১১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

টাঙ্গাইল শহর দুই সিফটেও কমছে না অটোজট

ব্যাটারী চালিত অটোর সংখ্যা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ সময়ই যানজটের শহরে পরিণত হতো টাঙ্গাইল পৌর এলাকা। এ যানজটের কারণে শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে সময় মতো পৌঁছা ছিল প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া অটোর বেপরোয়া চলাচল ও চালকের অদক্ষতার কারণে প্রায়ই ঘটতো দুর্ঘটনা। যানজটের চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগ থেকে শহরবাসীকে রেহাই দিতে পৌর কর্তৃপক্ষ কিছু সিদ্ধান্ত নেয় গত বছর। অটোগুলো দুই সিফটে ভাগ করে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া বাসটার্মিনাল এলাকায় রাস্তার মধ্যে অটো ঘুরোনো নিষেধ করা হয়। প্রথমদিকে যানজটমুক্ত শহর পাওয়া গেলেও কিছুদিন পরেই চিত্র আবার আগের মতোই হয়ে যায়।

টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সরেজমিনে ঘুরে, অটো চালক, যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যানজটের চারটি কারণ চিহ্নিত করা গেছে। অটোর সংখ্যা অতিরিক্ত বেশি, অটোর অদক্ষ চালকদের এলোমেলো চলাচল, রাস্তার উপর অটোসহ অন্যান্য গাড়ি ঘুরানো এবং রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং। সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের নতুন বাসটার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ দিকে ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এটি কখনো কখনো হাসপাতাল গেট হয়ে শামসুল হক তোরণ মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া কুমুদিনী কলেজ মোড়, সুপারি বাগান মোড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, কালিবাড়ী মোড়, বটতলা, পৌরউদ্যানের সামনে, নিরালা মোড়, বেবীস্ট্যান্ড এলাকায় মাঝে-মধ্যেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। নতুন বাসটার্মিনালের দক্ষিণ পাশ থেকে হাসপাতাল গেট পর্যন্ত রাস্তার পাশে প্রায়ই বাসাইল-সখীপুর সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের বাস পার্কিং করে রাখা হয়। যানজটে আটকা পড়লে অধিকাংশ সময় অটো চালকরা সেখানে যাত্রী নামিয়ে অটো ঘুরিয়ে অন্যদিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় আটকা পড়ে যানজট আরো তীব্র হয়। নতুন বাসটার্মিনালে প্রান্তিক পরিবহন, নিরালা, সোনিয়া ও সকাল-সন্ধ্যা পরিবহনের গাড়ি টার্মিনাল ছেড়ে যাওয়া ও প্রবেশ করার সময় রাস্তার দুইপাশে অটো ও রিকশা আটকে রাখা হয়। এতেও যানজটের সৃষ্টি হয়। আর ভোগান্তির শিকার হতে হয় যাত্রীদের।

অটোর যাত্রী মো. রাজু মিয়া বলেন, যানজট নিরসনে দুই শিফটে অটো চলাচল করলেও কোন শহরের যানজট কমেনি। এক্ষেত্রে যাত্রীদেরও দোষ রয়েছে। অনেকে পাঁচ-দশ টাকা ভাড়া দিতে একশ টাকার নোট দিয়ে থাকেন। অটো চালক রাস্তার পাশে রেখে ভাংতি দিতে গিয়েও যানজটের সৃষ্টি হয়। কামরুল হাসান নামে অপর যাত্রী বলেন, যত্রতত্র যাত্রী উঠা-নামা করা হয়। যাত্রী উঠা নামানোর জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকলে যানজট কম হবে। অটো চালক মো. শফিক মিয়া বলেন, দোষ আমাদের আছে। অটো চালকদের প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলে অটো চালালে যানজট কম হবে। আর রাস্তার উপর পার্কিং বন্ধ করতে হবে। সোলায়মান মিয়া বলেন, শহরে রাস্তার চাপা (অপ্রস্থ)। অথচ অটো অনেক। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া স্কুল কলেজের সামনে থেকে যাত্রী না তুলে একটু দূরে থেকে যাত্রী তুলতে হবে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন বলেন, শহরের যানজট নিরসনের জন্য তিন হাজার অটো দুই শিফটে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারপরও বিভিন্ন সময় শহরের কিছু কিছু এলাকায় যানজট হচ্ছে। এর কারণ চিহিৃত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিবি/ ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ছাত্রদলের নতুন কমিটির আলোচনায় বারবার গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আবু হান্নান তালুকদার

