০৩:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

স্বাস্থ্য সেবাবঞ্চিত রাঙামাটি সদরের কিল্লামুড়ার মানুষ

বাতির নীচে অন্ধকারে নিমজ্জিত রাঙামাটি সদর উপজেলার বালুখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত পাহাড়িপল্লী কিল্লামুড়া। এলাকাটিতে পাশাপাশি তিনটি পাড়ায় প্রায় ৪-৫শ’ পরবিারের মধ্যে বসবাস অন্তত: দুই হাজার মানুষজনের। সরকারি সুযোগ-সুবিধার সবক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার এসব লোকজন। সবচেয়ে বঞ্চিত মানবিক সহায়তা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা থেকে। তাদের দাবি, অন্য সুবিধা না হলেও স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার নিশ্চিত করে দেয়ার।

জেলা সদরের পিছিয়ে পড়া ও বিচ্ছিন্ন ওই এলাকার লোকজনের জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম একমাত্র নৌপথে। জেলা সদর হতে প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার দূরত্বে কাপ্তাই হ্রদপরিবেষ্টিত কিল্লামুড়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছেন, ৬-৭ সম্প্রদায়ের লোকজন। জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক পথে যোগাযোগের কোনো সুযোগ নেই। কিল্লামুড়া এলাকায় পাশাপাশি অবস্থিত তিনটি পাড়া হলÑ কিল্লামুড়া, কার্বারিপাড়া ও মধ্যমপাড়া। এ তিন পাড়ায় বসবাসকারীদের মধ্যে রয়েছেন, ত্রিপুরা, চাকমা, বড়–য়া, হিন্দু ও মুসলিম বাঙালির সম্প্রদায়ভূক্ত লোকজন। তারা সবাই যুগযুগ ধরে বসবাস করছেন, সম্প্রীতির বন্ধনে।
স্থানীয়রা জানান, তাদের বড় সমস্যা হল- স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাজনিত সমস্যা। তাদের দাবি, সেখানে একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিক। দীর্ঘদিন ধরে দাবিটি জানিয়ে এলেও সরকার থেকে কোনো সাড়া নেই। জরুরি সেবা না থাকায় সেখানে প্রতি বছর প্রসূতি প্রসবকালে ২-১ বাচ্চা মারা যায়। তাই তাদের মানবিক দাবি, প্রসূতি ও প্রসব সেবা নিশ্চিত করার জন্য একটি সরকারি ক্লিনিক। তাতে এলাকার লোকজনের স্বাস্থ্যসেবার সমস্যা পরিত্রাণ মিলবে।

১১৬ নম্বর রাঙামাটি মৌজার নারী  নিরমলা চাকমা ও বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বিপ্লব ত্রিপুরা বলেন, আমরা বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে খুব মানবেতর জীবনযাপন করছি। ২-৩ মাস পরপর সদর উপজেলা হতে এক স্বাস্থ্যকর্মী আসেন। এ ছাড়া আর দেখা মেলে না। এভাবে যুগযুগ ধরে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা থেকে কিল্লামুড়ার মানুষ। এখানে সরকার স্থায়ীভাবে একটি স্বাস্থ্যক্লিনিক স্থাপন করে দিলে উপকৃত হতো এখানকার প্রায় দুই হাজার মানুষ।
এ দুই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সঙ্কট নিয়ে জেলা পরিষদসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে বহুবার জানিয়ে আসছি। কিন্তু এ নিয়ে কোনো কিছুর উপায় করে দেয়া হচ্ছে না। জরুরি প্রসূতিদের নিয়ে চলে যেতে হয়, জেলা সদরে। তা ছাড়া যেতে হয় নৌপথে। এতে জরুরি প্রসূতিরা পড়েন চরম ঝুঁকির মধ্যে। দূর্ভোগে পড়েন তাদের স্বজনরা।
স্থানীয় বাসিন্দা রীনা ত্রিপুরা বলেন, ৩-৪ বছর আগে চিকিৎসার অভাবে তার পরপর দুই নবজাতক শিশু মারা গেছে। এ ছাড়াও প্রসবজনিত কারণে বেশ কয়েক আত্মীয়র শিশু মারা যায় বলে জানান তিনি।

একই সমস্যার কথা জানালেন, অনামিকা ত্রিপুরা, পাপড়ি ত্রিপুরা ও রুনা ত্রিপুরা। তারা বলেন, আমরা অন্য সমস্যার চেয়ে আমাদের বড় সমস্যা হল- নারী, শিশু ও নবজাতকের চিকিৎসাসেবা। তাই আমাদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একটি স্বাস্থ্যক্লিনিক খুবই জরুরি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জেলা সির্ভিল সার্জন ডাঃ শহীদ তালুকদার বলেন, ওই এলাকাটি আসলেই দুর্গম। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা তো সেখানে নিয়মিত গিয়ে সেবা দেয়ার কথা। ত ছাড়াও বর্তমানে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে খুব জনবল সঙ্কট। আশা করছি, অচিরেই এ সঙ্কট নিরসন হয়ে যাবে। আর কিল্লামুড়ায় স্থায়ীভাবে একটি স্বাস্থ্যক্লিনিক দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

