১১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রতিটা বাড়িই দরজাহীন, তালা নেই ব্যাংকেও!

তবে ব্যতিক্রম ভারতের মহারাষ্ট্রের একটি গ্রাম। যেখানে নির্ভয়ে জীবন কাটান মানুষেরা। এই গ্রামের কোনো বাড়িতেই দরজা লাগানো নেই। এতে করে সেখানে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, দামি জিনিসপত্র চুরি হয় না বলে জানা গেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলার ওই গ্রামের নাম শনি-শিঙ্গাপুর। গ্রামের কোনো বাড়িতেই দরজা নেই। শুধু বাড়িতে কেন, এলাকার দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, সরকারি বিল্ডিং, ব্যাংক-কোথাও কোনো দরজা নেই। এখানকার মানুষের বিশ্বাস, শনি দেবতা তাদের রক্ষা করবেন।

জানা গেছে, আজ পর্যন্ত কোনো দিন চুরি হয়নি এই গ্রামে। গ্রামবাসীর বিশ্বাস, কেউ যদি চুরি বা অপরাধ করার সাহস দেখায়, তার জন্য তাকে পস্তাতে হবে। সারা জীবনের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারাবেন তিনি।

গ্রামবাসীরা শনি দেবতাকে এতটাই মানেন যে, গ্রামের পাবলিক টয়লেটেও কোনো দরজা লাগানো হয়নি। কোনো ক্ষেত্রে নারীদের জন্য কাপড়ের পর্দা লাগানো থাকে, পর্দা দেখে অন্যেরা বুঝতে পারেন ভেতরে কেউ আছেন।

শোনা যায়, ৩০০ বছর আগে গ্রামের প্রান্তে পানাস্নালা নদীতে একটা কালো পাথর ভেসে এসেছিল। গ্রামবাসী তাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করার পরই পাথর থেকে রক্তক্ষরণ হতে শুরু করে। তবে সেটা কী ছিল, তখনও গ্রামের কেউ জানতেন না। ওই রাতেই নাকি গ্রামের প্রধানকে স্বপ্নে দেখা দিয়েছিলেন স্বয়ং শনি দেবতা। তিনি বলেছিলেন, ভেসে আসা পাথর তারই মূর্তি। পাথরটাকে যেন গ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তবে একটি শর্তও ছিল তার। দেবতা তাকে আদেশ দিয়েছিলেন, এই পাথরের মূর্তি এতটাই শক্তিধর, তাতে কোনো ছাদের তলায় রাখা যাবে না। চারপাশে কোনো দেওয়াল যেন না থাকে, যাতে তিনি সারা গ্রামকে বিনা বাধায় চোখের সামনে দেখতে পান এবং গ্রামকে সব ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।

স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর গ্রাম প্রধানের মনে এতটাই শ্রদ্ধার জন্মে যে, গ্রামবাসীদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেন দরজা বয়কট করার। নিজেদের রক্ষার ভার তারা পুরোপুরি ওই ভেসে আসা পাথরের ওপরই ছেড়ে দেন। এখনো যা কিছু তৈরি হোক না কেন, তার কোনো দরজা থাকে না।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :

বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতেই ভারত ম্যাচ বর্জন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

প্রতিটা বাড়িই দরজাহীন, তালা নেই ব্যাংকেও!

প্রকাশিত : ১২:৫৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

তবে ব্যতিক্রম ভারতের মহারাষ্ট্রের একটি গ্রাম। যেখানে নির্ভয়ে জীবন কাটান মানুষেরা। এই গ্রামের কোনো বাড়িতেই দরজা লাগানো নেই। এতে করে সেখানে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, দামি জিনিসপত্র চুরি হয় না বলে জানা গেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলার ওই গ্রামের নাম শনি-শিঙ্গাপুর। গ্রামের কোনো বাড়িতেই দরজা নেই। শুধু বাড়িতে কেন, এলাকার দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, সরকারি বিল্ডিং, ব্যাংক-কোথাও কোনো দরজা নেই। এখানকার মানুষের বিশ্বাস, শনি দেবতা তাদের রক্ষা করবেন।

জানা গেছে, আজ পর্যন্ত কোনো দিন চুরি হয়নি এই গ্রামে। গ্রামবাসীর বিশ্বাস, কেউ যদি চুরি বা অপরাধ করার সাহস দেখায়, তার জন্য তাকে পস্তাতে হবে। সারা জীবনের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারাবেন তিনি।

গ্রামবাসীরা শনি দেবতাকে এতটাই মানেন যে, গ্রামের পাবলিক টয়লেটেও কোনো দরজা লাগানো হয়নি। কোনো ক্ষেত্রে নারীদের জন্য কাপড়ের পর্দা লাগানো থাকে, পর্দা দেখে অন্যেরা বুঝতে পারেন ভেতরে কেউ আছেন।

শোনা যায়, ৩০০ বছর আগে গ্রামের প্রান্তে পানাস্নালা নদীতে একটা কালো পাথর ভেসে এসেছিল। গ্রামবাসী তাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করার পরই পাথর থেকে রক্তক্ষরণ হতে শুরু করে। তবে সেটা কী ছিল, তখনও গ্রামের কেউ জানতেন না। ওই রাতেই নাকি গ্রামের প্রধানকে স্বপ্নে দেখা দিয়েছিলেন স্বয়ং শনি দেবতা। তিনি বলেছিলেন, ভেসে আসা পাথর তারই মূর্তি। পাথরটাকে যেন গ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তবে একটি শর্তও ছিল তার। দেবতা তাকে আদেশ দিয়েছিলেন, এই পাথরের মূর্তি এতটাই শক্তিধর, তাতে কোনো ছাদের তলায় রাখা যাবে না। চারপাশে কোনো দেওয়াল যেন না থাকে, যাতে তিনি সারা গ্রামকে বিনা বাধায় চোখের সামনে দেখতে পান এবং গ্রামকে সব ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।

স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর গ্রাম প্রধানের মনে এতটাই শ্রদ্ধার জন্মে যে, গ্রামবাসীদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেন দরজা বয়কট করার। নিজেদের রক্ষার ভার তারা পুরোপুরি ওই ভেসে আসা পাথরের ওপরই ছেড়ে দেন। এখনো যা কিছু তৈরি হোক না কেন, তার কোনো দরজা থাকে না।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান