কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার বুড়বুড়িয়া কুতুবুজ্জামান হযরত আপ্তাব উদ্দিন শাহ্ (রাঃ) এর ৭৬ তম বার্ষিক ওরশ মাহফিলকে কেন্দ্র করে খাড়াতাইয়া বনাম বুড়বুড়িয়া দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৮ জনের আহতের খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাত ১০ ঘটিকায়। ঘটনাস্থলে বুড়িচং থানার পুলিশ গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মাজার এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায় দীর্ঘ ৭৫ বছর ধরে এ ওরশ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এই ওরশ মাহফিলে হাজার হাজার ভক্তগন আসেন। মাজারের চারপাশে ফার্নিচার দোকান, কসমেটিক্স দোকান, সহ বিভিন্ন বাউল শিল্পীরা এখানে এসে আসর বসান।
এটি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি ওরশ মাহফিল। গত ৪ বছর আগ পর্যন্ত এ মাহফিলের কমিটি ছিল। কয়েক বছর পর্যন্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আনোয়ার হোসেন, সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান টুনু, সহ ১০০-১৫০ সদস্য নিয়ে এ কমিটি ঘটন করা হয়েছিল। কিন্তু এ কমিটিতে মাজারের খাদেম হাবিবুর রহমানকে কমিটিতে না রাখাতে এ কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে বুড়বুড়িয়া গ্রামের মো: জাকির হোসেন , খালেক মেম্বার,মাসুদ ,তাহের, জ্জুমুর ও খাড়াতাইয়া গ্রামের শাহ পরাণ এবং খাদেম সহ এলাকাবাসী মিলে মাহফিলকে পরিচালনা করে আসছে। এই বছর ৭৬ তম বার্ষিক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই ফার্নিচার ও কসমেটিক্স দোকারপাট দখল নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি এক পর্যায় ১৮ মার্চ সোমবার রাতে উভয় পক্ষের লোকজন দা, ছেনি, ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র দিয়ে সংঘর্ষে ওই এলাকার প্রায় ১৫ টি দোকান , দুটি মটরসাইকেল ভাংচুর, দোকান লুটপাট হয়েছে এমন অভিযোগ দিয়েছেন শিকারপুর গ্রামের হাজী মার্কেটের মালিক হাজী মো: ইছহাক। তখন ঘটনাস্থলে বুড়িচং থানার সেকেন্ড অফিসার এর নেতৃত্বে পুলিশ ফোর্স গিয়ে উক্ত ঘটনাটি নিয়ন্ত্রনে আনে।ঘটনার সময় উভয় পক্ষের মিলে প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশংঙ্খাজনক তবে ঘটনার পর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে মাজারের খাদেম হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমাকে জ্জুমুর, জাকির, মাসুদ, আলমাছসহ তাদের কিছু লোক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাজার ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমুকি দুমকি দিয়ে আসছে। প্রায় সময় তারা আমার কাছে চাঁদা দাবী করে। মাজারের ছাদের আংশিক অংশ ভেঙ্গে ফেলে সোমবার রাতে শাহপরাণের সাথে দোকান বসা নিয়ে তর্ক বির্তক করে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে আমার সহকর্মী তোফাজ্জলের হাত ভেঙ্গে যায় আরও দুজন আহত হয়। তিনি আর বলেন তারা মাজারের দায়িত্ব থাকা কালীন ভক্তদের দানকৃত মাহফিলের টাকা পয়সা দান বাক্সে জমা দিতেন না। শাহপরাণ কয়েক বছর দায়িত্বরত অবস্থায় মাহফিলের টাকা পয়সা দানে বাক্সে জমা দিতেন। এতে করে মাহফিল পরিচালনা ও খরচ চালাতে তেমন সমস্যা হত না। এ বছর তাদের মধ্যে দ¦ন্দের কারণে মাহফিল পরিচালনা করতে সমস্যা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বুড়িচং থানার ওসি আকুল চন্দ্র বিশ^াস বলেন ঘটনার রাতে ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশ ফোর্স গিয়ে উক্ত ঘটনাটি নিয়ন্ত্রনে আনে। ওসি তদন্ত সাফায়েত বলেন , এ পর্যন্ত ঘটনার এক পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পরিপেক্ষিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।





















