সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে শিশু তুহিন মিয়াকে (৫) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে ১০ জনকে আসামি করে দিরাই থানায় হত্যা মামলা করেন তুহিনের মা মনিরা বেগম।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দিরাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম নজরুল বলেন, সোমবার রাতে তুহিনের মা বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাদের নাম জানাননি তিনি।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তুহিনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর রাতেই দাফন করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, রোববার (১৩ অক্টোবর) রাতে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে রাতে ঘর থেকে তুলে নিয়ে পাঁচ বছরের শিশু তুহিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘাতকরা তার লাশ রাস্তার পাশের একটি কদম গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। এ সময় তুহিনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। তার পেটে দুটি ছুরি ঢোকানো ছিল, দুটি কান কাটা, এমনকি যৌনাঙ্গটিও কেটে ফেলা হয়।
খবর পেয়ে সোমবার সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান পিপিএম, সিআইডি ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুহিনের বাবা আবদুল বাছির, চাচা, চাচি ও এক চাচাতো বোনকে থানায় আনে পুলিশ। এরপর টানা কয়েক ঘণ্টা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এদের মধ্যে কয়েকজন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘গ্রামের অন্যদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে আবদুল বাছিরের পরিবারের বিরোধ ও মামলা রয়েছে। এর জের ধরেই অন্যদের ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারা, কখন, কীভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, সব আমরা জানতে পেরেছি। তদন্তের স্বার্থে এখন বিস্তারিত বলব না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতজনকে থানায় আনা হয়েছে। নির্দোষ ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হবে।’
বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ






















