চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ধান কাটার পর ওই জমিতে লাউ আবাদে বাড়তি আয় করছেন কৃষকরা। এ বছর উপজেলায় লাউয়ের আবাদ হয়েছে অন্তত ৮১ হেক্টর জমিতে। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে মিলছে আশানুরূপ দাম। ফলে ধীরে ধীরে এখানকার কৃষকদের মধ্যে সবজিটি আবাদে আগ্রহ বাড়ছে।
মিরসরাইয়ের ১৬টি ইউনিয়ন দুটি পৌরসভার পাহাড়ি ও সমতল ভূমিতে এবার লাউ চাষ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর লাউ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯০ হেক্টর। তবে এখনো লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। সবচেয়ে বেশি লাউ চাষ হয়েছে উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে- নয় হেক্টর জমিতে।
কৃষকরা জানান, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে মিরসরাইয়ের লাউ চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। একসময় যে জমিতে শুধু ধান উৎপাদন হতো, সেখানে এখন তারা ধান কাটার পর লাউ চাষ করছেন। এর মধ্য দিয়ে তাদের বাড়তি আয়ের সুয়োগ সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, কৃষকরা মাচা থেকে লাউ কেটে বাজারে নেয়ার জন্য সাজিয়ে রেখেছেন। এ সময় কথা হলে হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের লাউচাষী তাপস দে জানান, এ বছর তিনি পাঁচ একর জমিতে লাউসহ মিশ্র সবজি চাষ করেছেন। তবে এর মধ্যে লাউয়ের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। দামও পাচ্ছেন ভালো।
সাহেরখালী ইউনিয়নের দক্ষিন মঘাদিয়া এক সময়ের দরিদ্র কৃষক জয়নাল আবেদিন। তিনি লাউ চাষে সফল হবার পর অনেকেই উৎসাহিত হচ্ছেন এখন লাউ চাষে। তার পরিশ্রম নিজেকে পরিণত করেছেনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্তে । কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে বর্তমানে তিনি প্রায় ৩০ একর জমিতে পরামর্শে লাউের চারা রোপন করেন। লাউচাষি জয়নালকে অনুরকরণ করছে এখন পাশ্ববর্তি এলাকার অগনিত কৃষক।
লাউ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে দুর্গাপুর এলাকার পাড়া কৃষক জসিম উদ্দিন ২০ শতাংশ জমিতে ২০০টি লাউ চারা রোপন করেন। মোট ক্ষেতের পেছনে ৬ হাজার টাকার মত খরচ করেন জসিম উদ্দিন। রোপনের ৩০দিন পরে ব্যয় বাদ দিয়েও লাউ বিক্রির ১৪ হাজার টাকা ঘরে আয়ের পুঁজি জমা করেন। পরে প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার টাকার মত ব্যয় করে লাউ বিক্রি করে আয় করেন ৭ হাজার টাকার মত।
কৃষকরা আরো জানান, লাউ চাষে খরচ খুব বেশি হয় না। তাছাড়া বাজারেও এর বেশ চাহিদা রয়েছে। উপজেলার করেরহাট, হিঙ্গুলী, দুর্গাপুর, মিরসরাই সদর, খৈয়াছরা ও ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে লাউ চাষ করে অনেকেই স্বচ্ছল হয়েছেন। এখন আকারভেদে প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকায়।
মিরসরাই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুল আলম বলেন, লাভজনক হওয়ায় এ উপজেলায় দিন দিন লাউ চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে এ বিষয়ে কৃষকদের উৎসাহের পাশাপাশি সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, চলতি বছর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ২শ’ একর জমিতে লাউ চাষ করা হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯০ হেক্টর। কৃষকের যে কোনো সমস্যা সমাধানে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে আসছে। মিরসরাইয়ে লাউ চাষে জয়নালের মত অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হয়েছে। ধীরে ধীরে এই উপজেলায় লাউ চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
বিবি / ইএম





