টাঙ্গাইল শহর দুই সিফটেও কমছে না অটোজট

প্রকাশিত : ০৩:৪৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৯

ব্যাটারী চালিত অটোর সংখ্যা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ সময়ই যানজটের শহরে পরিণত হতো টাঙ্গাইল পৌর এলাকা। এ যানজটের কারণে শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে সময় মতো পৌঁছা ছিল প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া অটোর বেপরোয়া চলাচল ও চালকের অদক্ষতার কারণে প্রায়ই ঘটতো দুর্ঘটনা। যানজটের চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগ থেকে শহরবাসীকে রেহাই দিতে পৌর কর্তৃপক্ষ কিছু সিদ্ধান্ত নেয় গত বছর। অটোগুলো দুই সিফটে ভাগ করে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া বাসটার্মিনাল এলাকায় রাস্তার মধ্যে অটো ঘুরোনো নিষেধ করা হয়। প্রথমদিকে যানজটমুক্ত শহর পাওয়া গেলেও কিছুদিন পরেই চিত্র আবার আগের মতোই হয়ে যায়।

টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সরেজমিনে ঘুরে, অটো চালক, যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যানজটের চারটি কারণ চিহ্নিত করা গেছে। অটোর সংখ্যা অতিরিক্ত বেশি, অটোর অদক্ষ চালকদের এলোমেলো চলাচল, রাস্তার উপর অটোসহ অন্যান্য গাড়ি ঘুরানো এবং রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং। সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের নতুন বাসটার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ দিকে ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এটি কখনো কখনো হাসপাতাল গেট হয়ে শামসুল হক তোরণ মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া কুমুদিনী কলেজ মোড়, সুপারি বাগান মোড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, কালিবাড়ী মোড়, বটতলা, পৌরউদ্যানের সামনে, নিরালা মোড়, বেবীস্ট্যান্ড এলাকায় মাঝে-মধ্যেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। নতুন বাসটার্মিনালের দক্ষিণ পাশ থেকে হাসপাতাল গেট পর্যন্ত রাস্তার পাশে প্রায়ই বাসাইল-সখীপুর সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের বাস পার্কিং করে রাখা হয়। যানজটে আটকা পড়লে অধিকাংশ সময় অটো চালকরা সেখানে যাত্রী নামিয়ে অটো ঘুরিয়ে অন্যদিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় আটকা পড়ে যানজট আরো তীব্র হয়। নতুন বাসটার্মিনালে প্রান্তিক পরিবহন, নিরালা, সোনিয়া ও সকাল-সন্ধ্যা পরিবহনের গাড়ি টার্মিনাল ছেড়ে যাওয়া ও প্রবেশ করার সময় রাস্তার দুইপাশে অটো ও রিকশা আটকে রাখা হয়। এতেও যানজটের সৃষ্টি হয়। আর ভোগান্তির শিকার হতে হয় যাত্রীদের।

অটোর যাত্রী মো. রাজু মিয়া বলেন, যানজট নিরসনে দুই শিফটে অটো চলাচল করলেও কোন শহরের যানজট কমেনি। এক্ষেত্রে যাত্রীদেরও দোষ রয়েছে। অনেকে পাঁচ-দশ টাকা ভাড়া দিতে একশ টাকার নোট দিয়ে থাকেন। অটো চালক রাস্তার পাশে রেখে ভাংতি দিতে গিয়েও যানজটের সৃষ্টি হয়। কামরুল হাসান নামে অপর যাত্রী বলেন, যত্রতত্র যাত্রী উঠা-নামা করা হয়। যাত্রী উঠা নামানোর জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকলে যানজট কম হবে। অটো চালক মো. শফিক মিয়া বলেন, দোষ আমাদের আছে। অটো চালকদের প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলে অটো চালালে যানজট কম হবে। আর রাস্তার উপর পার্কিং বন্ধ করতে হবে। সোলায়মান মিয়া বলেন, শহরে রাস্তার চাপা (অপ্রস্থ)। অথচ অটো অনেক। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া স্কুল কলেজের সামনে থেকে যাত্রী না তুলে একটু দূরে থেকে যাত্রী তুলতে হবে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন বলেন, শহরের যানজট নিরসনের জন্য তিন হাজার অটো দুই শিফটে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারপরও বিভিন্ন সময় শহরের কিছু কিছু এলাকায় যানজট হচ্ছে। এর কারণ চিহিৃত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিবি/ ইএম