ভোলার বোরহানউদ্দিনে সংঘর্ষে ৪ জন নিহত ও শতাধিক আহত হওয়া ঘটনায় শুক্রবার জেলা প্রশাসন থেকে গঠিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান ভোলার স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক মাহমুদুর রহমান শুক্রবার রাতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মুসুদ আলম সিদ্দিকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাসুদ আলম সিদ্দিকি জানান, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে না। তবে তিনি ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর যথাযথ বরিশাল বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেছেন। এর মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করবেন।
এদিকে বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভোলা জেলা সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ। আজ শনিবার ( ২৬অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাদের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোলার বোরহানউদ্দিনে নবি প্রেমিক ঈমানদার তৌহিদী জনতার ওপর পুলিশের নির্মম গুলি বর্ষণে চারজন দ্বীনি ভাই শাহাদাত বরণ করেন এবং প্রায় দুই শতাধিক আহত হয়। সেই দিনের সংঘর্ষের জন্য ঐক্য পরিষদ প্রশাসনকেই দায়ী করেন। বলা হয়, যখন ৬ দফার মধ্যে কয়েকটি বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলছিল কিন্তু হঠাৎ অজ্ঞাত মামলায় গ্রেপ্তার করা ও হয়রানি করায় ঐক্য পরিষদ তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। যেহেতু ঐ দিনের ঘটনা এবং হতাহতের ব্যাপারে ঐক্য পরিষদ প্রশাসনকে দায়ী করেছে। তাই প্রকৃত ঘটনা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। গ্রেপ্তার আতঙ্ক না ছড়ানোর দাবি জানানো হচ্ছে প্রশাসনের কাছ থেকে।
সংগঠনটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও মুখপাত্র মাওলানা মিজানুর রহমান সাক্ষরিত এ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতিতে আরো বলা হয়, বোরহানউদ্দিনে সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়ি ও মন্দিরে হামলার ঘটনা সাজানো বলে ধারণা করছে সর্ব দলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ। তাই তার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়। ৬ দফা দাবি নিয়ে আবারো জেলা প্রশাসকের সাথে ঐক্য পরিষদ আলোচনায় বসবে এবং মামলা প্রত্যাহারসহ সকল দাবি পূরণে স্পষ্ট ঘোষণা না আসলে যেকোনো কর্মসূচি আসতে পারে জানানো হয়।
এদিকে ভোলা ২ আসনের এমপি আলী আজম মুকুল বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তার নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভোলার অভিভাবক সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এর পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া আলেম ওলামাদের তিনজকে নিয়ে একটি কমিটি করে যারা সংঘর্ষে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছে তাদেরকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে একটি টিম ভোলায় পৌঁছাবে। পরে তাদের প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদেরকে আমারা আইনের আওতায় আনতে পারবো। যুবদল ছাত্রদলের যারাই এর সাথে সম্পৃক্ত থাকুক না কেন তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। পরে ভোলার বোরহানউদ্দিনে রবিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ৪ পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে ২০ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে ভোলা ২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল নিহতদের পিতা-মাতার হাতে নগদ অর্থ তুলে দিয়েছেন।
ভোলা সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে এমপি মুকুল বলেন, নিহতদের পরিবারকে মানবিক সহায়তা করা হয়েছে। আহতদেরকে চিকিৎসা সাহায়তা দেওয়াসহ সবগুলো দাবিই পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
এদিকে জেলা জুড়ে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। কোথাও কোনো অপ্রিতিকর ঘটানার কথা শোনা যায়নি। তবে এখনো জেলা প্রশাসকের পক্ষে সকল ধরনের সভা-সমাবেশের ওপর নিশেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়নি। ভোলা ও বোরহানউদ্দিন জুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনির বাড়তি সতর্কতা বজায় রয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/এ আর
























