১২:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ঈদ উপলক্ষে নতুন ছুড়ি, দা, কাঁচি বানানোর হিড়িক

কলাপাড়ায় আসন্ন ঈদ-উল-আযহাকে কেন্দ্র করে কোরবানিতে পশুজবাই হবে, দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা। পোড়া কয়লার গন্ধ, হাপরের হাঁসফাঁস, আগুনের শিখা আর হাতুরের টুংটাং শব্দে তৈরি হচ্ছে চকচকে ধারালো দা, বঁটি,চাপাতি, ছুরি,বঁটিসহ নিমেষেই মাংস কাটার নানা উপকরণ। শহর থেকে শুরু করে গ্রামসহ সবখানেই কামাররা ব্যস্ত নতুন দা, ছুরি,বঁটি বানানোর কাজে। আবার চলছে পুরানোগুলে শাণ দেওয়ার কাজ। তাই দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের। সারা বছর অলস সময় পার করলেও এখন কামাররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কলাপাড়ায় বিভিন্ন কামারদের দোকানে কোরবানির পশু কাটা ছেরার জন্য পরিবারের ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত সব দা, ছুরি,বটি শাণ দেওয়ার জন্য নিয়ে আসছে কামারদের কাছে। ফলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কামারদের বিরামহীন ব্যস্ততা। কামারদের দোকানে ক্রেতারা বসে আছেন প্রয়োজনীয় নতুন-পুরানো সামগ্রী নেওয়ার অপেক্ষায়।

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ক্রেতা মো. আতাহার আলী জানান, অন্য সময়ের চেয়ে দোকানে কর্মচারীদের সংখ্যাও বেড়েছে। আগের বছররের তুলনায় এবছর কোরবানী দেওয়ার জিনিসপত্রের দাম একটু বেশি। স্থানীয় নতুন বাজারস্থ কামারপট্টির দোকানী রতন কর্মকার জানান, লোহা পোড়ানোর কয়লা আমাদের প্রধান উপকরণ। বর্তমানে কয়লার দাম অনেক বেড়ে গেছে। ১০ কেজি ওজনের কয়লা কিনতে হয় চারশত টাকা দিয়ে। সাধারনত স্প্রিং লোহা ও কাচা লোহা এই দুই ধরনের লোহা ব্যবহার হয় এসব উপকরন তৈরি করার কাজে। আর কাচা লোহা দিয়ে উপকরণ তৈরি করলে দাম একটু কম। স্প্রিং লোহার তৈরি উপকরণের মান ভালো, দামও একটু বেশি। স্প্রিং লোহা প্রতি কেজি চারশ থেকে ৬শ’ টাকা, নরমাল লোহা ২শ’ থেকে-৩শ’ টাকা। পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুড়ি প্রকার ভেদে ১শ’ থেকে ২শ’ টাকা, ধামা, ৫শ’ থেদে ৬শ’ টাকা, দা ১শ’ পঞ্চাশ থেকে ৩শ’ পঞ্চাশ টাকা, বঁটি ২শ’ থেকে ৪শ’ টাকা, চাপাতি ৫শ’ থেকে ১হাজার ৫শ’ টাকা বিক্রি হয়। পুরানোগুলো মেরামতের জন্য কাজের ধরন হিসাবে দাম নেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বঙ্কিম শীল ছোট্ট একটি সাইকেলের আদলে সানদেয়ার যন্ত্র কাঁধে নিয়ে পৌর শহর, বিভিন্ন প্রাম ও পাড়া, মহল্লায় গিয়ে পুরানো দা,বঁটি, ছুরি সান দেয়ার জন্য হাকডাক দিয়ে পরিবারের লোকজনের মনোযোগ আর্কষন করছেন।

বিক্রেতা গৌতম কর্মকার জানান, কোরবানীর ঈদ আসার এক মাস আগেই আমাদের বেচা-কেনা বেড়ে যায়। চায়না কোম্পানীর বিভিন্ন উপকরণ বাজারে আসায় ক্রেতাদের দেশীয় উপকরণ কম বিক্রী হওয়ায় বেচা-কেনা গতবছরের চেয়ে কম। এর উপর কর্মচারিদের মজুরী, লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ একটু কম। তবে এভাবেও বেচা-বিক্রি থাকলে ছেলে মেয়েদের লেখা-পড়ার খরচ ও সংসারের খরচ মিটিয়ে মোটা মুটি ভালোভাবে চলা যাবে।

বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দুই মাস পর তেহরান থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট ফের চালু

