০৭:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত। যদি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়, তাহলে সংঘাতে না গিয়ে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

বুধবার (১৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রেজা নাওফর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে শেখ হাসিনা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে অভিন্ন সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব ও কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।

ইরানের জনগণকে সাহসী হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইরানের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এই উম্মাহর একসঙ্গে থাকা উচিত।

তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সৃষ্ট সংঘাতে ওই দেশগুলোর জনগণকেই ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এ জন্য মুসলিম উম্মাহর মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে দুদেশের মধ্যে অভিন্ন সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।’

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের অসাধারণ দিকগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের জীবনমানের উন্নয়নে তাঁর সরকার কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশে নামিয়ে এনেছি এবং আমাদের উন্নয়ন নীতিমালা হচ্ছে গ্রামকেন্দ্রিক।’

বাংলাদেশে বিরাজমান ধর্মীয় সম্প্রীতির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে সব ধর্মের মানুষ একত্রে যেকোনো ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করে।’

তিনি বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টের প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালীন তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূতকে।

প্রধানমন্ত্রী ২০১২ সালে ষষ্ঠ ন্যাম সম্মেলন এবং ১৯৯৭ সালে ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিতে তাঁর ইরান সফরের কথা স্মরণ করেন।

এদিকে সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের বিপুল বিজয়ের প্রশংসা করেন নবনিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত।

শেখ হাসিনাকে জ্ঞানী এবং দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত নাফর বলেন, আপনার প্রতি ইরানের জনগণের ভালোবাসা রয়েছে।

স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান নাফর।

বাংলাদেশ এবং ইরানের মধ্য চমৎকার ধর্মীয় ও সংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ধর্মীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে আমাদের সর্ম্পক দারুণ, সাংস্কৃতিক সম্পর্কও চমৎকার, রাজনৈতিক সম্পর্কও ভালো। তবে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বাড়ানো প্রয়োজন। আশা করছি আগামী দিনগুলো এটি আরো জোরালো হবে।

অবরোধ সত্ত্বেও ইরান এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান রেজা নাফর।

আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে ইরান কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধবাজ দেশ নই। আমরা উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক চাই।

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিলে ইরান স্বাগত জানাবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, সচিব সাজ্জাদুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বাসস।

বিবি/এসআর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামে পরিবর্তনের রূপকার: ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল আজিজকে ঘিরে গণজোয়ার

মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১০:১৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৯

মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত। যদি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়, তাহলে সংঘাতে না গিয়ে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

বুধবার (১৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ রেজা নাওফর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে শেখ হাসিনা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে অভিন্ন সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব ও কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।

ইরানের জনগণকে সাহসী হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইরানের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এই উম্মাহর একসঙ্গে থাকা উচিত।

তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সৃষ্ট সংঘাতে ওই দেশগুলোর জনগণকেই ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এ জন্য মুসলিম উম্মাহর মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে দুদেশের মধ্যে অভিন্ন সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।’

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের অসাধারণ দিকগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের জীবনমানের উন্নয়নে তাঁর সরকার কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশে নামিয়ে এনেছি এবং আমাদের উন্নয়ন নীতিমালা হচ্ছে গ্রামকেন্দ্রিক।’

বাংলাদেশে বিরাজমান ধর্মীয় সম্প্রীতির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে সব ধর্মের মানুষ একত্রে যেকোনো ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করে।’

তিনি বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টের প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালীন তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূতকে।

প্রধানমন্ত্রী ২০১২ সালে ষষ্ঠ ন্যাম সম্মেলন এবং ১৯৯৭ সালে ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিতে তাঁর ইরান সফরের কথা স্মরণ করেন।

এদিকে সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের বিপুল বিজয়ের প্রশংসা করেন নবনিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত।

শেখ হাসিনাকে জ্ঞানী এবং দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত নাফর বলেন, আপনার প্রতি ইরানের জনগণের ভালোবাসা রয়েছে।

স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান নাফর।

বাংলাদেশ এবং ইরানের মধ্য চমৎকার ধর্মীয় ও সংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ধর্মীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে আমাদের সর্ম্পক দারুণ, সাংস্কৃতিক সম্পর্কও চমৎকার, রাজনৈতিক সম্পর্কও ভালো। তবে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বাড়ানো প্রয়োজন। আশা করছি আগামী দিনগুলো এটি আরো জোরালো হবে।

অবরোধ সত্ত্বেও ইরান এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান রেজা নাফর।

আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে ইরান কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধবাজ দেশ নই। আমরা উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক চাই।

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিলে ইরান স্বাগত জানাবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, সচিব সাজ্জাদুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বাসস।

বিবি/এসআর