পুঁজির অভাব ও দাম না থাকায় কোরবানীতে এবার জবাইকৃত পশুর এক চতুর্থাংশ চামড়াও সংগ্রহ করতে পারেনি উত্তরবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার দিনাজপুরের রামনগর চামড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা। তবে প্রতিবার লোকসান আর ট্যানারী মালিকদের কাছে কোটি কোটি টাকা বকেয়া থাকার পর যেটুকু চামড়া তারা সংগ্রহ করেছে, বানিজ্য মন্ত্রানালয়ের সিন্ধান্তে তা নিয়ে এবার আশার আলো দেখছেন এই বাজারের ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি বাজারে না আসা চামড়া সিমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের আশংকাও করছেন তারা।
দিনাজপুর প্রাণীসম্পদ বিভাগের হিসাব মতে দিনাজপুরে এবার ১লক্ষ ৮০হাজার ৫শত পশু কোরবানী দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃশাহিনুর আলম জানান জবাই কৃত এসব পশুর মধ্যে ৮২হাজার ৪শত গরু এবং ২৬হাজার ১শত ছাগল। কিন্তু উত্তর বঙ্গের ২য় বৃহত্তম চামড়ার বাজার দিনাজপুর শহরের রামনগর এলাকার ব্যবসায়ীরা এবার কোরবানীতে চামড়া সংগ্রহ করেছে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫হাজার। তবে রামনগর চামড়া মালিক ব্যবসায়ী সভাপতি জুলফিকা আলী স্বপন জানান, বিগত কয়েক বছর থেকে প্রাণী মালিকদের কাছে তাদের কোটি কোটি টাকা বকেয়া পরে রয়েছে। প্রাণী মালিকরা বকেয়া টাকা না দেওয়ার কারণে তারা পুজিঁ সংকটে রয়েছেন। এজন্য কাংক্ষিত চামড়া সংগ্রহ করতে পারেননি। তাছাড়া সরকারের বেধে দেওয়া দামে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করতে পারেনি তারা। তিনি জানান সরকার ঢাকার বাহিরে প্রতি বর্গফুট লবন যুক্ত চামড়া নিদ্ধারন করেছেন মাত্র ৩৫ থেকে৪০ টাকা। পাশাপাশি ১টি চামড়া তাদের পরিস্কার করতে মুজুরি খরচ হয় লবন ও ভাড়া সহ ২৫০ থেকে ৩০০টাকা। এতে চামড়া ক্রয় করতে দুস্কর হয়ে পরে। তিনি জানান, উপযুক্ত দাম না পেলে এই চামড়া সিমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের আশংকা রয়েছে। চামড়া যাতে সিমান্ত এলাকা দিয়ে পাচার না হতে পারে এ ব্যপারে সিমান্ত রক্ষীদের কড়া নজরদারীর দাবী জানান। বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। অপরদিকে দিনাজপুর রামনগর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি তৈয়ব উদ্দিন চৌধুরী জানান, হাজারীবাগ থেকে ট্যনারী শিল্পকে সরানোর পর সাভারে এখনোও ট্যনারী শিল্প গুলো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একারণেই চামড়া ব্যবসায়ে মরক ধরেছে। এটি কেটে উঠতে আরোও ৪ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে। এদিকে দিনাজপুরে এবার পানির দামে চামড়া বেচা কেনা হওয়ায় চামড়া ব্যবসায়িদের সিন্ডিকেট বলে দাবী করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়িরা। এতে মারাত্বক ভাবে লোকসানের মুখে পরে পুজি হারিয়েছেন তারা। উল্লেখ্য দিনাজপুরে এবার প্রতি পিচ গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে সরবোচ্চ ২শত টাকায়। আর ছাগলের চামড়া প্রতি পিচ বিক্রি হয়েছে ৮ থেকে ১০টাকায়।
বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম























