পাবনার শহীদ আমিন উদ্দিন স্টেডিয়াম মাঠে ১৫ জেলার ৫৯৫ জন চরমপন্থীর আত্মসমর্পন করেছেন। স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে মঙ্গলবার বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন এমপির কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহব্বানে সাড়া দিয়ে যারা অত্মসমর্পন করেছেন তাদের সকলকে পুনর্বাসন করা হবে। চরমপন্থীর আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যে দিয়ে ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ভুল রাজনীতির কারণে দেশের মধ্যে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকার্ন্ড করে দেশে শান্তি আসেনা। তাই বিভেদ ভুলে গিয়ে অন্ধকারের পথ থেকে শান্তির পথে ফিরে আসার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান। দীর্ঘ ২০ বছর পর ১৬ জেলার প্রায় ছয় শতাধিক চরমপন্থি সংগঠনের সদস্যরা আত্মসমর্পণের করলো। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহব্বানে সাড়া দিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকার্ন্ড ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আশার লক্ষে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিপুল পরিমান অস্ত্র জমা দিয়ে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন এমপির কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। পাবনা পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বিপিএম. পিপিএম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন শামসুর রহমান শরিফ ডিলু এমপি, এ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এমপি, গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি, মকবুল হোসেন এমপি, আহমেদ ফিরোজ কবির এমপি, নাদিরা ইয়াসমিন জলি এমপি, রাজশাহী বিভাগের ডি আইজি খুরশীদ হোসেন, পাবনা জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন প্রমুখ।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় এখনও পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি, পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টি, পূর্ববাংলা লাল পতাকাসহ বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠন এদিন পাবনা জেলাসহ বিভিন্ জেলার প্রায় ৬ শতাধিক চরমপন্থি সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পেলেন।
২০ বছর আগে ১৯৯৯ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের কাছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার চার শতাধিক চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করে ছিল। সেই সময় তাদের আনসার বাহিনীতে বিশেষ আনসার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে পুনর্বাসিত করা হয়।
উল্লেখ্য অনুষ্ঠানে ৬১৪ জন এর আত্মসমর্পণ করার কথা থাকলেও আত্মসমর্পণ করেছেন ৫৯৫ জন। চরমপন্থিদের আর্থিক প্রণোদনাসহ পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
বিবি/জেজে






















