ঢাকা সন্ধ্যা ৭:৪৯, বৃহস্পতিবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে অবৈধ প্রভাব বিস্তার করলে ব্যবস্থা: ইসি

আসন্ন রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে কোনো দল কিংবা দলের প্রার্থীর পক্ষে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অবৈধ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালালে তাদের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেইসঙ্গে নির্বাচনকে সামনে রেখে কালো টাকার ব্যবহারের প্রচেষ্টাকারীর বিরুদ্ধেও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কমিশন। নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা ইসির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন।

ইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে অর্ধশত ম্যাজিস্ট্রেটকে মাঠে নামানো হচ্ছে। এদের মধ্যে অন্তত ৪০ জনের মত থাকছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন প্রায় ১০ জন। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন কঠোরভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছে। আচরণবিধির কোনোরূপ লঙ্ঘন বা ব্যত্যয় দেখা গেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে তা কঠোর ও আপসহীনভাবে মোকাবিলা করার জন্য এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্ম সচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ আহাম্মদ খান এবিষয়ে বলেন, রংপুর সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে ৬ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ভোটের আগে আরও ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নামবেন। তবে মোট কতজনকে নিয়োগ দেয়া হবে সে বিষয়টি কমিশন বৈঠকে নির্ধারিত হবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, রসিক নির্বাচনে ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ড রয়েছে। আর সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে ১১টি। এক্ষেত্রে প্রতি ওয়ার্ডের জন্য ১ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া ১০ জনের মতো বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নামানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত অর্থাৎ ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কেউ আগাম প্রচারকাজ চালাচ্ছেন কিনা বা কোনো অনিয়ম করছেন কিনা, তা-ও পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। অবশিষ্টদের মধ্যে কিছু নিয়োগ দেয়া হবে প্রতীক বরাদ্দের সময় অর্থাৎ ৪ ডিসেম্বর থেকে। আর নির্বাচনের তিনদিন আগে থেকে মাঠে নামবেন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, সম্ভাব্য প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রচারকাজ চালাতে পারবেন না। একইসঙ্গে অন্য কাউকে মনোনয়নপত্র দাখিলে বাধা বা কোনো ভয়ভীতিও দেখাতে পারবেন না। এসব ছাড়াও নির্বাচনকে সামনে রেখে কেউ কালো টাকা ছড়াতে বা অবৈধ প্রভাব বিস্তার করতে চাইলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ও তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। আবার আইনে নির্ধারিত প্রচারণার সময়ে কেউ যাতে বিধি বিধান লঙ্ঘন না করে, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করবেন তারা। কেউ নির্বাচনী আইন বা বিধি লঙ্ঘন করলে তার বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও জরিমানা করবেন তারা।

উল্লেখ্য, রসিক নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২২ নভেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবেন ২৫ ও ২৬ নভেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় ২৭-২৯ নভেম্বর, আপিল নিষ্পত্তি ৩০ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর। এছাড়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ৪ ডিসেম্বর এবং ভোটগ্রহণ ২১ ডিসেম্বর।

এ বিভাগের আরও সংবাদ