০২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সিলেটে বেড়েছে আত্মহত্যা প্রবণতা

সিলেটে বেড়ে চলেছে আত্মহত্যা প্রবণতা। গত এক বছরে সিলেটে আত্মহত্যা করেছেন মোট ১ শত ৮৪ জন। যাদের বেশির ভাগই তরুন-তরুণী এবং সকলেই শিক্ষত শ্রেণির। মহানগর পুলিশ এবং জেলা পুলিশ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে ২০১৭ সালে আত্মহত্যা করেন মোট ১ শত ৫৪ জন। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮৪ জন।

মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানা এলাকায় ২০১৮ সালে আত্মহত্যা করেছেন মোট ৮১ জন। এর আগে ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিলো ৭০ জন এবং সিলেট জেলা পুলিশের বিভিন্ন থানা এলাকায় ২০১৮ সালে আত্মহত্যা করেছেন ১ শত ৩ জন। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিলো ৮৪ জন। আত্মহত্যার কারণ হিসেবে চারটি বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

মহানগর পুলিশের ২০১৮ সালে কোতোয়ালী থানায় ২৪ জন, লালালাবাদ থানায় ১৯ জন, বিমানবন্দর থানার আওতায় ১৪ জন, দক্ষিণ সুরমা থানার আওতায় ২ জন, শাহপরাণ থানার আওতায় ১৩ জন এবং মোগলাবাজার থানা এলাকার আওতায় ৬ জন আত্মহত্যা করেছেন। এদিকে জেলা পুলিশের থানাভিত্তিক সংখ্যা জানা না গেলেও ফাঁসিতে ঝুলে ৮২ জন, বিষপানে ২০ জন এবং গায়ে আগুন লাগিয়ে ১ জন আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা পুলিশের গণ্মাধ্যম শাখার মুখপাত্র মাহবুবুল আলম।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা বলেন, আত্মহত্যার বিভিন্ন ধরন থাকে। যেমন ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা, বিষপানে আত্মহত্যা, গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যাসহ একাধিক ভাবে আত্মহত্যা করে এসব মানুষ মারা গেছে। আত্মহত্যার এ সংখ্যায় অধিকাংশই পুরুষ। বয়সের হিসেবে আত্মহনন করা এসব মানুষের মধ্যে অধিকাংশেরই বয়স ১৬ থেকে ২৪ এর ভিতরে। তবে খুব কম সংখ্যক মানুষই ২৪ থেকে ৩৫ এর ভিতরে বয়সের। এদের বেশির ভাগই শিক্ষিত শ্রেণির মানুষ বলে জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।

মহানগর পুলিশের এ অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বলেন, আত্মহত্যা করা এসব মানুষের অধিকাংশই পুরুষ এবং শিক্ষিত। যখন আত্মহত্যা হিসেবে সনাক্ত করা হয় তখন এর কিছু কারণও সনাক্ত করা হয়। তিনি বলেন, আত্মহত্যার কারণ হিসেবে সাধারণত, বেকারত্ব, নেশাগ্রস্ততা, পারিবারিক কল, ঋণগ্রস্ততা এবং পরকিয়া এসব কারণই মূলত দায়ী বলে জানান তিনি।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা আরো বলেন, যেসব নারীরা আত্মহত্যা করেন তারা বেশির ভাগই সংসার জীবনে অশান্তি, স্বামির নির্যাতন, স্বামীর সাথে মতের অমিল বা পরকিয়ায় আসক্তততার কারণেই আত্মহত্যা করেন। আবার কেউ কেউ স্বামীর পরকিয়া আসকত্ততার কারণেও অশান্তিতে ভোগে আত্মহত্যা করেন বলে মনে করছেন তিনি।

