পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিউক্লিয়ারে ক্লাবে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং ফাউন্ডেশনের প্রথম কংক্রিট ঢালাই উদ্বোধন করবেন তিনি।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় আণবিক শক্তি কর্পোরেশন-রসাটমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বিশিষ্ট ভিভিইআর প্রযুক্তির এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে থাকছে দু’টি বিদ্যুৎ ইউনিট। আর প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।
ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী পাবনা সফর উপলক্ষে প্রকল্প এলাকা জুড়ে গড়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও, সফলভাবে শেষ হয়েছে এর প্রথম ধাপের কাজ।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সম্পর্কে পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির (পিপিএম) জানান, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ব্লক রেড চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে। আগামী ৩০ তারিখ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় এসএসএফ থাকবে, পিজিআর থাকবে।
তিনি আরো জানান, রূপপুর পারমানবিক কেন্দ্রটি কেপিআই অন্তর্ভূক্ত, ফলে সেনাবাহিনীর একটা ভূমিকা থাকবে। এর পাশাপাশি আমরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ভূমিকা নেব। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে এলাকা জুড়ে গড়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার বলয়।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর থেকে ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প’ এলাকা ও পৌর এলাকার প্রধান সড়কসহ ১২ কিলোমিটার পথ জুড়ে চলছে বর্তমানে তোরণ নির্মাণ ও রাস্তা সংস্কারের কাজ। পাশাপাশি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় বৃক্ষরোপণও করা হচ্ছে।
এককভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প এটি। ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। ঋণ হিসেবে রাশিয়া দিচ্ছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বাকিটা দিচ্ছে বাংলাদেশ।
পাবনার পদ্মা নদীর পাড়ে রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় পারমানবিক শক্তি কর্পোরেশন নেতৃত্ব দিচ্ছে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয়েছে এই প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ। শুরু হয়েছে শেষ ধাপের কাজও।
প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১৩ সালে। আর শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। দুই ইউনিটের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ৩০ নভেম্বর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটির মুল কাজ নির্মাণের কংক্রিট ঢালাই কাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি কমিশনের রীতি অনুযায়ী এই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক জগতে প্রবেশ করবে।






















