০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মাদ্রাসাছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা, আটক ৭

ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় তিনদিন পর থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার এবং আটক করা হয়েছে পাঁচজনকে।

নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় চার বোরখা পরিহিত নারীসহ আরো কয়েকজনকে আসামি করে সোমবার মামলা দায়ের করেন।

আটক ব্যক্তিরা হলো- ওই মাদ্রাসার ইংরেজির প্রভাষক আফছার উদ্দিন (৩৩), আলিম পরীক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম (২২), মাদ্রাসার নৈশ প্রহরী মোস্তফা (৩৮), অফিস সহকারী নুরুল আমিন (৫০) এবং স্থানীয় আলাউদ্দিন (২৫), সাইদুল ইসলাম (২১), জসিম উদ্দিন (৩০)।

ঘটনার দিন থেকে শুরু করে সোমবার পর্যন্ত থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এই সাতজনকে আটক করেছে। তবে এদের মধ্যে আফছার উদ্দিন ও আরিফুল ইসলামকে আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া নুসরাতের শ্লীলতাহানির মামলায় ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষও গ্রেপ্তার আছেন। অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাদ্রাসার গভর্নিং বডি।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, আটকদের মধ্যে পাঁচজনকে নুসরাতের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠানো হবে। তবে মামলার এজহারের উল্লেখিত বোরখা পরা চার নারীর কাউকে পুলিশ শনাক্ত করতে পারেনি। শনাক্ত হলে তদের গ্রেফতার করা হবে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৭ মার্চ বুধবার সকাল ১০টায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ওই ছাত্রীকে ডেকে তার কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। ওই ঘটনায় ছাত্রী মা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন। এরপর থেকে অধ্যক্ষের অনুগত একটি মহল মামলা তুলে নিতে ছাত্রীর পরিবারকে চাপ ও হুমকি দিতে থাকে। গত শনিবার ওই ছাত্রী পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় এসে হলে তার প্রবেশ পত্রসহ একটি ফাইল টেবিলের ওপর রেখে হলের বাইরে বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। এ সময় একটি মেয়ে তার বান্ধবীকে মারা হচ্ছে বলে তাকে ডেকে প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলার ছাদে নিয়ে যায়।

সেখানে বোরকা, মুখোশ ও হাত মোজা পরা এবং মুখ ঢাকা চারজনকে দেখতে পায়। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীকে তারা জোর করে পাশের টয়লেটে নিয়ে গিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ মার্চ তারিখে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করার পর থেকে নুর উদ্দিন, জাবেদ, শাহাদাত হোসেন শামীম, মহি উদ্দিন শাকিলসহ অজ্ঞাতনামা আরো অনেকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়।

ওই ছাত্রীর ভাই বলেন, তাদের ধারণা হুমকিদাতাদের যোগসাজশে চারজন তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে ছাদে ডেকে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি বলেন, পুলিশ স্পর্শকাতর এ ঘটনাটিকে ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ দিয়ে তদন্ত করছে। ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকবে তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিবি/জেজে

ট্যাগ :

টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে নারীর লাশ: নওগাঁর মিতু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৪

মাদ্রাসাছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা, আটক ৭

প্রকাশিত : ১০:২৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল ২০১৯

ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় তিনদিন পর থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার এবং আটক করা হয়েছে পাঁচজনকে।

নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় চার বোরখা পরিহিত নারীসহ আরো কয়েকজনকে আসামি করে সোমবার মামলা দায়ের করেন।

আটক ব্যক্তিরা হলো- ওই মাদ্রাসার ইংরেজির প্রভাষক আফছার উদ্দিন (৩৩), আলিম পরীক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম (২২), মাদ্রাসার নৈশ প্রহরী মোস্তফা (৩৮), অফিস সহকারী নুরুল আমিন (৫০) এবং স্থানীয় আলাউদ্দিন (২৫), সাইদুল ইসলাম (২১), জসিম উদ্দিন (৩০)।

ঘটনার দিন থেকে শুরু করে সোমবার পর্যন্ত থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এই সাতজনকে আটক করেছে। তবে এদের মধ্যে আফছার উদ্দিন ও আরিফুল ইসলামকে আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া নুসরাতের শ্লীলতাহানির মামলায় ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষও গ্রেপ্তার আছেন। অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাদ্রাসার গভর্নিং বডি।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, আটকদের মধ্যে পাঁচজনকে নুসরাতের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠানো হবে। তবে মামলার এজহারের উল্লেখিত বোরখা পরা চার নারীর কাউকে পুলিশ শনাক্ত করতে পারেনি। শনাক্ত হলে তদের গ্রেফতার করা হবে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৭ মার্চ বুধবার সকাল ১০টায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ওই ছাত্রীকে ডেকে তার কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। ওই ঘটনায় ছাত্রী মা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন। এরপর থেকে অধ্যক্ষের অনুগত একটি মহল মামলা তুলে নিতে ছাত্রীর পরিবারকে চাপ ও হুমকি দিতে থাকে। গত শনিবার ওই ছাত্রী পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় এসে হলে তার প্রবেশ পত্রসহ একটি ফাইল টেবিলের ওপর রেখে হলের বাইরে বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। এ সময় একটি মেয়ে তার বান্ধবীকে মারা হচ্ছে বলে তাকে ডেকে প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলার ছাদে নিয়ে যায়।

সেখানে বোরকা, মুখোশ ও হাত মোজা পরা এবং মুখ ঢাকা চারজনকে দেখতে পায়। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীকে তারা জোর করে পাশের টয়লেটে নিয়ে গিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ মার্চ তারিখে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করার পর থেকে নুর উদ্দিন, জাবেদ, শাহাদাত হোসেন শামীম, মহি উদ্দিন শাকিলসহ অজ্ঞাতনামা আরো অনেকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়।

ওই ছাত্রীর ভাই বলেন, তাদের ধারণা হুমকিদাতাদের যোগসাজশে চারজন তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে ছাদে ডেকে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি বলেন, পুলিশ স্পর্শকাতর এ ঘটনাটিকে ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ দিয়ে তদন্ত করছে। ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকবে তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিবি/জেজে