তবে সিলেট জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখার মুখপাত্র মাহবুবুল আলম বলছেন সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটার কারণেই দিন দিন মানুষ আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকছে। তিনি বলেন, সামাজিক যে মূল্যবোধ তা মানূষকে ভালো মন্দ বুঝতে শিখায়, নিজের প্রতি নিজের মায়া এবং সমাজের প্রতি মানুষের যে দায়বদ্ধতা এবং জীবন চলার প্রতিটি ক্ষেত্রে জামাজিক মূল্যবোধ মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। কিন্তু বর্তমানে এর অভাব দেখা দেয়ায় মানুষ নানা ভাবে নানা অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে এবং মানুষের মাঝে হতাশা কাজ করছে। এজন্যই মূলত দিন দিন আত্মহত্যা বেড়ে চলছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা এটিকে একটি মানসিক ব্যাধি হিসেবেই চিহ্নিত করছেন। তাঁরা বলছেন মানুষ নানা কারণে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এ ক্ষেত্রে সামাজিক সামাজিক সচেতনততা, পারিবারিক সচেতনতা, ধর্মীও আচারবোধে সম্পৃক্ততা, সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে সসম্পৃক্ততা এবং প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞরা আত্মহত্যার কারণ হিসেবে মূলত ৪ টি বিষয়কেই দায়ী করছেন।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাইকেট্রিক বিভাগের প্রধান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আর.কে.এস রয়েল বলেন, পরীক্ষায় ভালো ফলাফন না পাওয়া বেকারত্ব বা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছাতে ব্যর্থতা সংসার জীবনে অশান্তি ( স্বামী-স্ত্রীর মতের অমিল, পরকিয়া, স্বামীর নির্যাতন) এবং নেশাগ্রস্ততা এই চারটি কারণেই মানুষ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আত্মহত্যা করে থাকে। এর প্রতিটিই মানুষের মাঝে এক ধরণের মনরোগ তৈরি করে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর পরিবার থেকে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি যে খারাপ ফলাফল হলে সেটা মেনে নেয়ার শিক্ষা পাওয়া, বেকারত্ব এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে যারা ব্যর্থ তাদের সামাজিক, পারিবারি সচেতনতা, অভিবভাবকদের বন্ধুসুলভ আচরণই পারে এসব বিষয় রোধ করতে। তাদেরকে বুঝাতে হবে একটি পথ বন্ধ হলে আরো অনেক পথ খোলা আছে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আর.কে.এস রয়েল বলেন, সংসার জীবনে অশান্তির ( স্বামী-স্ত্রীর মতের অমিল, পরকিয়া, স্বামীর নির্যাতন) জন্য মূলত আমরাই দায়ী। আমরা ছেলে-মেয়ে বিয়ে দেয়ার পর তাদের ইচ্ছা মতো চলতে দেই না, স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে বুঝতে সময় লাগে সে ক্ষেত্রে মতে অমিল হয় এতে তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা না করে ভিতরে ভিতরে রেখে অশান্তিতে ভোগেন, তাছাড়া অভাবগ্রস্ততার কারণে সংসারে অশান্তি থাকে। এ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী দুজনই একে পররের সাথে বন্ধুসুলভ থাকাটা জরুরি। তিনি আরো বলেন, পরকিয়া এক ধরণের রোগ। এটা ব্যক্তিত্ববোধের অভাবজনিত রোগ। পরে এর থেকে নানা কারণে তার মাঝে অশান্তি ছড়ায়। যার কারণে সে আত্মহত্যা করে। আবার ক্ষেত্রবিশেষে যে পরকিয়া করে তার বিপরিতজন আত্মহত্যা করেন। এসব ক্ষেত্রে তাকে মনরোগ বিশেষজ্ঞের সরণাপন্ন করা, নেশাগ্রস্তার কারণে যারা আত্মহত্যা করে তাঁরা অনেকেই এক সাথে নেশা ছাড়া, বা অন্য কেউ জুর করে এক সাথে নেশা ছাড়ানোর চেষ্টা করার কারনেই হয়। এ ক্ষেত্রে এক সাথে ছাড়া বা ছাড়ানোর চেষ্টা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ধিরে ধিরে ছাড়া বা নেশা ছাড়ানো উচিত।

তবে যে কারনেই আত্মহত্যা প্রবণতা বাড়ুকনা কেন তা সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক সচেতনতা, ধর্মীও ও সাংস্কৃতিক মূল্যভোধ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মকা-ে মানুষ যুক্ত থাকলে এগুলো কমে আসবে বলে অভিমত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাইকেট্রিক বিভাগের প্রধান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আর.কে.এস রয়েল’র।

এদিকে সিলেট আনজিবি সমিতির সাবেক সভাপতি এড. এমাদ উল্লাহ্‌ শহীদুল ইসলাম ইসলাম আত্মহত্যা আইনগত অপরাধ উল্লেখ করে এর কারণ হিসেবে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার সাতন্ত্রিকরণকেই দায়ী করছেন। তিনি বলেন, দেশে উদ্বেগজনক হারে আত্মহত্যা বাড়ছে। কারণ দেশে বর্তমান সময়ে উচ্চ শিক্ষিত, মধ্য শিক্ষিত লোকদের চাকরির প্রচুর অভাব। এসব কারণে ব্যকারত্ত্ব বাড়তে বাড়তে তাদের মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতা দেখা দেয়।

