১০:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

বান্দরবানের লামায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাদাম চাষ

বান্দরবানের লামা উপজেলায় মাতামুহুরী নদীর দু-তীরে এবার বাদামের চাষ । গত বছরের চেয়ে এবার ফলন অনেক বেশি হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। তাই বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে চলা এই নদীর তীরবর্তী কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। তারা এখন বাদাম চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শিগগিরই এই বাদাম তোলা হবে লামা বাজারে। এবার বাদাম বিক্রি করে ভালো লাভের আশা করছেন কৃষকরা।লামা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরে মাতামুহুরীর চরে ১৫০ হেক্টর জমিতে চীনা বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ইতিমধ্যে ১৯০ হেক্টরের অধিক পরিমাণ জমিতে বিভিন্ন চীনা জাতের বাদাম চাষ করা হয়েছে। যা গত বছর থেকে প্রায় ৪০ হেক্টর বেশি।

লামার পাইকারী ব্যবসায়ী মিরাজ সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি মৌসুমে উপজেলার পাইকারী ব্যবসায়ীরা গড়ে প্রায় দেড় হাজার মণ করে বাদাম কিনে থাকেন।

চাষীরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারো লামা কৃষি বিভাগের সহায়তায় বাদামের বীজ পেয়েছেন তারা। ফলে বীজ বোনা থেকে শুরু করে চাষের সমস্ত প্রক্রিয়াই সঠিক সময়ে শেষ করতে পেরেছেন। তাই ফলনও ভালো হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় বাদাম চাষে শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ তুলনামূলকভাবে কম লাগে। তাই বাদাম চাষ করে চাষীরা অধিক লাভবান হয়। প্রতি হেক্টর জমিতে বাদাম চাষে উৎপাদন খরচ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

মোট আয় হয় প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। আর লাভ থাকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা।কৃষকরা জানান, গত বছর বাদাম চাষ করে একর প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা লাভ করছি। লামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তামাকের বিকল্প ফসল হিসেবে চাষীদের বাদাম চাষের পরামর্শ দেয় কৃষি বিভাগ। চরের জমিতে বাদামের ফলন ভালো হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের।চাষীদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোপন কান্তি চৌধুরী এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরে আলম, বলেন,এ’বছর ১৯০ হেক্টরের বেশী জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। নদীর তীর ঘেষা ভূমিতে অল্প খরচে চাষাবাদের বিষয়ে কৃষকদের মাঝে এবার বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। ফলে শাক-সবজি ও বিভিন্ন ফসলের ফলনও ভালো হয়েছে।

বিবি/ ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ছাত্রদলের নতুন কমিটির আলোচনায় বারবার গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আবু হান্নান তালুকদার

বান্দরবানের লামায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাদাম চাষ

প্রকাশিত : ০৩:৪৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৯

বান্দরবানের লামা উপজেলায় মাতামুহুরী নদীর দু-তীরে এবার বাদামের চাষ । গত বছরের চেয়ে এবার ফলন অনেক বেশি হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। তাই বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে চলা এই নদীর তীরবর্তী কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। তারা এখন বাদাম চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শিগগিরই এই বাদাম তোলা হবে লামা বাজারে। এবার বাদাম বিক্রি করে ভালো লাভের আশা করছেন কৃষকরা।লামা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরে মাতামুহুরীর চরে ১৫০ হেক্টর জমিতে চীনা বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ইতিমধ্যে ১৯০ হেক্টরের অধিক পরিমাণ জমিতে বিভিন্ন চীনা জাতের বাদাম চাষ করা হয়েছে। যা গত বছর থেকে প্রায় ৪০ হেক্টর বেশি।

লামার পাইকারী ব্যবসায়ী মিরাজ সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি মৌসুমে উপজেলার পাইকারী ব্যবসায়ীরা গড়ে প্রায় দেড় হাজার মণ করে বাদাম কিনে থাকেন।

চাষীরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারো লামা কৃষি বিভাগের সহায়তায় বাদামের বীজ পেয়েছেন তারা। ফলে বীজ বোনা থেকে শুরু করে চাষের সমস্ত প্রক্রিয়াই সঠিক সময়ে শেষ করতে পেরেছেন। তাই ফলনও ভালো হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় বাদাম চাষে শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ তুলনামূলকভাবে কম লাগে। তাই বাদাম চাষ করে চাষীরা অধিক লাভবান হয়। প্রতি হেক্টর জমিতে বাদাম চাষে উৎপাদন খরচ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

মোট আয় হয় প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। আর লাভ থাকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা।কৃষকরা জানান, গত বছর বাদাম চাষ করে একর প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা লাভ করছি। লামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তামাকের বিকল্প ফসল হিসেবে চাষীদের বাদাম চাষের পরামর্শ দেয় কৃষি বিভাগ। চরের জমিতে বাদামের ফলন ভালো হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের।চাষীদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোপন কান্তি চৌধুরী এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরে আলম, বলেন,এ’বছর ১৯০ হেক্টরের বেশী জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। নদীর তীর ঘেষা ভূমিতে অল্প খরচে চাষাবাদের বিষয়ে কৃষকদের মাঝে এবার বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। ফলে শাক-সবজি ও বিভিন্ন ফসলের ফলনও ভালো হয়েছে।

বিবি/ ইএম