১০:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

মাদারীপুরে নজরুলের ১২০তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত

মাদারীপুরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মজয়ন্তী পালিত হয়েছে। শনিবার (৬ জুলাই) সন্ধা ৭টায় স্থানীয় এমএম হাফিজ মেমোরিয়াল পাবলিক লাইব্রেরিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নজরুল সঙ্গীত শিল্পী পরিষদ মাদারীপুর জেলা শাখা। অনুষ্ঠানে কর্মসূচির মধ্যে ছিলো কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, দেশ বরেণ্য সাম্প্রতিক প্রয়াত কন্ঠশিল্পীদের আত্মার শান্তি কামনায় ১ মিনিট নিরবতা পালন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সুনীল কুমার হালদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মো. মিয়াজ উদ্দিন খান, চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ, মাদারীপুর, বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, উপদেষ্টা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রেজাউল করিম, সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক, উপদেষ্টা ও মাদারীপুর জেলা পরিষদের সদস্য এডভোকেট আবদুল্লাহ-আল-মামুন। এ ছাড়া সম্মানিত অতিথিবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক অধ্যক্ষ সরদার মো. ইদ্রিস আলী খান, চরমুগরিয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক কমলেশ গোস্বামী, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন, নজরুল প্রেমী শরিফ মহিউদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন নজরুল সঙ্গীত শিল্পী পরিষদের সহ-সভাপতি কবি সুবল বিশ্বাস, নির্বাহী সদস্য কেএম হাবিবুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মিয়াজ উদ্দিন খান বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। যার রণসঙ্গীত ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে-সাহস জুগিয়েছে। কবির অসংখ্য লেখায় রয়েছে বাংলা ও বাঙালির চেতনার ফসল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনী জয় বাংলা এসেছে নজরুলের একটি কবিতা থেকে। বঙ্গবন্ধু জয় বাংলাকে মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনী হিসেবে প্রথম উচ্চারণ করে ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন। সুতরাং নজরুলের চেতনা আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিটি বাঙালির বুকে ধারণ করতে হবে। নজরুল চর্চার মাধ্যমে আমাদের আগামী প্রজন্মের কাছে এ বারতা পৌঁছে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না এবং নজরুলও আমাদের জাতীয় কবি হতেন না। বঙ্গবন্ধুই অসুস্থ্য নজরুলকে বাংলাদেশে এনে জাতীয় কবির স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন।’

অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে ছিলো শিশু শিল্পীদের নৃত্যানুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও নজরুল সঙ্গীতের অনুষ্ঠান। কবিতা আবৃত্তি করেন জয়ন্ত মজুমদার। নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুনীল কুমার হালদার, ওয়াজেদ আলী সরদার, সীমা সাহা, নন্দিনী হালদার, শুকলা সরকার, আফরিন জাহান মৈত্রী, সৈয়দা ইসরাত আলম স্বর্ণা, অঙ্কিতা দাস, জসিম বাউল প্রমুখ। যন্ত্রসঙ্গীতে ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির সাবেক কালচারাল অফিসার মোঃ আলাউদ্দিন মিয়া, আলী হোসেন, লিয়াকত আলী সরদার, শংকর দাস। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের সহযোগি অধ্যাপক আফরোজ জাহান ঝুমুর।

 

বিবি/ইএম

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা

মাদারীপুরে নজরুলের ১২০তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত

প্রকাশিত : ০৮:২৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০১৯

মাদারীপুরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মজয়ন্তী পালিত হয়েছে। শনিবার (৬ জুলাই) সন্ধা ৭টায় স্থানীয় এমএম হাফিজ মেমোরিয়াল পাবলিক লাইব্রেরিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নজরুল সঙ্গীত শিল্পী পরিষদ মাদারীপুর জেলা শাখা। অনুষ্ঠানে কর্মসূচির মধ্যে ছিলো কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, দেশ বরেণ্য সাম্প্রতিক প্রয়াত কন্ঠশিল্পীদের আত্মার শান্তি কামনায় ১ মিনিট নিরবতা পালন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সুনীল কুমার হালদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মো. মিয়াজ উদ্দিন খান, চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ, মাদারীপুর, বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, উপদেষ্টা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রেজাউল করিম, সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক, উপদেষ্টা ও মাদারীপুর জেলা পরিষদের সদস্য এডভোকেট আবদুল্লাহ-আল-মামুন। এ ছাড়া সম্মানিত অতিথিবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক অধ্যক্ষ সরদার মো. ইদ্রিস আলী খান, চরমুগরিয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক কমলেশ গোস্বামী, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন, নজরুল প্রেমী শরিফ মহিউদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন নজরুল সঙ্গীত শিল্পী পরিষদের সহ-সভাপতি কবি সুবল বিশ্বাস, নির্বাহী সদস্য কেএম হাবিবুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মিয়াজ উদ্দিন খান বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। যার রণসঙ্গীত ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে-সাহস জুগিয়েছে। কবির অসংখ্য লেখায় রয়েছে বাংলা ও বাঙালির চেতনার ফসল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনী জয় বাংলা এসেছে নজরুলের একটি কবিতা থেকে। বঙ্গবন্ধু জয় বাংলাকে মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনী হিসেবে প্রথম উচ্চারণ করে ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন। সুতরাং নজরুলের চেতনা আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিটি বাঙালির বুকে ধারণ করতে হবে। নজরুল চর্চার মাধ্যমে আমাদের আগামী প্রজন্মের কাছে এ বারতা পৌঁছে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না এবং নজরুলও আমাদের জাতীয় কবি হতেন না। বঙ্গবন্ধুই অসুস্থ্য নজরুলকে বাংলাদেশে এনে জাতীয় কবির স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন।’

অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে ছিলো শিশু শিল্পীদের নৃত্যানুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও নজরুল সঙ্গীতের অনুষ্ঠান। কবিতা আবৃত্তি করেন জয়ন্ত মজুমদার। নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুনীল কুমার হালদার, ওয়াজেদ আলী সরদার, সীমা সাহা, নন্দিনী হালদার, শুকলা সরকার, আফরিন জাহান মৈত্রী, সৈয়দা ইসরাত আলম স্বর্ণা, অঙ্কিতা দাস, জসিম বাউল প্রমুখ। যন্ত্রসঙ্গীতে ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির সাবেক কালচারাল অফিসার মোঃ আলাউদ্দিন মিয়া, আলী হোসেন, লিয়াকত আলী সরদার, শংকর দাস। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের সহযোগি অধ্যাপক আফরোজ জাহান ঝুমুর।

 

বিবি/ইএম