সশস্ত্র বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সীমন্তরক্ষা বাহিনীর যে সদস্যরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তারাও ভাতা পাবেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকেই এই ভাতা প্রযোজ্য হবে।
মঙ্গলবার সশস্ত্র দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা/তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিকালীন সেনা/নৌ/বিমান বাহিনী পদক ও অসামান্য সেবা পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের পদক প্রদান অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের প্রায় সবাই এখন অবসরে চলে গেছেন। অনেকের পরিবার বেশ কষ্টে আছেন। আমরা সেজন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাহিনীতে যারা ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন, সেই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোর ভাতার ব্যবস্থা আমরা করবো।
মুক্তিযোদ্ধা ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবনমানের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা নয়শ টাকা থেকে পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে দশ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ভাতাভোগীর সংখ্যা এক লাখ থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৬৭৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে বাড়ানো হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠদের ভাতা ৩০ হাজার টাকা, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্তদের জন্য ২৫ হাজার টাকা, বীর বিক্রমদের জন্য ২০ হাজার এবং বীর প্রতীকদের ভাতা ১৫ হাজার টাকায় টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন বাহিনীতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের আগে কর্মরত অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পর তারা পুনরায় বাংলাদেশের নিয়মিত বাহিনীতে যোগ দেয়ায় কোনো ভাতা পাননি, যদিও বাকি মুক্তিযোদ্ধারা নির্দিষ্ট হারে ভাতা পেয়ে আসছেন। এ কারণে তাদের ভাতা দিতে বিভিন্ন সময়ে দাবি জানানো হাচ্ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।
এছাড়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের মাসিক সম্মানী ভাতা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫ হাজার টাকা করার কথাও শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য শিক্ষা ভাতা, কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে বিবাহ ভাতা, উৎসব ভাতা, দেশে বিদেশে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা সরকার দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সরকার মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোর মর্যাদা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করে। বাংলাদেশ প্রতিবছর এ দিনটি পালন করে সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে।
১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহপরিবারে নিহত হওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ আগস্টের কালো দিন যদি না আসতো তবে স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতো।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসক কখনো মুছে ফেলা যায় না। ইতিহাস ঠিক তার স্থান করে নেয়। এটা আরেকবার প্রমাণ হয় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর। সেময় দেশে শুধু উন্নয়ন হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান।
দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।






