এদিকে শিক্ষা ক্ষেত্রে বানিজ্যিকরণের কারণে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ছেলে-মেয়েদের প্রথম হতে চাপ দেন। কারণ টাকা খরচ করে পড়াচ্ছেন এতে প্রথম হলে খরচ কমবে এমন ধারণা থেকে তাদের চাপ প্রয়োগের ফলে ছেলে-মেয়েরা প্রথম না হতে পেরে বা ভালো ফল না করতে পারলেও কেউ কেউ আত্মহত্যা করেন এবং ইন্টারনেটের অপব্যবহারের কারণেও কিছু কিছু ছেলে-মেয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে মনে করছেন আনজিবি সমিতির সাবেক এ সভাপতি। তিনি বলেন এসব কারণ ছাড়াও পারিবারিক অশান্তির অনেক কারণের মধ্যে বর্তমানে পুঁজিবাদী সাতন্ত্রিকরণটাই মূলত দায়ী। এখনকার স্বামী-স্ত্রী আলাদা আলাদা সম্পদ করতে চান। তাদের সম্পদের হিসেব আলাদা থাকে। এতে তাদের মধ্যে সাতন্ত্রিকরণের ফলে বৈষম্য তৈরি হয়। এসব কারণে তাদের মতানৈক্য দেখা দেয়। এক সময় অশান্তি বিরাজ করে। এসব কারণে কলহর, পরকিয়াসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়। এতেও আত্মহত্যা প্রবণতা বাড়ে।

তবে যে কারণেই আত্মহত্যা হোকনা কেন এটা আইনতত দ-নীয় অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি আত্মহত্যা করার উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে তার ১ বছরের কারাদ- বা জরিমানা অথবা উভয়টি হতে পারে। এর কেউ যদি কাউকে আত্মহত্যায় সহযোগিতা করে সে ক্ষেত্রে তার ১০ বছরের কারাদ- বা জরিমানা অথবা উভয়টিও হতে পারে। এমনকি এটি সামাজিক, ধর্মীও অনুসাশন অনুযায়ীও অন্যায় এবং পাপ কাজ। এজন্য এসব বিষয়ে সকলের সচেতনতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

বিবি/ ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু বগুড়া সিটি করপোরেশনের

সিলেটে বেড়েছে আত্মহত্যা প্রবণতা

প্রকাশিত : ০৯:৩১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৯

সিলেটে বেড়ে চলেছে আত্মহত্যা প্রবণতা। গত এক বছরে সিলেটে আত্মহত্যা করেছেন মোট ১ শত ৮৪ জন। যাদের বেশির ভাগই তরুন-তরুণী এবং সকলেই শিক্ষত শ্রেণির। মহানগর পুলিশ এবং জেলা পুলিশ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে ২০১৭ সালে আত্মহত্যা করেন মোট ১ শত ৫৪ জন। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮৪ জন।

মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানা এলাকায় ২০১৮ সালে আত্মহত্যা করেছেন মোট ৮১ জন। এর আগে ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিলো ৭০ জন এবং সিলেট জেলা পুলিশের বিভিন্ন থানা এলাকায় ২০১৮ সালে আত্মহত্যা করেছেন ১ শত ৩ জন। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিলো ৮৪ জন। আত্মহত্যার কারণ হিসেবে চারটি বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

মহানগর পুলিশের ২০১৮ সালে কোতোয়ালী থানায় ২৪ জন, লালালাবাদ থানায় ১৯ জন, বিমানবন্দর থানার আওতায় ১৪ জন, দক্ষিণ সুরমা থানার আওতায় ২ জন, শাহপরাণ থানার আওতায় ১৩ জন এবং মোগলাবাজার থানা এলাকার আওতায় ৬ জন আত্মহত্যা করেছেন। এদিকে জেলা পুলিশের থানাভিত্তিক সংখ্যা জানা না গেলেও ফাঁসিতে ঝুলে ৮২ জন, বিষপানে ২০ জন এবং গায়ে আগুন লাগিয়ে ১ জন আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা পুলিশের গণ্মাধ্যম শাখার মুখপাত্র মাহবুবুল আলম।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা বলেন, আত্মহত্যার বিভিন্ন ধরন থাকে। যেমন ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা, বিষপানে আত্মহত্যা, গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যাসহ একাধিক ভাবে আত্মহত্যা করে এসব মানুষ মারা গেছে। আত্মহত্যার এ সংখ্যায় অধিকাংশই পুরুষ। বয়সের হিসেবে আত্মহনন করা এসব মানুষের মধ্যে অধিকাংশেরই বয়স ১৬ থেকে ২৪ এর ভিতরে। তবে খুব কম সংখ্যক মানুষই ২৪ থেকে ৩৫ এর ভিতরে বয়সের। এদের বেশির ভাগই শিক্ষিত শ্রেণির মানুষ বলে জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।

