০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মুজিববর্ষে বৈদ্যুতিক পেশায় প্রশিক্ষণ পাবে ১৪ হাজার মানুষ

বৈদ্যুতিক কর্ম পেশায় দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে মুজিববর্ষে (২০২০-২১) দেশের ১৪ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেবে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ জন্য বৃহস্পতিবার সচিবালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব আহমেদ কায়কাউস, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মোছা. মাকছুদা খাতুন বলেন, এ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বল্প শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে গড়ে তোলা। ‘রূপকল্প-২০৪১’ অনুযায়ী উন্নত দেশ গঠনের কর্মকাণ্ডে মানুষকে সম্পৃক্ত করা এবং শ্রমশক্তি রফতানি বাড়াতে শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করাও এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রশিক্ষণের জন্য দুটি কোর্স রয়েছে। একটি রেগুলার ইলেকট্রিশিয়ান অপরটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেকট্রিশিয়ান কোর্স। রেগুলার ইলেকট্রিশিয়ান কোর্সে যারা দক্ষতার পরিচয় দেবে তাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেকট্রিশিয়ান কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচন করা হবে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেকট্রিশিয়ান কোর্সে বিদেশি ভাষার ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলেও জানান অতিরিক্ত সচিব। তিনি আরও জানান, মুজিববর্ষে ১৪ হাজার লোককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণের মেয়াদ দুই মাস। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘এই উদ্যোগের মাধ্যমে কোনো মানুষ নিজের এলাকায় বসে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। প্রশিক্ষণের পর আশা করি কাউন্সিলিং শুরু হবে, যে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা কি করতে পারেন। আশা করি দুই মাসের এ প্রশিক্ষণ নিয়ে সবাই লাভবান হবেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের সাফল্যের পেছনে প্রশিক্ষণ একটি বড় জায়গা দখল করে আছে। যারা মাঠ পর্যায়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ক্ষেত্রে কাজ করবেন তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণের দরকার রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ জনগোষ্ঠী দরকার।

যারা ভবিষ্যতে সোনার বাংলাদেশ নির্মাণ করবেন তাদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনার বীজ বপনের জন্য সেবাবর্ষ তৈরি করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে। আশা করি আপনারা এটা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন।’ নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমরা বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে একটা বড় প্রকল্প নিয়েছি। প্রায় ২৫ একর জমির উপর পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট নির্মাণ করতে যাচ্ছি। আমরা সরকারের কাছে অতিরিক্ত অর্থ না চেয়ে উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে সেখানে অর্থায়ন করতে পারি। সেখানে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের জায়গা তৈরি হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব বলেন, ‘এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হচ্ছে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়াশ। এখানে বৈদ্যুতিক খাতে বিদেশ থেকে লোক আনা হয়, এখানে প্রশিক্ষিত জনশক্তি থাকলে বিদেশ থেকে আনার প্রয়োজন হত না। জ্বালানি বিভাগের সচিব বলেন, ‘আমাদের জনশক্তি রয়েছে, কিন্তু আমাদের প্রয়োজন সুদক্ষ জনশক্তি।

প্রশিক্ষণের জন্য যাতে সিলেকশনটা ঠিক মতো হয়। যাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হল তিনি যাতে প্রশিক্ষণ নিয়ে এ পেশায় থাকেন। প্রশিক্ষণের পর ট্যাক করতে হবে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সহযোগিতা করতে হবে।’

 

বিজনেস বাংলাদেশ/শ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

মুজিববর্ষে বৈদ্যুতিক পেশায় প্রশিক্ষণ পাবে ১৪ হাজার মানুষ

প্রকাশিত : ০৮:২৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বৈদ্যুতিক কর্ম পেশায় দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে মুজিববর্ষে (২০২০-২১) দেশের ১৪ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেবে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ জন্য বৃহস্পতিবার সচিবালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব আহমেদ কায়কাউস, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মোছা. মাকছুদা খাতুন বলেন, এ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বল্প শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে গড়ে তোলা। ‘রূপকল্প-২০৪১’ অনুযায়ী উন্নত দেশ গঠনের কর্মকাণ্ডে মানুষকে সম্পৃক্ত করা এবং শ্রমশক্তি রফতানি বাড়াতে শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করাও এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রশিক্ষণের জন্য দুটি কোর্স রয়েছে। একটি রেগুলার ইলেকট্রিশিয়ান অপরটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেকট্রিশিয়ান কোর্স। রেগুলার ইলেকট্রিশিয়ান কোর্সে যারা দক্ষতার পরিচয় দেবে তাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেকট্রিশিয়ান কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচন করা হবে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেকট্রিশিয়ান কোর্সে বিদেশি ভাষার ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলেও জানান অতিরিক্ত সচিব। তিনি আরও জানান, মুজিববর্ষে ১৪ হাজার লোককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণের মেয়াদ দুই মাস। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘এই উদ্যোগের মাধ্যমে কোনো মানুষ নিজের এলাকায় বসে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। প্রশিক্ষণের পর আশা করি কাউন্সিলিং শুরু হবে, যে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা কি করতে পারেন। আশা করি দুই মাসের এ প্রশিক্ষণ নিয়ে সবাই লাভবান হবেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের সাফল্যের পেছনে প্রশিক্ষণ একটি বড় জায়গা দখল করে আছে। যারা মাঠ পর্যায়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ক্ষেত্রে কাজ করবেন তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণের দরকার রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ জনগোষ্ঠী দরকার।

যারা ভবিষ্যতে সোনার বাংলাদেশ নির্মাণ করবেন তাদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনার বীজ বপনের জন্য সেবাবর্ষ তৈরি করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে। আশা করি আপনারা এটা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন।’ নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমরা বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে একটা বড় প্রকল্প নিয়েছি। প্রায় ২৫ একর জমির উপর পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট নির্মাণ করতে যাচ্ছি। আমরা সরকারের কাছে অতিরিক্ত অর্থ না চেয়ে উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে সেখানে অর্থায়ন করতে পারি। সেখানে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের জায়গা তৈরি হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব বলেন, ‘এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হচ্ছে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়াশ। এখানে বৈদ্যুতিক খাতে বিদেশ থেকে লোক আনা হয়, এখানে প্রশিক্ষিত জনশক্তি থাকলে বিদেশ থেকে আনার প্রয়োজন হত না। জ্বালানি বিভাগের সচিব বলেন, ‘আমাদের জনশক্তি রয়েছে, কিন্তু আমাদের প্রয়োজন সুদক্ষ জনশক্তি।

প্রশিক্ষণের জন্য যাতে সিলেকশনটা ঠিক মতো হয়। যাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হল তিনি যাতে প্রশিক্ষণ নিয়ে এ পেশায় থাকেন। প্রশিক্ষণের পর ট্যাক করতে হবে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সহযোগিতা করতে হবে।’

 

বিজনেস বাংলাদেশ/শ