রাঙামাটির বন্দুকভাঙ্গা যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্রে মহাপরির্বানপ্রাপ্ত বৌদ্ধ আর্য্যপুরুষ মহাসাধক শ্রীমৎ সাধনান্দ মহাস্থবির বনভান্তের সপ্তম পরিনির্বানবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৌদ্ধধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির আয়োজিত দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। বৌদ্ধ আর্য্যপুরুষ বনভান্তে ১৯২০ সালের ৮ জানুয়ারি রাঙামাটি সদরের ১১৫ নম্বর মগবান মৌজার মোড়ঘোনা গ্রামের এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১২ সালের ৩০ জানুয়ারি দেহত্যাগ করেন তিনি। বনভান্তে জীবদ্দশাকালে অধ্যক্ষ হিসেবে রাজবন বিহারে অবস্থান করেছিলেন।
বনভান্তের সপ্তম পরিনির্বানবার্ষিকী উপলক্ষে যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্রে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, নাটক মঞ্চায়ন ও ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়েজন করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন উদ্বোধন করেন, বনভান্তের উত্তরসুরি শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির। পরে বিহারটির উপাসক-উপাসিকা পরিষদের সহায়তায় বেইনঘর প্রাঙ্গণে চাকমা ভাষার নাটক ’ফাজা’ মঞ্চস্থ ও সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে, রাঙ্গামাটির সাংস্কৃতিক সংগঠন হিলর ভালেদী ও হিলর প্রোডাকশন। সংগঠনটির উপদেষ্টা সুশীল প্রসাদ চাকমা রচিত ও পরিচালিত নাটক ও সাংকৃতিক অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন, হিলর ভালেদীর প্রতিষ্ঠা ও সভাপতি সুপ্রিয় চাকমা শুভ ও সাধারণ সম্পাদক নিকেল চাকমা।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে বুদ্ধপূজা, পিন্ডদান, পঞ্চশীল প্রার্থনা,সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দান, বুদ্ধমূর্তি দান, ধর্মীয় সভা এবং বিকালে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় দেশনা দেন, বনভন্তের উত্তরসুরি শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাংবাদিক বিহারী চাকমা। অনুষ্ঠানে বিশ^ নন্দিত বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ^জিৎ এর কণ্ঠে বনভান্তের স্বরণে গাওয়া গানটি ক্যাসেটের মাধ্যেমে পরিবেশিত হয়। এতে যমচুগ ভাবনা কেন্দ্রের ্পাসক-উপাসিকা পরিষদের কর্মকর্তাসহ হাজার পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে।
বিবি/ ইএম





















