ঢাকা: গণপরিবহনে যারা যাতায়াত করেন শুধু তারাই এ কষ্টের ভূক্তভোগী। শুধু ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্যই শেষ নয়, অসহনীয় যানজট আর যাত্রী ভোগান্তি নিত্যসঙ্গী। নৈরাজ্যের বিষয়ে সাধারণ মানুষ কোথায় অভিযোগ করবেন, সেটাও কারও জানা নেই। আর অভিযোগ করলেও প্রতিকার পাওয়া নিয়েও মানুষের মধ্যে রয়েছে আস্থার অভাব।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) বলছে, তারা শুধু অভিভাবক সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। অভিভাবক সংস্থা হিসেবে সব বিষয় মনিটরিং করবে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে নৈরাজ্য বন্ধ করা তাদের দায়িত্ব নয়। তবে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দায়িত্ব হলেও সেটি কতুটুক করতে পারছে তারা? সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বলছে, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সরাসরি মন্ত্রণালয়ের নয় বরং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ’রই।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার মতো শহরের গণপরিবহনে শৃঙ্খলার জন্য সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার থাকলে নৈরাজ্য বন্ধ করা সম্ভব। আর যাত্রীরা বলছেন, পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারকে কঠোর হতে হবে। শুধু আইন নয়, আইনের বাস্তব প্রয়োগ করেত মাঠপর্যায়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করতে হবে। তাহলে নৈরাজ্য অনেকটা কমে আসবে।
রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে রামপুরা-কুড়িল হয়ে টঙ্গীর দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। অথচ এ পথে অনাবিল বাসে যাত্রীদের ভাড়া গুনতে হয় ৭০ টাকা। আর বাসে চাপলেই ভাড়া গুনতে হবে ১০-১৫ টাকা। যদিও বিআরটিএ’র নীতিমালা অনুযায়ী ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১ টাকা ৭০ পয়সা হলে এ দূরত্বে ভাড়া হওয়ার কথা ৪৪ টাকা। সেই অনুযায়ী প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি ভাড়া গুনতে হয় যাত্রীদের। এ চিত্র শুধু রাজধানীর এ রুটেই নয়, সবক’টি রুটেরই।
আজিমপুর থেকে কুড়িল বিশ্বরোডের দূরত্ব ১৩ কিলোমিটার। স্মার্ট উইনার বাসে এ দূরত্বে ভাড়া ৪০ -৪৫ টাকা। গণপরিবহন নীতিমালায় এ দূরত্বে ভাড়া হওয়ার কথা ২২ টাকা। অথচ যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে এয়ারপোর্ট-বঙ্গবন্ধু পরিবহনে উঠলেই যাত্রীদের সর্বনিম্ন ভাড়া ১৫ টাকা গুনতে হয়।
লোকাল, সিটিং ও গেটলক সার্ভিসের নামে পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য চালাচ্ছে মালিক-শ্রমিকরা। অভিযোগ রয়েছে, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা ক্ষমতাসীন দলের হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে ঢাকা শহরের পুরো পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে। পরিবহন সেক্টরে ভয়াবহ সিন্ডিকেট থাকায় সরকারও সেখানে অসহায়। কিছু হলেই পরিবহন বন্ধ করে দুর্ভোগ সৃষ্টি করে অচল করে দেয় নগর।
রাজধানী ঢাকার বাসে এ চিত্র হরহামেশা হলেও কোনো প্রতিকার পান না যাত্রীরা। কোনো তদারকি না থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়েই বেশি ভাড়ায় যাতায়াত করেন। এ নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই রাজধানীর গণপরিবহনগুলোতে চালকের সহকারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান যাত্রীরা।
রাজধানীতে চলাচলকারী বিকল্প, মেট্রো, ২৭ নশ্বর ভিআইপি, সূচনা মৈত্রী, মিডওয়ে, এটিসিএল, তরঙ্গ, স্বকল্প, বিকল্প, প্রচেষ্টা, শিকড়, শিখর, ইউনাইটেড ও বিহঙ্গ পরিবহনসহ সব পরিবহনই এখন ‘সিটিং’। সিটিং সার্ভিসের নামে প্রতারণা করছে প্রতিনিয়ত।
এ বিষয়ে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. শিফুন নেওয়াজ বলেন, ঢাকা শহরের আলাদা আলাদা মালিকনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থা বিশৃঙ্খল ও সেটি নিয়ন্ত্রণের অসাধ্য। এর মূল সমস্যা পরিচালনায়। সব গণপরিবহনকে যদি এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা যায়, তাহলে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
এ ব্যাপারে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, আমরা সব পরিবহনকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। সেজন্য ডিটিসিএ অভিভাবকের ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য হলে সেটি বিআরটিএ দেখার কথা।
বিজনেস বাংলাদেশ-/ এমএ


























