ডেঙ্গু ওদের ইঞ্জিনিয়ার ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভতি হওয়ার স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দিয়েছে। অনেক আশা নিয়ে ওরা ঢাকা গিয়েছিল কোচিং করতে। কোচিং করা অবস্থায় ঘাতক ডেঙ্গু ওদের আক্রমন করে। অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে ভর্তি হয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে। রমেক হাসপাতালে মেডিসিন ওয়ার্ডের দুটি পৃথক ইউনিট ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শুক্রবার সকালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও তার স্বজন ও হাসপাতালের পরিচালকের সাথে কথা বলে জানাগেছে এসব রোগীর অধিকাংশই শিক্ষার্থী। তারা ঢাকায় গিয়েছিল কোচিং অথবা চাকরির সন্ধানে। সেখানেই মহামারী ঙ্গেুতে আক্রান্ত হন তারা।
রংপুর নগরীর গণেশপুর এলাকার সাব রেজিস্টার শংকর রায়ের পুত্র স্বাগত রায় (২০) ইঞ্জিনিয়ারিং কোচিং করতে দুমাস আগে ঢাকায় গিয়েছিল। ফার্মগেটের একটি মেসে থাকত। গত ২১ জুলাই ঢাকাতে তার ডেঙ্গু ধরা পরে। পরদিনই রংপুরে চলে আসেন এবং ভর্তি হন রমেক হাসপাতালে। হাসপাতালে কথা হয় তার সাথে।
স্বাগত জানায়, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য অনেক আশা নিয়ে ঢাকা গিয়েছিলাম। প্রস্তুতিও ভাল ছিল। কিন্তু ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ায় আমার সব স্বপ্ন অংকুরেই বিনিষ্ট হয়ে গেল। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বলদিপুকুর এলাকার আবিদ বিন আহসানও ইঞ্জিনিয়ারিং কোচিংয়ের জন্য ঢাকা গিয়েছিল। থাকতেন একটি মেসে। গত ১৯ জুলাই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। ২৩ জুলাই রমেক হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে সে অনেকটা সুস্থের পথে। আবিদও স্বদেশের মত হতাশ কন্ঠে বলেন আমার হয়তো আর ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া হবে না। আবিদের বাবা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সামিউল আহসান বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে আবিদকে ঢাকায় পাঠিয়েছিলাম কোচিংয়ের জন্য। ডেঙ্গু আমাদের সব স্বপ্ন তছনছ করে দিল। হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা কেমন এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন স্যালাইন হাসপাতাল থেকে দিচ্ছে। অন্যান্য ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
রংপুরের মাহিগঞ্জের প্রণয় চন্দ্র সরকারও ইঞ্জিনিয়ারিং কোচিংয়ের জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে ২১ জুলাই রমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়। প্রণয়ের কৃষিজীবী পিতা অনন্ত চন্দ্র সরকার ও মা বুলবুলি রাণী জানান, ডেঙ্গু তাদের সব আশা ভরসা শেষ করে দিয়েছে। ছেলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারলেই তাদের স্বস্থি। পঞ্চগড় জেলার দেবিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আতাউর রহমানের পুত্র আতিকুর রহমান কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করেছে। কুষ্টিয়া থেকে চাকরির সন্ধানে ১২ জুন ঢাকায় যান। চাকরির ইন্টারভিউ দিয়ে কুষ্টিয়া ফিরে আসেন। সেখানে জ্বর হলে পরীক্ষায় ধরা পড়ে সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। সাথে সাথে বাড়ি চলে আসে। সেখান থেকে ২২ জুলাই রমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়। সে অনেকটাই সুস্থ। তিনি বলেন, মশা বাহিত এই রোগ দমন করা না গেলে ঢাকা শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। সরকারের উচিত এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। তার পিতা আতাউর রহমান বলেন, অনেক কষ্ট করে ছেলেকে লেখাপড়া করিয়েছি। ঢাকায় চাকরির সন্ধানে গিয়ে আজ তার প্রাণ শঙ্কায় রয়েছে। তিনিও জরুরী ভিত্তিতে ডেঙ্গুর বরিুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
এবিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের পরিচালক ডাঃ সুলতান আহমেদ বলেন, রংপুরে স্থায়ীভাবে কোন ডেঙ্গু রোগী নেই। তবে ঢাকা থেকে ডেঙ্গু রোগী আসছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ী ফিরছে। বর্তমানে হাসপাতালে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদের সবাই আশঙ্কামুক্ত বলা যায়। এদিকে মশক নিধন, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধসহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিকরণে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীতে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র মাহমুদুর রহমান টিটু বলেন, আমরা মশক নিধনে প্রস্তুত রয়েছি। আমাদের কর্মীরা কাজে নেমেছে। মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘর-বাড়ি এবং আশপাশের যেকোন জায়গায় জমে থাকা পানি ৩ দিন পরপর ফেলে দিলে এডিস মশার লার্বা মরে যাবে এ ধরণের প্রচারণা চালাচ্ছি।
বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম






















