০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

চিকিৎসকের আত্মহত্যা: রিমান্ড শেষে কারাগারে স্ত্রী মিতু

স্বামীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তিনদিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চিকিৎসক তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিতুকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে হাজির করা হয় মিতুকে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, তিনদিনের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাদের। এতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় হাইকোর্টের আদেশ অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে মিতু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তবে তদন্তের স্বার্থে মিতুকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

জানতে চাইলে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, ‘আমরা আবারও আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করব। প্রথম দফা জিজ্ঞাসাবাদে আসামি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে আরও কিছু তথ্য আদায় বাকি রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামি রাজি থাকলে আদালতে জবানবন্দি দেবেন।’

স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে গত ৩১ জানুয়ারি ভোরে নগরীর চান্দগাঁও থানা এলাকায় নিজ বাসায় শিরায় বিষপ্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশ। এর আগে তিনি স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। একইদিন রাতে নগরীর নন্দনকানন এলাকা থেকে মিতুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

৩২ বছর বয়সী আকাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবেদনবিদ (অ্যানেসথেশিস্ট) বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বাংলাবাজার বরকল এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে। নগরীর চান্দগাঁও থানার চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কের ২০ নম্বর বাড়িতে তাদের পরিবারের বসবাস।

তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর বাড়ি কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ এলাকায়। চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ২ নম্বর রোডে মিতুর বাবার বাসা।

এই ঘটনায় ১ ফেব্রুয়ারি আকাশের মা জোবেদা খানম বাদি হয়ে নগরীর চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আকাশের স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরীসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়। দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় দায়ের হওয়া মামলায় আরও যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- মিতু’র বাবা আনিসুল হক চৌধুরী, মা মোছাম্মৎ শামীমা শেলী ও বোন সানজিলা হক চৌধুরী, মিতু’র কথিত বন্ধু ডা. মাহবুবুল আলম এবং আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনায় বসবাসরত ভারতীয় নাগরিক প্যাটেল।

বিবি/ ইএম

ট্যাগ :

রাজারবাগে ২৮তম বিসিএস পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

চিকিৎসকের আত্মহত্যা: রিমান্ড শেষে কারাগারে স্ত্রী মিতু

প্রকাশিত : ০৮:৩১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

স্বামীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তিনদিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চিকিৎসক তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিতুকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে হাজির করা হয় মিতুকে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, তিনদিনের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাদের। এতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় হাইকোর্টের আদেশ অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে মিতু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তবে তদন্তের স্বার্থে মিতুকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

জানতে চাইলে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, ‘আমরা আবারও আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করব। প্রথম দফা জিজ্ঞাসাবাদে আসামি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে আরও কিছু তথ্য আদায় বাকি রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামি রাজি থাকলে আদালতে জবানবন্দি দেবেন।’

স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে গত ৩১ জানুয়ারি ভোরে নগরীর চান্দগাঁও থানা এলাকায় নিজ বাসায় শিরায় বিষপ্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশ। এর আগে তিনি স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। একইদিন রাতে নগরীর নন্দনকানন এলাকা থেকে মিতুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

৩২ বছর বয়সী আকাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবেদনবিদ (অ্যানেসথেশিস্ট) বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বাংলাবাজার বরকল এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে। নগরীর চান্দগাঁও থানার চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কের ২০ নম্বর বাড়িতে তাদের পরিবারের বসবাস।

তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর বাড়ি কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ এলাকায়। চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ২ নম্বর রোডে মিতুর বাবার বাসা।

এই ঘটনায় ১ ফেব্রুয়ারি আকাশের মা জোবেদা খানম বাদি হয়ে নগরীর চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আকাশের স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরীসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়। দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় দায়ের হওয়া মামলায় আরও যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- মিতু’র বাবা আনিসুল হক চৌধুরী, মা মোছাম্মৎ শামীমা শেলী ও বোন সানজিলা হক চৌধুরী, মিতু’র কথিত বন্ধু ডা. মাহবুবুল আলম এবং আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনায় বসবাসরত ভারতীয় নাগরিক প্যাটেল।

বিবি/ ইএম