ময়মনসিংহের গৌরীপুরে যৌন হয়রানিতে বাঁধা দেয়ায় ডক্টর এম.আর করিম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী পাপিয়া সুলতানা হাসিকে বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই/১৯) প্রাইভেটে যাওয়ার সময় ছুরিকাঘাতের শিকার হয়। সে অচিন্তপুর ইউনিয়নের চড়াকোনা গামের আবুল হাসিমের পুত্র। তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
এ দিকে ঘটনার প্রতিবাদে ডক্টর এম.আর করিম উচ্চ বিদ্যালয়ের বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীরা গৌরীপুর-শাহগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে। জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শ্লোগান ও প্লেকার্ড প্রদর্শন করে। খবর পেয়ে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল ইসলাম মিয়া ও ওসি (তদন্ত) গোলাম মাওলা অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতিতে অবরোধ প্রত্যাহার। ফলে প্রায় দুই ঘন্টাপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ভিকটিম, এলাকাবাসী ও স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে পাপিয়া সুলতানা হাসি বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়ার জন্য আসার পথে চড়াকোনা ব্রিজের সন্নিকটে জহিরুল ইসলাম (৪২) গতিরোধ করে। জহিরুল একই এলাকার শমসের আলীর পুত্র। সকালে সাড়ে ৬টায় জহিরুল তার অপর এক সহযোগীকে নিয়ে ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানি করার চেষ্টা করলে বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হলে ওই ছাত্রীর পেটে ছুরিকাঘাত করে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
এ দিকে সহপাঠীকে ছুরিকঘাতের খবরটি বিদ্যালয়ে পৌঁছলে ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষুব্দ হয়ে উঠে। একদল শিক্ষার্থী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও গ্রেফতারের দাবিতে গৌরীপুর-শাহগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও বিচারের দাবিতে সমাবেশ করে। অপরদিকে বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীদের আরেকটি গ্রুপ যৌন হয়রানিকারক জহিরুল ইসলামের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালায়।
এদিকে স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একমত পোষন করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ সুলতানা জনি। তিনিও ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অপরদিকে জহিরুল ইসলাম এলাকায় এক যৌন হয়রানিকারী হিসাবে স্বীকৃত। এরপূর্বেও একাধিক নারী ও ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় শাসিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও একই বিদ্যালয়ের আরেক ছাত্রীর সঙ্গে যৌন হয়রানির দায়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতারও করেছিলো। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জহিরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, আমি এখন চট্টগ্রামে আছি! সকল ঘটনাই সাজানো।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম




















