সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হতে চায় মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী অ্যাডভোকেট মাহফুজা বেগম সাঈদা। তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন।
অ্যাডভোকেট মাহফুজা বেগম সাঈদা বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছা সেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি’র শিশু ও পরিবার কল্যাণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ (ঢাকা বার)-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতি’র সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক, সিলেট বিভাগীয় আইনজীবী কল্যান পরিষদ এর সাবেক সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
বানিয়াচং উপজেলার খাগাউড়া ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামে জন্ম নেয়া সাঈদা পারিবারিক ভাবে আওয়ামী রাজীনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার পিতা নজির উদ্দিন চৌধুরী সুনামগঞ্জ কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ছিলেন। তিনি হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজ থেকে বি.কম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.কম এবং ঢাকা ল’ কলেজ থেকে এল এলবি পাশ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইনপেশায় নিযুক্ত হন।

একজন সক্রিয় সমাজ সেবক ও আওয়ামী রাজনীতির সক্রিয় কর্মী হিসেবেই এলাকায় তিনি সুপরিচিত। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে রয়েছে তার ব্যাপক অংশগ্রহন। দীর্ঘদিন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় পরিচিতির পাশাপাশি এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। ওই নেত্রী এলাকার গন মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হয়েছেন কয়েকবার। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশায় সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং- আজমিরীগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন এবং নির্বাচনে অংশ গ্রহনের জন্য তিনি দলীয় মনোনয়ন পত্রও সংগ্রহ করেছিলেন।
এর আগে তিনি ২০০৯ ২০১৪ সালেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোয়ন চেয়েছিলেন। পরীবর্তিতে তিনি মনোনয়ন না পেলে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। ২০১৪ সালে দল ক্ষমতায় আসার পর সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামীলীগের মনোয়ন পত্র দাখিল করেন তিনি। কিন্তু দল থাকে মনোনয়ন না দিলে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখে দলের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করেন তিনি। যার ফলে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে সিলেট বিভাগের দায়িত্বে কাজ করেন। ’৭৫ পরবর্তী দুঃসময়ে ১৯৭৯ সালে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ও ত্যাগের মহিমায় অনুপ্রানিত হয়ে ছাত্রলীগে যোগদান করেন তিনি। তাঁর বড় ভাই হাবিবুর রহমান চৌধুরী সুনামগঞ্জ মহকুমা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৯৭৩-১৯৭৪ সালে সুনামগঞ্জ কলেজ শাখায় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।

তার স্বামী আবু মোঃ আমির হোসেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর একজন আইনজীবি, ১৯৭৯-১৯৮০ সালে ছাত্রলীগ (জালাল-জাহাঙ্গীর) মনোনীত ও নির্বাচিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এডভোকেট সাঈদা ১৯৯৭ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের হত্যা মামলা পরিচালনায় আওয়ামীলীগ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত প্রসিকিশন পক্ষের আইনজীবী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে (২০০১-২০০৭) তৎকালীন বিএনপি সরকার বিরোধী প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামে ও সক্রিয় অংশগ্রহন করেন।
ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কালোপতাকা প্রদর্শন করায় বিএনপি ক্যাডার সগীর বাহিনীর দ্বারা শারীরিক ভাবে নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত হন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নেতা-কর্মী সহ জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে আইনী লড়াইয়ে সক্রিয় অংশগ্রহন ছিল তার। সংসদ ভবনে স্থাপিত বিশেষ আদালতে জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় তিনি শেখ হাসিনার পক্ষে অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ঢাকা জজ আদালতে ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত এপিপি এবং ২০০৯-২০১৭ সাল পর্যন্ত অতিরিক্ত পিপি হিসাবে দক্ষতার সাথে মামলা পরিচালনা করেন।
আওয়ামীলীগের একজন ত্যাগী ও পারিশ্রমিক কর্মী হিসেবে অ্যাডভোকেট মাহফুজা বেগম সাঈদা সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে যাতে ওই আসনে এমপি মনোনীত হন সেই প্রত্যাশায় এখন দিন গুনছেন হবিগঞ্জবাসী। আইনজীবিদের প্রাণের দাবী সাঈদা এবার সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হলে দেশের সাধারন মানুষের কল্যানে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। তার যোগ্যতা ও মেধাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে হবিগঞ্জ-সিলেট বাসীর উন্নয়নে তিনি সর্বাত্তক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে মনে করেন সাধারণ জনগন।





