বিবি/ ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

স্বাস্থ্য সেবাবঞ্চিত রাঙামাটি সদরের কিল্লামুড়ার মানুষ

প্রকাশিত : ০৩:৩৯:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৯

বাতির নীচে অন্ধকারে নিমজ্জিত রাঙামাটি সদর উপজেলার বালুখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত পাহাড়িপল্লী কিল্লামুড়া। এলাকাটিতে পাশাপাশি তিনটি পাড়ায় প্রায় ৪-৫শ’ পরবিারের মধ্যে বসবাস অন্তত: দুই হাজার মানুষজনের। সরকারি সুযোগ-সুবিধার সবক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার এসব লোকজন। সবচেয়ে বঞ্চিত মানবিক সহায়তা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা থেকে। তাদের দাবি, অন্য সুবিধা না হলেও স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার নিশ্চিত করে দেয়ার।

জেলা সদরের পিছিয়ে পড়া ও বিচ্ছিন্ন ওই এলাকার লোকজনের জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম একমাত্র নৌপথে। জেলা সদর হতে প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার দূরত্বে কাপ্তাই হ্রদপরিবেষ্টিত কিল্লামুড়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছেন, ৬-৭ সম্প্রদায়ের লোকজন। জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক পথে যোগাযোগের কোনো সুযোগ নেই। কিল্লামুড়া এলাকায় পাশাপাশি অবস্থিত তিনটি পাড়া হলÑ কিল্লামুড়া, কার্বারিপাড়া ও মধ্যমপাড়া। এ তিন পাড়ায় বসবাসকারীদের মধ্যে রয়েছেন, ত্রিপুরা, চাকমা, বড়–য়া, হিন্দু ও মুসলিম বাঙালির সম্প্রদায়ভূক্ত লোকজন। তারা সবাই যুগযুগ ধরে বসবাস করছেন, সম্প্রীতির বন্ধনে।
স্থানীয়রা জানান, তাদের বড় সমস্যা হল- স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাজনিত সমস্যা। তাদের দাবি, সেখানে একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিক। দীর্ঘদিন ধরে দাবিটি জানিয়ে এলেও সরকার থেকে কোনো সাড়া নেই। জরুরি সেবা না থাকায় সেখানে প্রতি বছর প্রসূতি প্রসবকালে ২-১ বাচ্চা মারা যায়। তাই তাদের মানবিক দাবি, প্রসূতি ও প্রসব সেবা নিশ্চিত করার জন্য একটি সরকারি ক্লিনিক। তাতে এলাকার লোকজনের স্বাস্থ্যসেবার সমস্যা পরিত্রাণ মিলবে।

১১৬ নম্বর রাঙামাটি মৌজার নারী  নিরমলা চাকমা ও বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বিপ্লব ত্রিপুরা বলেন, আমরা বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে খুব মানবেতর জীবনযাপন করছি। ২-৩ মাস পরপর সদর উপজেলা হতে এক স্বাস্থ্যকর্মী আসেন। এ ছাড়া আর দেখা মেলে না। এভাবে যুগযুগ ধরে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা থেকে কিল্লামুড়ার মানুষ। এখানে সরকার স্থায়ীভাবে একটি স্বাস্থ্যক্লিনিক স্থাপন করে দিলে উপকৃত হতো এখানকার প্রায় দুই হাজার মানুষ।
এ দুই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সঙ্কট নিয়ে জেলা পরিষদসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে বহুবার জানিয়ে আসছি। কিন্তু এ নিয়ে কোনো কিছুর উপায় করে দেয়া হচ্ছে না। জরুরি প্রসূতিদের নিয়ে চলে যেতে হয়, জেলা সদরে। তা ছাড়া যেতে হয় নৌপথে। এতে জরুরি প্রসূতিরা পড়েন চরম ঝুঁকির মধ্যে। দূর্ভোগে পড়েন তাদের স্বজনরা।
স্থানীয় বাসিন্দা রীনা ত্রিপুরা বলেন, ৩-৪ বছর আগে চিকিৎসার অভাবে তার পরপর দুই নবজাতক শিশু মারা গেছে। এ ছাড়াও প্রসবজনিত কারণে বেশ কয়েক আত্মীয়র শিশু মারা যায় বলে জানান তিনি।

একই সমস্যার কথা জানালেন, অনামিকা ত্রিপুরা, পাপড়ি ত্রিপুরা ও রুনা ত্রিপুরা। তারা বলেন, আমরা অন্য সমস্যার চেয়ে আমাদের বড় সমস্যা হল- নারী, শিশু ও নবজাতকের চিকিৎসাসেবা। তাই আমাদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একটি স্বাস্থ্যক্লিনিক খুবই জরুরি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জেলা সির্ভিল সার্জন ডাঃ শহীদ তালুকদার বলেন, ওই এলাকাটি আসলেই দুর্গম। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা তো সেখানে নিয়মিত গিয়ে সেবা দেয়ার কথা। ত ছাড়াও বর্তমানে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে খুব জনবল সঙ্কট। আশা করছি, অচিরেই এ সঙ্কট নিরসন হয়ে যাবে। আর কিল্লামুড়ায় স্থায়ীভাবে একটি স্বাস্থ্যক্লিনিক দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

বিবি/ ইএম