মহানগর পুলিশের এ অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বলেন, আত্মহত্যা করা এসব মানুষের অধিকাংশই পুরুষ এবং শিক্ষিত। যখন আত্মহত্যা হিসেবে সনাক্ত করা হয় তখন এর কিছু কারণও সনাক্ত করা হয়। তিনি বলেন, আত্মহত্যার কারণ হিসেবে সাধারণত, বেকারত্ব, নেশাগ্রস্ততা, পারিবারিক কল, ঋণগ্রস্ততা এবং পরকিয়া এসব কারণই মূলত দায়ী বলে জানান তিনি।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা আরো বলেন, যেসব নারীরা আত্মহত্যা করেন তারা বেশির ভাগই সংসার জীবনে অশান্তি, স্বামির নির্যাতন, স্বামীর সাথে মতের অমিল বা পরকিয়ায় আসক্তততার কারণেই আত্মহত্যা করেন। আবার কেউ কেউ স্বামীর পরকিয়া আসকত্ততার কারণেও অশান্তিতে ভোগে আত্মহত্যা করেন বলে মনে করছেন তিনি।

তবে সিলেট জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখার মুখপাত্র মাহবুবুল আলম বলছেন সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটার কারণেই দিন দিন মানুষ আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকছে। তিনি বলেন, সামাজিক যে মূল্যবোধ তা মানূষকে ভালো মন্দ বুঝতে শিখায়, নিজের প্রতি নিজের মায়া এবং সমাজের প্রতি মানুষের যে দায়বদ্ধতা এবং জীবন চলার প্রতিটি ক্ষেত্রে জামাজিক মূল্যবোধ মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। কিন্তু বর্তমানে এর অভাব দেখা দেয়ায় মানুষ নানা ভাবে নানা অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে এবং মানুষের মাঝে হতাশা কাজ করছে। এজন্যই মূলত দিন দিন আত্মহত্যা বেড়ে চলছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা এটিকে একটি মানসিক ব্যাধি হিসেবেই চিহ্নিত করছেন। তাঁরা বলছেন মানুষ নানা কারণে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এ ক্ষেত্রে সামাজিক সামাজিক সচেতনততা, পারিবারিক সচেতনতা, ধর্মীও আচারবোধে সম্পৃক্ততা, সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে সসম্পৃক্ততা এবং প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞরা আত্মহত্যার কারণ হিসেবে মূলত ৪ টি বিষয়কেই দায়ী করছেন।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাইকেট্রিক বিভাগের প্রধান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আর.কে.এস রয়েল বলেন, পরীক্ষায় ভালো ফলাফন না পাওয়া বেকারত্ব বা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছাতে ব্যর্থতা সংসার জীবনে অশান্তি ( স্বামী-স্ত্রীর মতের অমিল, পরকিয়া, স্বামীর নির্যাতন) এবং নেশাগ্রস্ততা এই চারটি কারণেই মানুষ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আত্মহত্যা করে থাকে। এর প্রতিটিই মানুষের মাঝে এক ধরণের মনরোগ তৈরি করে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর পরিবার থেকে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি যে খারাপ ফলাফল হলে সেটা মেনে নেয়ার শিক্ষা পাওয়া, বেকারত্ব এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে যারা ব্যর্থ তাদের সামাজিক, পারিবারি সচেতনতা, অভিবভাবকদের বন্ধুসুলভ আচরণই পারে এসব বিষয় রোধ করতে। তাদেরকে বুঝাতে হবে একটি পথ বন্ধ হলে আরো অনেক পথ খোলা আছে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আর.কে.এস রয়েল বলেন, সংসার জীবনে অশান্তির ( স্বামী-স্ত্রীর মতের অমিল, পরকিয়া, স্বামীর নির্যাতন) জন্য মূলত আমরাই দায়ী। আমরা ছেলে-মেয়ে বিয়ে দেয়ার পর তাদের ইচ্ছা মতো চলতে দেই না, স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে বুঝতে সময় লাগে সে ক্ষেত্রে মতে অমিল হয় এতে তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা না করে ভিতরে ভিতরে রেখে অশান্তিতে ভোগেন, তাছাড়া অভাবগ্রস্ততার কারণে সংসারে অশান্তি থাকে। এ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী দুজনই একে পররের সাথে বন্ধুসুলভ থাকাটা জরুরি। তিনি আরো বলেন, পরকিয়া এক ধরণের রোগ। এটা ব্যক্তিত্ববোধের অভাবজনিত রোগ। পরে এর থেকে নানা কারণে তার মাঝে অশান্তি ছড়ায়। যার কারণে সে আত্মহত্যা করে। আবার ক্ষেত্রবিশেষে যে পরকিয়া করে তার বিপরিতজন আত্মহত্যা করেন। এসব ক্ষেত্রে তাকে মনরোগ বিশেষজ্ঞের সরণাপন্ন করা, নেশাগ্রস্তার কারণে যারা আত্মহত্যা করে তাঁরা অনেকেই এক সাথে নেশা ছাড়া, বা অন্য কেউ জুর করে এক সাথে নেশা ছাড়ানোর চেষ্টা করার কারনেই হয়। এ ক্ষেত্রে এক সাথে ছাড়া বা ছাড়ানোর চেষ্টা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ধিরে ধিরে ছাড়া বা নেশা ছাড়ানো উচিত।