ঈদ উপলক্ষে নতুন ছুড়ি, দা, কাঁচি বানানোর হিড়িক

প্রকাশিত : ০৩:৪২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অগাস্ট ২০১৯

কলাপাড়ায় আসন্ন ঈদ-উল-আযহাকে কেন্দ্র করে কোরবানিতে পশুজবাই হবে, দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা। পোড়া কয়লার গন্ধ, হাপরের হাঁসফাঁস, আগুনের শিখা আর হাতুরের টুংটাং শব্দে তৈরি হচ্ছে চকচকে ধারালো দা, বঁটি,চাপাতি, ছুরি,বঁটিসহ নিমেষেই মাংস কাটার নানা উপকরণ। শহর থেকে শুরু করে গ্রামসহ সবখানেই কামাররা ব্যস্ত নতুন দা, ছুরি,বঁটি বানানোর কাজে। আবার চলছে পুরানোগুলে শাণ দেওয়ার কাজ। তাই দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের। সারা বছর অলস সময় পার করলেও এখন কামাররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কলাপাড়ায় বিভিন্ন কামারদের দোকানে কোরবানির পশু কাটা ছেরার জন্য পরিবারের ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত সব দা, ছুরি,বটি শাণ দেওয়ার জন্য নিয়ে আসছে কামারদের কাছে। ফলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কামারদের বিরামহীন ব্যস্ততা। কামারদের দোকানে ক্রেতারা বসে আছেন প্রয়োজনীয় নতুন-পুরানো সামগ্রী নেওয়ার অপেক্ষায়।

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ক্রেতা মো. আতাহার আলী জানান, অন্য সময়ের চেয়ে দোকানে কর্মচারীদের সংখ্যাও বেড়েছে। আগের বছররের তুলনায় এবছর কোরবানী দেওয়ার জিনিসপত্রের দাম একটু বেশি। স্থানীয় নতুন বাজারস্থ কামারপট্টির দোকানী রতন কর্মকার জানান, লোহা পোড়ানোর কয়লা আমাদের প্রধান উপকরণ। বর্তমানে কয়লার দাম অনেক বেড়ে গেছে। ১০ কেজি ওজনের কয়লা কিনতে হয় চারশত টাকা দিয়ে। সাধারনত স্প্রিং লোহা ও কাচা লোহা এই দুই ধরনের লোহা ব্যবহার হয় এসব উপকরন তৈরি করার কাজে। আর কাচা লোহা দিয়ে উপকরণ তৈরি করলে দাম একটু কম। স্প্রিং লোহার তৈরি উপকরণের মান ভালো, দামও একটু বেশি। স্প্রিং লোহা প্রতি কেজি চারশ থেকে ৬শ’ টাকা, নরমাল লোহা ২শ’ থেকে-৩শ’ টাকা। পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুড়ি প্রকার ভেদে ১শ’ থেকে ২শ’ টাকা, ধামা, ৫শ’ থেদে ৬শ’ টাকা, দা ১শ’ পঞ্চাশ থেকে ৩শ’ পঞ্চাশ টাকা, বঁটি ২শ’ থেকে ৪শ’ টাকা, চাপাতি ৫শ’ থেকে ১হাজার ৫শ’ টাকা বিক্রি হয়। পুরানোগুলো মেরামতের জন্য কাজের ধরন হিসাবে দাম নেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বঙ্কিম শীল ছোট্ট একটি সাইকেলের আদলে সানদেয়ার যন্ত্র কাঁধে নিয়ে পৌর শহর, বিভিন্ন প্রাম ও পাড়া, মহল্লায় গিয়ে পুরানো দা,বঁটি, ছুরি সান দেয়ার জন্য হাকডাক দিয়ে পরিবারের লোকজনের মনোযোগ আর্কষন করছেন।

বিক্রেতা গৌতম কর্মকার জানান, কোরবানীর ঈদ আসার এক মাস আগেই আমাদের বেচা-কেনা বেড়ে যায়। চায়না কোম্পানীর বিভিন্ন উপকরণ বাজারে আসায় ক্রেতাদের দেশীয় উপকরণ কম বিক্রী হওয়ায় বেচা-কেনা গতবছরের চেয়ে কম। এর উপর কর্মচারিদের মজুরী, লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ একটু কম। তবে এভাবেও বেচা-বিক্রি থাকলে ছেলে মেয়েদের লেখা-পড়ার খরচ ও সংসারের খরচ মিটিয়ে মোটা মুটি ভালোভাবে চলা যাবে।

বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম