ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় মাদ্রাসা ছাত্র মোশাররফ (১০) (Acute kidny. failore) রোগে আক্রান্ত। আকস্মিক ভাবে সে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। যে কারনে, তার দুটি কিডনি কোন কাজ করছে না।
মোশাররফ উপজেলার ৬নং চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের চর হরিপুর গ্রামের অটোচালক জালাল উদ্দিনের ছেলে। সে শম্ভুগঞ্জ রঘুরামপুর এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিক (রাঃ) মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের ছাত্রছাত্রী ।
জালাল উদ্দিনের প্রতিবেশি সোহাগ মিয়া বলেন, এলাকার সকল মানুষ মোশাররফকে বাঁচানোর জন্য প্রাণ-পনে চেষ্টা করছে। যে যেভাবে পারছে সহায়তা করছে। আমরা স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে টাকা সংগ্রহ করছি।
সোহাগ মিয়া আরও বলেন, মোশাররফের খেলার সাথীরা প্রত্যকদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই গলায় হাত মাইক ঝুলিয়ে বলছে, আমাদের খেলার সাথী মোশাররফকে বাঁচাতে সহায়তা করুন, তার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। এ ভাবেই মাস খানেক যাবত গ্রামের বিভিন্ন মোড়ে ঘুরে মোশাররফের খেলার সাথীরা টাকা সংগ্রহ করছে মোশাররফকে বাঁচাতে।
মোশাররফের এক খেলার সাথী ৯ বছরের শিশু অনিক মিয়া বলেন, মোশাররফ যতদিন ভাল না হবে। ততদিন আমরা এভাবে টাকা তুলব। আমরা আবার একসাথে খেলাধুলা করব। আপনার মোশাররফের জন্য দোয়া করবেন। সে যেন ভাল হয়ে বাড়ি ফিরে।
এলাকার যুবকরা যে যেভাবে পারছে সহায়তা করছে। তার পাশাপাশি রাস্তায় দাড়িয়ে মানুষের কাছে হাত পেতে টাকা চাইছে। এমনকি মসজিদের মাইকেও মোশাররফকে বাঁচাতে সহায়তা চাইছে তারা।
প্রতিবেশি মহিলারা প্রত্যকদিন তাদের ঘরে মুষ্ঠি মুষ্ঠি চাউল জমা করে। এভাবেই সপ্তাহ খানেক চাউল জমিয়ে বিক্রি করে মোশাররফের চিকিৎসার জন্য টাকা দিচ্ছেন।
এমনিই এক মহিলার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, মোশাররফের মত আমারও একটা ছেলে আছে। আজ যদি এই রোগ মোশাররফের না হয়ে আমার ছেলের হতো তাহলে কি মানুষ আমাকে সহায়তা করতো না। এ কথা বলেই তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। আর বলেন, মোশাররফকে বাঁচাতে আপনারা সকলেই সহায়তা করেন।
মোশাররফের বাবা জালাল উদ্দিন বলেন, আজ থেকে প্রায় তিন মাস আগে মাদ্রাসা থেকে খবর আসে মোশাররফ অসুস্থ্য। বাড়িতে আনার পর তার কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। হঠাৎ করে ভয় পাওয়া, চিৎকার করা, হাত-পা এদিক ওদিক ছড়াতে থাকে।
চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রথমে কোন রোগ ধরা পড়েনি। এভাবে দুই মাস বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষা করার পর জানতে পারি। আমার ছেলের দুটি কিডনি অকেজো হয়ে গেছে।
পরে ময়মনসিংহ মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে ১১ দিন চিকিৎসা করার পর চিকিৎসকরা মোশাররফকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে রেফার্ড করে। এখানে ১৩ দিন যাবত মোশাররফের চিকিৎসা করাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, অটো চালিয়ে আমার সংসার চলে। এখন দৈনিক ছেলের চিকিৎসা বাবদ ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়। আমি গরিব মানুষ। আমার পক্ষে দৈনিক এত টাকা খরচ সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি সরকারের সহায়তা কামনা করে বলেন, দেশের অনেক মানুষকে সরকার চিকিৎসা করাতে সহায়তা করছে। আমিও আমার ছেলেকে বাঁচানোর জন্য সরকারের সহায়তা কামনা করছি। এ ছাড়াও তিনি সমাজের বিত্তবানদের কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য সহায়তা চেয়েছেন।
ডাক্তার বলছে, মোশাররফ (Acute kidny failore) রোগে আক্রান্ত। আকস্মিক ভাবে সে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। যে কারনে, তার দুটি কিডনি কোন কাজ করছে না।
ফলে তার শরীরে অতিরিক্ত বজ্র পদার্থ ও পানি জমে যাচ্ছে এবং শিশুটির অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে যাচ্ছে।
এই মুহুর্তে অতি তাড়াতাড়ি কিডনির বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে শিশুর শরীর থেকে বজ্র নিস্কাশন করা জরুরী। নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিস করাতে পারলে। মোশাররফকে বাঁচানো সম্ভব।
জালাল উদ্দিন সমাজের বিত্তবানদের কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য সহায়তা আবেদন করেছেন। (জালাল উদ্দিন-০১৭৫৮-১৪২৮২৪)
(বিকাশ পার্সোনাল-০১৮২৪-৩৪১৯৭৫)
বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম






