তবে যে কারনেই আত্মহত্যা প্রবণতা বাড়ুকনা কেন তা সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক সচেতনতা, ধর্মীও ও সাংস্কৃতিক মূল্যভোধ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মকা-ে মানুষ যুক্ত থাকলে এগুলো কমে আসবে বলে অভিমত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাইকেট্রিক বিভাগের প্রধান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আর.কে.এস রয়েল’র।

এদিকে সিলেট আনজিবি সমিতির সাবেক সভাপতি এড. এমাদ উল্লাহ্‌ শহীদুল ইসলাম ইসলাম আত্মহত্যা আইনগত অপরাধ উল্লেখ করে এর কারণ হিসেবে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার সাতন্ত্রিকরণকেই দায়ী করছেন। তিনি বলেন, দেশে উদ্বেগজনক হারে আত্মহত্যা বাড়ছে। কারণ দেশে বর্তমান সময়ে উচ্চ শিক্ষিত, মধ্য শিক্ষিত লোকদের চাকরির প্রচুর অভাব। এসব কারণে ব্যকারত্ত্ব বাড়তে বাড়তে তাদের মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতা দেখা দেয়।

এদিকে শিক্ষা ক্ষেত্রে বানিজ্যিকরণের কারণে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ছেলে-মেয়েদের প্রথম হতে চাপ দেন। কারণ টাকা খরচ করে পড়াচ্ছেন এতে প্রথম হলে খরচ কমবে এমন ধারণা থেকে তাদের চাপ প্রয়োগের ফলে ছেলে-মেয়েরা প্রথম না হতে পেরে বা ভালো ফল না করতে পারলেও কেউ কেউ আত্মহত্যা করেন এবং ইন্টারনেটের অপব্যবহারের কারণেও কিছু কিছু ছেলে-মেয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে মনে করছেন আনজিবি সমিতির সাবেক এ সভাপতি। তিনি বলেন এসব কারণ ছাড়াও পারিবারিক অশান্তির অনেক কারণের মধ্যে বর্তমানে পুঁজিবাদী সাতন্ত্রিকরণটাই মূলত দায়ী। এখনকার স্বামী-স্ত্রী আলাদা আলাদা সম্পদ করতে চান। তাদের সম্পদের হিসেব আলাদা থাকে। এতে তাদের মধ্যে সাতন্ত্রিকরণের ফলে বৈষম্য তৈরি হয়। এসব কারণে তাদের মতানৈক্য দেখা দেয়। এক সময় অশান্তি বিরাজ করে। এসব কারণে কলহর, পরকিয়াসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়। এতেও আত্মহত্যা প্রবণতা বাড়ে।

তবে যে কারণেই আত্মহত্যা হোকনা কেন এটা আইনতত দ-নীয় অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি আত্মহত্যা করার উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে তার ১ বছরের কারাদ- বা জরিমানা অথবা উভয়টি হতে পারে। এর কেউ যদি কাউকে আত্মহত্যায় সহযোগিতা করে সে ক্ষেত্রে তার ১০ বছরের কারাদ- বা জরিমানা অথবা উভয়টিও হতে পারে। এমনকি এটি সামাজিক, ধর্মীও অনুসাশন অনুযায়ীও অন্যায় এবং পাপ কাজ। এজন্য এসব বিষয়ে সকলের সচেতনতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

বিবি/ ইএম