাধ্যমে শুধু বন্দরের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতাই নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও টেকসই উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বারকে বিশ্বমানের আধুনিক বন্দরে রূপান্তরের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ডিএস./

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

দক্ষ ব্যবস্থাপনায় ড্রেজিংয়ে নতুন দৃষ্টান্ত: ব্যয় কমিয়ে নাব্যতা নিশ্চিত করছে চট্টগ্রাম বন্দর

প্রকাশিত : ০৪:১২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) দক্ষ ব্যবস্থাপনা, দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ড্রেজিং কার্যক্রমে এসেছে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে শুরু করে বন্দর সীমানাভুক্ত প্রধান জেটি, কালুরঘাট পর্যন্ত নেভিগেশনাল চ্যানেলসহ বন্দর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেলে নাব্যতা রক্ষায় এখন একটি সাশ্রয়ী, কার্যকর ও টেকসই ড্রেজিং মডেল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

চবকের হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ করা হয়। জরিপ তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করায় অপ্রয়োজনীয় কাজ ও অতিরিক্ত ব্যয়ের সুযোগ কমে এসেছে। এর ফলে অতীতের তুলনায় ড্রেজিং খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, যা সংস্থার আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত ড্রেজিং কার্যক্রমে বর্তমানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে দক্ষ ঠিকাদার নিয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেজিং কাজকে ছোট ছোট পরিকল্পিত অংশে ভাগ করে প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়ায় ঠিকাদারদের দায়বদ্ধতা বহুগুণে বেড়েছে।

বাস্তবসম্মত ব্যয় নির্ধারণ, আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা এবং নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়নের ফলে অতীতে ড্রেজিং খাতে যে অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল, তা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ড্রেজিং কার্যক্রমের সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং এবং কঠোর প্রশাসনিক তদারকি। চবকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ড্রেজিংয়ের প্রকৃত পরিমাণ ও কাজের মান যাচাই করা হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

এই ব্যবস্থাপনার ফলে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চ্যানেলগুলোতে সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় নাব্যতা বজায় থাকছে। এর সুফল হিসেবে বড় আকারের বাণিজ্যিক জাহাজ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারছে।

নাব্যতা নিশ্চিত হওয়ায় বন্দরের পণ্য খালাস ও হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌ-রুটে চট্টগ্রাম বন্দরের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করবে।

ড্রেজিং খাতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ এখন বন্দরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে। এর মাধ্যমে শুধু বন্দরের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতাই নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও টেকসই উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বারকে বিশ্বমানের আধুনিক বন্দরে রূপান্তরের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ডিএস./