ঢাকা রাত ৩:১৪, মঙ্গলবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধুর ভাষণেই জাতি উদ্বুদ্ধ হয়েছিলো: প্রধানমন্ত্রী

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ভাষণ শুনেই জাতি মুক্তিযুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ হয়েছিলো বলে জানিয়েছেন আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ’৭১-এর ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা নিতে এসেছিলেন।

শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইউনেসকো কর্তৃক ৭ মার্চের ভাষণকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ডকুমেন্ট স্বীকৃতি প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যে’র স্বীকৃতি পাওয়ায় নাগরিক কমিটির ব্যানারে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানিরা কখনও চায়নি বাঙালিরা শাসনভার হাতে নিক। ডিসেম্বরের ৭ তারিখ ইলেকশন হয়। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি গেলো কিন্তু তারা ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। বঙ্গবন্ধুর কথায় এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

তিনি বলেন, তখন ৫৬ শতাংশ মানুষ ছিল পূর্ব পাকিস্তানে। কিন্তু বাঙালির কোনো অধিকার ছিলো না। পশ্চিম পাকিস্তানিরা সম্পূর্ণ শোষণ করেছে। তারা আমাদের মাতৃভাষার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল। তখন বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সবাইকে উদ্ধুদ্ধ করে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের জনসভায় যাওয়ার আগমুহূর্তের কথা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, যেদিন রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দিতে আসবেন ওই সময়ের কিছুক্ষণ আগে আমার মা বাবাকে শোবার ঘরে নিয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি একটু বিশ্রাম নাও।’

জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্ধুদ্ধ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। জাগ্রত করেছিলেন বাঙালি জাতিকে। ৭ই মার্চ সেদিন তার নির্দেশনা নিতে লাখ লাখ মানুষ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে এসেছিলেন।

৭ই মার্চের ভাষণের কথা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, জাতির পিতা সেদিন ভাষণ দিয়েছিলেন লাখো মানুষ এসেছিল এখানে (রেসকোর্স ময়দানে)। বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে এখানে এসেছিল তারা।

অনেকেই অনেক লিখিত সিদ্ধান্তের কথা বলছিলেন বাবাকে জনসভায় বলতে। অনেক লিখিত বক্তব্যও হাতে দিয়েছিলেন কেউ কেউ। আমি তখন বাবার মাথায় হাত দিয়ে বুলিয়ে দিচ্ছিলাম। মা তখন বাবাকে বললেন- তুমি দেশের মানুষের জন্য জীবনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছো। অনেকেই অনেক কথা বলবে। কিন্তু তোমার মনে যা আসবে তুমি তাই বলবে। এসব মানুষের ভাগ্য তোমার হাতে।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেনইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সঞ্চালনায় রয়েছেন নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আবদুল আলীম চৌধুরীর কন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী।

দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন। এসময় সেখানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনা।

এর পরপরই জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এ বিভাগের আরও সংবাদ