০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

আখাউড়ায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

 

জেলার আখাউড়ায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে ফজলুল হক নামে এক কৃষকের বাড়িঘরে ভাংচুর চালিয়ে তার পুকুর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩০ মন মাছ চুরি করে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষের লোকজন। গত ২১ জুন রাত ১১টার দিকে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামে এই পুকুরের মাছ চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কৃষক ফজলুল হক বাদী হয়ে গত ১লা জুলাই আখাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ০২।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রুটি ০৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমিন মিয়ার নেতৃত্বে বাছির মিয়াসহ একদল সন্ত্রাসী বাদীর ২১৯৮ নং দলিলের রেজিষ্ট্রীকৃত ভূমি জোরপূর্বক দখল করে এবং বেআইনিভাবে পুকুরে জাল ফেলে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩০ মন মাছ চুরি করে নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। এ সময় বাদী তাদের এমন কর্মকান্ডে বাঁধা দিলে ইউপি সদস্য আমিন মিয়ার হুকুমে মামলার অপর আসামীগণ হত্যার উদ্দেশ্যে মামলার বাদী ফজলুল হককে এলোপাতাড়ি ভাবে মারপিট করে বাদীকে মারাত্মকভাবে জখম করে। একইসাথে আইনের আশ্রয় নিলে বাদীকে খুন করে তার লাশ গুম করে ফেলারও হুমকি প্রদান করে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের ভয়ে ওই পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইউপি সদস্য আমিন মিয়ার লোকজন সবসময়ই বাদীর বসত বাড়ির চারপাশে ঘুরাঘুরি করছে। নিরীহ কৃষক ফজলুল হক বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করায় তার উপর চটেছেন প্রতিপক্ষ।

স্থানীয় মেডিসিন ব্যবসায়ী মো: ইকবাল হোসেন জানান, কৃষক ফজলুল হক একজন নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় মানুষ। বেশ কয়েক বছর ধরেই কৃষক ফজলুল হকের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে ইউপি সদস্য আমিন মিয়া ও তার লোকজন। শুধু ফজলুল হক নয় গ্রামের এমন অনেক জায়গার প্রতি তাদের কুনজর রয়েছে। এরা সংঘবদ্ধ একটি ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলেই খুন খারাপীসহ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে যাবার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আমিন মিয়ার সাথে এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, তার এলাকায় মারামারির কোন ঘটনাই ঘটেনি।

অপর অভিযুক্ত বাছির মিয়া সবকিছু অস্বীকার করে জানান, মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই পুকুরের ইজারাদার আমি। আমার পুকুর থেকে মাছ চুরি করে আমার নামেই মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মামলা করা হয়েছে। মারামারির কোন ঘটনাই ঘটেনি।

এ বিষয়ে আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রসুল আহমেদ নিজামী মুঠোফোনে জানান, আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

বিবি/ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আমার ভাইকে বাঁচান’ সেলিম প্রধানের মুক্তির দাবিতে বোনের কান্না

আখাউড়ায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত : ০৪:০৮:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০১৯

 

জেলার আখাউড়ায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে ফজলুল হক নামে এক কৃষকের বাড়িঘরে ভাংচুর চালিয়ে তার পুকুর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩০ মন মাছ চুরি করে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষের লোকজন। গত ২১ জুন রাত ১১টার দিকে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামে এই পুকুরের মাছ চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কৃষক ফজলুল হক বাদী হয়ে গত ১লা জুলাই আখাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ০২।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রুটি ০৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমিন মিয়ার নেতৃত্বে বাছির মিয়াসহ একদল সন্ত্রাসী বাদীর ২১৯৮ নং দলিলের রেজিষ্ট্রীকৃত ভূমি জোরপূর্বক দখল করে এবং বেআইনিভাবে পুকুরে জাল ফেলে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩০ মন মাছ চুরি করে নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। এ সময় বাদী তাদের এমন কর্মকান্ডে বাঁধা দিলে ইউপি সদস্য আমিন মিয়ার হুকুমে মামলার অপর আসামীগণ হত্যার উদ্দেশ্যে মামলার বাদী ফজলুল হককে এলোপাতাড়ি ভাবে মারপিট করে বাদীকে মারাত্মকভাবে জখম করে। একইসাথে আইনের আশ্রয় নিলে বাদীকে খুন করে তার লাশ গুম করে ফেলারও হুমকি প্রদান করে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের ভয়ে ওই পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইউপি সদস্য আমিন মিয়ার লোকজন সবসময়ই বাদীর বসত বাড়ির চারপাশে ঘুরাঘুরি করছে। নিরীহ কৃষক ফজলুল হক বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করায় তার উপর চটেছেন প্রতিপক্ষ।

স্থানীয় মেডিসিন ব্যবসায়ী মো: ইকবাল হোসেন জানান, কৃষক ফজলুল হক একজন নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় মানুষ। বেশ কয়েক বছর ধরেই কৃষক ফজলুল হকের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে ইউপি সদস্য আমিন মিয়া ও তার লোকজন। শুধু ফজলুল হক নয় গ্রামের এমন অনেক জায়গার প্রতি তাদের কুনজর রয়েছে। এরা সংঘবদ্ধ একটি ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলেই খুন খারাপীসহ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে যাবার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আমিন মিয়ার সাথে এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, তার এলাকায় মারামারির কোন ঘটনাই ঘটেনি।

অপর অভিযুক্ত বাছির মিয়া সবকিছু অস্বীকার করে জানান, মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই পুকুরের ইজারাদার আমি। আমার পুকুর থেকে মাছ চুরি করে আমার নামেই মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মামলা করা হয়েছে। মারামারির কোন ঘটনাই ঘটেনি।

এ বিষয়ে আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রসুল আহমেদ নিজামী মুঠোফোনে জানান, আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

বিবি/ইএম