০৮:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জনবল সংকটে চিনি কল কারখানা

মোবারকগঞ্জ চিনিকলের আখ ও কারখানা বিভাগে প্রায় দুই শতাধিক জনবল সংকটের সত্ত্বেও আসন্ন ২০১৯-২০ মৌসুমে ১০ হাজার একর জমিতে হাল মুড়ি আখ চাষের লক্ষমাত্রা অর্জনের লক্ষমাত্রা সামনে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাঠকর্মী (সিবিত্র), সিআইসিগণ। প্রায় দু’মাস বেতন না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে বিদেশি শ্রমিক কর্মচারী ও তাদের পরিবার পরিজন।

অথচ গত ঈদুল আযহার পর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০ কোটি টাকার চিনি বিক্রি করে রাষ্ট্রায়ত অন্যান্য চিনিকলের শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ করেছে বলে জানায় মোচিকের সিবিত্র নেতারা। তার পরও এই মিলে শত চেষ্টার করেও বকেয়া মাসের বেতন দিতে পারছে না মিল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। মোচিকের ঘিঘাটি কেন্দ্রের আদর্শ আখচাষী শাহপুর গ্রামের ইউসুপ আলী, চাঁদপাড়া গ্রামের আজম খান, এলাঙ্গী গ্রামের মুছা খান, নওদা গাঁ গ্রামের মোঃ মোজাম মন্ডল, খালিশপুরের গোয়ালহুদা গ্রামের আঃ কাদের মিয়া, পশ্চিম বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বড় আখচাষী শেখ শাহাজাহান আলী জানায়, এবার মোবারকগঞ্জ চিনিকল এলাকার দন্ডায়মান আখের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে।

তাদের ভাষ্য, ধানের দাম নিম্নগামী, টানা অনাবৃষ্টির কারণে মৌসুমী সবজি ফসল নষ্ট সহ মাঠের পর মাঠ দন্ডায়মান সোনালী আঁশ পাটের দুরাবস্থা প্রভৃতি কারণে এই জনপদের আখচাষীরা নিজেরাই আর্থিক ভাবে সাবলম্বী হবার জন্য সার, কীটনাষক কিনে আখের জমিতে প্রয়োগ করছে যাতে অল্প জমিতে অধিক ফলন পেতে পারে। গত মৌসুমে মিল কর্তৃপক্ষ চাষীদের প্রয়োজনীয় সার দিতে পারেনি। চাষীদের অবিমত, অন্যান্য ফসলের বাজার দর উঠানামা করলেও আখের একটি সরকার নির্ধারিত বাজার মূল্য রয়েছে।

এই ফসলে লোকসান হবার কোন সুযোগ নেই। মিল গেট এলাকার বাবরা গ্রামের সাবেক পৌর কমিশনার আবদুল মান্নান মনা বলেন, ধান, পাট, কেটে ফসলের চাষ করে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। কাজেই এবার সব জমিতেই আখচাষ করবো। মোবারক গঞ্জে কৃষি জি এম এবং সিবিএ সভাপতি গোলাম রসুল বলেন এবার ৬ হাজার ৭শত একর জমিতে মাড়াই যোগ্য আখ আছে। যা থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার মেঃ টন আখ পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ২০১৯-২০২০ রোপন মৌসুমে ১০ হাজার একর আখ উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সার উপকরণ মজুদের চেষ্টা করা হচ্ছে। সিবিএ সভাপতি বলেন শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া বেতন খুব তাড়াতাড়ী দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে করপোরেশন চেয়ারম্যান ও কন্টোলারের সাথে কথা হয়েছে।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/শ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বিএনপির ভূমিধস জয় উদযাপনে রেল শ্রমিক দলের কর্মসূচি

জনবল সংকটে চিনি কল কারখানা

প্রকাশিত : ১০:২০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মোবারকগঞ্জ চিনিকলের আখ ও কারখানা বিভাগে প্রায় দুই শতাধিক জনবল সংকটের সত্ত্বেও আসন্ন ২০১৯-২০ মৌসুমে ১০ হাজার একর জমিতে হাল মুড়ি আখ চাষের লক্ষমাত্রা অর্জনের লক্ষমাত্রা সামনে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাঠকর্মী (সিবিত্র), সিআইসিগণ। প্রায় দু’মাস বেতন না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে বিদেশি শ্রমিক কর্মচারী ও তাদের পরিবার পরিজন।

অথচ গত ঈদুল আযহার পর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০ কোটি টাকার চিনি বিক্রি করে রাষ্ট্রায়ত অন্যান্য চিনিকলের শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ করেছে বলে জানায় মোচিকের সিবিত্র নেতারা। তার পরও এই মিলে শত চেষ্টার করেও বকেয়া মাসের বেতন দিতে পারছে না মিল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। মোচিকের ঘিঘাটি কেন্দ্রের আদর্শ আখচাষী শাহপুর গ্রামের ইউসুপ আলী, চাঁদপাড়া গ্রামের আজম খান, এলাঙ্গী গ্রামের মুছা খান, নওদা গাঁ গ্রামের মোঃ মোজাম মন্ডল, খালিশপুরের গোয়ালহুদা গ্রামের আঃ কাদের মিয়া, পশ্চিম বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বড় আখচাষী শেখ শাহাজাহান আলী জানায়, এবার মোবারকগঞ্জ চিনিকল এলাকার দন্ডায়মান আখের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে।

তাদের ভাষ্য, ধানের দাম নিম্নগামী, টানা অনাবৃষ্টির কারণে মৌসুমী সবজি ফসল নষ্ট সহ মাঠের পর মাঠ দন্ডায়মান সোনালী আঁশ পাটের দুরাবস্থা প্রভৃতি কারণে এই জনপদের আখচাষীরা নিজেরাই আর্থিক ভাবে সাবলম্বী হবার জন্য সার, কীটনাষক কিনে আখের জমিতে প্রয়োগ করছে যাতে অল্প জমিতে অধিক ফলন পেতে পারে। গত মৌসুমে মিল কর্তৃপক্ষ চাষীদের প্রয়োজনীয় সার দিতে পারেনি। চাষীদের অবিমত, অন্যান্য ফসলের বাজার দর উঠানামা করলেও আখের একটি সরকার নির্ধারিত বাজার মূল্য রয়েছে।

এই ফসলে লোকসান হবার কোন সুযোগ নেই। মিল গেট এলাকার বাবরা গ্রামের সাবেক পৌর কমিশনার আবদুল মান্নান মনা বলেন, ধান, পাট, কেটে ফসলের চাষ করে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। কাজেই এবার সব জমিতেই আখচাষ করবো। মোবারক গঞ্জে কৃষি জি এম এবং সিবিএ সভাপতি গোলাম রসুল বলেন এবার ৬ হাজার ৭শত একর জমিতে মাড়াই যোগ্য আখ আছে। যা থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার মেঃ টন আখ পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ২০১৯-২০২০ রোপন মৌসুমে ১০ হাজার একর আখ উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সার উপকরণ মজুদের চেষ্টা করা হচ্ছে। সিবিএ সভাপতি বলেন শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া বেতন খুব তাড়াতাড়ী দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে করপোরেশন চেয়ারম্যান ও কন্টোলারের সাথে কথা হয়েছে।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/শ