০৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

নরসিংদীতে আমন ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক

নরসিংদী জেলার সদরসহ ছয়টি উপজেলায় বর্তমানে আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আষাঢ়ের অনাবৃষ্টির কারণে আমনের আবাদ নিয়ে বিপাকে পরেছিল চাষিরা।
তবে শ্রাবণ মাসের শুরু থেকে ভাদ্র মাসের প্রথম পর্যন্ত কাক্সিক্ষত বৃষ্টির দেখা মিলেছে এই জেলায়। শ্রাবণের বর্ষায় আকাশের ভারী বর্ষণ পেয়ে আমন চাষাবাদের এই ভরা মৌসুমে বুক ভরা আশা নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন চাষিরা।

আর আমনের জমিতে চাষাবাদেই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এই জেলার কৃষক কৃষাণীরা। তবে এক সঙ্গে জমি চাষাবাদের কারণে বেড়েছে গেছে শ্রমিকের মজুরি।

এই নিয়ে কিছু কিছু কৃষকের মধ্য রয়েছে কিছুটা হতাশাও। কৃষক বকুল মিয়া বলেন, শ্রমিকের মজুরি দিগুণ দিতে হচ্ছে। আগে বিঘা মজুরি ৬০০ টাকা হলে ও এখন ১২০০ টাকা দিতে হচ্ছে।

কৃষক ফজুল মিয়া বলেন, আষাঢ়ের বৃষ্টির অপেক্ষায় থেকে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি দিয়ে জমি প্রস্তুত করেছিলাম। এরপরই শুরু হয় বৃষ্টি। শুধু শুধু বাড়তি খরচ গুণতে হল।

এ বছর আমনের আবাদে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৫-৬ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। তবে অনাবৃষ্টির হলে খরচ আরও বেশি হবে বলে তার ধারণা। শ্রমিক সুরুজ মিয়া বলেন, তার দলে ৭ জন শ্রমিক আছে। হঠাৎ বৃষ্টিতে কাজের চাপ বেড়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ১২০০ টাকা চুক্তিতে তারা চারা রোপণ করে থাকে।

এদিকে আগামী অল্প কিছু দিনের মধ্যেই আমন রোপণের জেলার সকল জমিতে কাজ শেষ হবে বলে জানান কৃষকরা।

নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শুভন কুমার দত্ত জানান, নরসিংদী জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ৪১ হাজার ৫৭৬ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ।

এখন পর্যন্ত জেলার প্রায় ৭৫ ভাগে ৩১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আমনের চারা রোপণ হয়েছে। বাকি ২৫ ভাগ আসছে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের ৫-৬ তারিখের মধ্যে আমনের চারা রোপণের কাজ সম্পূর্ণ করতে পারবে কৃষকরা বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

আমন ধান কৃষকের ঘরে না ওঠা পর্যন্ত জেলার সব উপজেলায় আমাদের কৃষি অধিদপ্তরের লোকজন কৃষকদের তদারকির জন্য মাঠে থাকবে।

এদিকে আমন ধান ঘরে ওঠা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিপর্যয় না হলে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে এই জেলায়।

বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দিনাজপুরে রঙ পেন্সিল আর্ট একাডেমির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

নরসিংদীতে আমন ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক

প্রকাশিত : ০৮:৫৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নরসিংদী জেলার সদরসহ ছয়টি উপজেলায় বর্তমানে আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আষাঢ়ের অনাবৃষ্টির কারণে আমনের আবাদ নিয়ে বিপাকে পরেছিল চাষিরা।
তবে শ্রাবণ মাসের শুরু থেকে ভাদ্র মাসের প্রথম পর্যন্ত কাক্সিক্ষত বৃষ্টির দেখা মিলেছে এই জেলায়। শ্রাবণের বর্ষায় আকাশের ভারী বর্ষণ পেয়ে আমন চাষাবাদের এই ভরা মৌসুমে বুক ভরা আশা নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন চাষিরা।

আর আমনের জমিতে চাষাবাদেই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এই জেলার কৃষক কৃষাণীরা। তবে এক সঙ্গে জমি চাষাবাদের কারণে বেড়েছে গেছে শ্রমিকের মজুরি।

এই নিয়ে কিছু কিছু কৃষকের মধ্য রয়েছে কিছুটা হতাশাও। কৃষক বকুল মিয়া বলেন, শ্রমিকের মজুরি দিগুণ দিতে হচ্ছে। আগে বিঘা মজুরি ৬০০ টাকা হলে ও এখন ১২০০ টাকা দিতে হচ্ছে।

কৃষক ফজুল মিয়া বলেন, আষাঢ়ের বৃষ্টির অপেক্ষায় থেকে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি দিয়ে জমি প্রস্তুত করেছিলাম। এরপরই শুরু হয় বৃষ্টি। শুধু শুধু বাড়তি খরচ গুণতে হল।

এ বছর আমনের আবাদে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৫-৬ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। তবে অনাবৃষ্টির হলে খরচ আরও বেশি হবে বলে তার ধারণা। শ্রমিক সুরুজ মিয়া বলেন, তার দলে ৭ জন শ্রমিক আছে। হঠাৎ বৃষ্টিতে কাজের চাপ বেড়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ১২০০ টাকা চুক্তিতে তারা চারা রোপণ করে থাকে।

এদিকে আগামী অল্প কিছু দিনের মধ্যেই আমন রোপণের জেলার সকল জমিতে কাজ শেষ হবে বলে জানান কৃষকরা।

নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শুভন কুমার দত্ত জানান, নরসিংদী জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ৪১ হাজার ৫৭৬ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ।

এখন পর্যন্ত জেলার প্রায় ৭৫ ভাগে ৩১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আমনের চারা রোপণ হয়েছে। বাকি ২৫ ভাগ আসছে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের ৫-৬ তারিখের মধ্যে আমনের চারা রোপণের কাজ সম্পূর্ণ করতে পারবে কৃষকরা বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

আমন ধান কৃষকের ঘরে না ওঠা পর্যন্ত জেলার সব উপজেলায় আমাদের কৃষি অধিদপ্তরের লোকজন কৃষকদের তদারকির জন্য মাঠে থাকবে।

এদিকে আমন ধান ঘরে ওঠা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিপর্যয় না হলে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে এই জেলায়।

বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম