বাংলাদেশে প্রথম পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রীডে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাণিজ্যিক ভাবে সরবরাহ করা হবে। সে লক্ষ্যে দ্রুততার সঙ্গে শেষ পর্যায়ের নির্মাণ কাজ চলছে।
এরইমধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার করে প্রকল্পের প্রায় ৮৬ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২০ সালে পুরোপুরি চালু করা হলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে এটি হবে একটি মাইল ফলক।
এর আগে ২০১৫ সালের ২১ মার্চ বাংলাদেশ এবং চীনের যৌথ উদ্যোগে দেশের প্রথম আল্ট্রা সুপার ক্রিটিকাল টেকনোলজির মাধ্যমে কয়লা ভিত্তিক ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালীতে এক হাজার একর ভূমির উপর নির্মাণের স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি এবং চায়না সিএমসির দুই বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বিদ্যুৎ প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ চলছে।
২০১৯ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও অনাকাংখিত কিছু ঘটনায় কাজ পিছিয়ে যায়। তবে বাঁধা কাটিয়ে দ্রুত লক্ষ্যে পৌঁছাতে দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রায় সাড়ে আট হাজার চীন ও বাংলাদেশী শ্রমিক।
এরইমধ্যে প্রকল্পের ইউনিট-১ ও ২ এর টারবাইন জেনারেটর স্থাপন কাজ শেষ করে বয়লার ইউনিট-১ এর হাইড্রোটেস্ট এবং ইন্সুলেশনের কাজও প্রায় শেষের দিকে।
এছাড়া কয়লা জেটির নির্মাণ কাজ শেষে জাহাজ থেকে প্রতি ঘন্টায় ৮০০ টন কয়লা আনলোড করার ক্ষমতাসম্পন্ন চারটি গ্রাবশিব স্থাপন করা হয়েছে।
সম্পন্ন করা হয়েছে ওয়াটার ইন্টেকের কাজ। কোল ডোম, কুলিং টাওয়ার, পানি পরিশোধন প্লান্ট, সিস্টেমের কমিশনিং এবং জিআইএস’র শেষ দিকের কাজও চলমান রয়েছে।
দেশের সব অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরত্বে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত সঞ্চালন লাইন নির্মাণ কাজও এরইমধ্যে শেষ হয়েছে।
বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমেটেডের (বিসিপিসিএল) জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার শাহ মনি জিকো জানান, শ্রমিকদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝির সৃস্টি হয়েছিলো। এখন আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে তারা মিলেমিশে দিনরাত কাজ করছে।
প্রধান প্রকৌশলী শাহ মো. গোলাম মাওলা (বিসিপিসিএল) জানান, ডিসেম্বরের শেষের দিকে আমরা প্রথমবারের মতো ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারবো। সেই লক্ষ্যে বিরামহীন কাজ করে হচ্ছে।
পায়রা তাপ বিদ্যুৎসহ পাঁচ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে যাচ্ছে তাতে এ অঞ্চলসহ গোটা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান




















