ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে দক্ষিণের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লাখ লাখ গ্রাহক বিদুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। শনিবার রাত থেকে ঝড়ের কারণে খুলনার বিভিন্ন জেলা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সকাল নাগাদ শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ ফিরে এলেও উপশহর ও গ্রামাঞ্চলের অনেক এলাকা প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন আছে।
ঝড়ে উপকূলীয় জেলাগুলোর অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপড়ে গেছে বহু গাছ, বিধ্বস্ত হয়েছে কাঁচা ঘরবাড়ি; ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলের ক্ষেত।
খুলনা বিভাগের শহরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিক উদ্দিন লেন, খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ফরিদপুর, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট এলাকায় শনিবার রাত ৩টার দিকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে সকাল ১০টা নাগাদ শহরাঞ্চলের কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবার চালু করা সম্ভব হয়েছে।
ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার থেকে ১২৫ কিলোমিটার বেগের বাতাসের শক্তি নিয়ে বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ৯টায় পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সাগর দ্বীপ উপকূলে আঘাত হানে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। রোববার ভোর ৫টার দিকে বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছায়; শক্তি হারিয়ে সকালে বুলবুল পরিণত হয় গভীর স্থল নিম্নচাপে।
রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোংলা বন্দর এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। মোংলা থেকে পশুর নদী অপর পাশে খুলনার দাকোপ যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার মধ্যরাত থেকে সাতক্ষীরা জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে শহর এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরে এলেও দুপুর পর্যন্ত শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলা বিদ্যুৎবিহীন ছিল।
কিছু কিছু এলাকায় ঝড়ের কারণে গাছ পড়ে ও খুঁটি হেলে গিয়ে বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ চলছে বলে বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সুন্দরবনের কারণে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’ ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ পরবর্তী সার্বিক অবস্থা নিয়ে রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবেলায় সুন্দরবনকে আরও শক্তিশালী করা হবে। সুন্দরবনকে আরও সবুজ করে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। খুব শিগগির আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠক করে এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
ব্রিফিংয়ে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। গাছচাপা পড়ে দু’জন নিহতের কথা এ সময় নিশ্চিত করেন তিনি। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ে সাড়ে ৫ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির যেসব তথ্য দিচ্ছেন, তাও সঠিক। রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাই ব্র্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির আরও তথ্য আসছে এবং পুরো হিসাব পেতে এক সপ্তাহ লেগে যাবে বলে জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।
তবে বেসরকারি হিসেবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে পাঁচ জেলায় আট জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পাঁচ জেলায় নিহত আট জনের মধ্যে পরিচয় মিলেছে চার জনের।
ঝড়ে গাছের নিচে চাপা পড়ে খুলনায় দুজন, বাগেরহাটে একজন এবং পটুয়াখালীতে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বরগুনায় আশ্রয়কেন্দ্রে এবং সাতক্ষীরায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়িতে যাওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ভয়াবহ রূপ নিয়ে ধেয়ে আসতে থাকে। এতে আবহাওয়া অধিদপ্তর ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করে দুই বন্দরসহ বেশ কয়েকটি উপকূলীয় জেলায়। তবে শনিবার রাতে অনেকটা দুর্বল হয়ে সুন্দরবন দিয়ে বাংলাদেশ অংশ ঢুকে ‘বুলবুল’। পরে তা স্থল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়।
সুন্দরবনের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে বাংলাদেশ রক্ষা পায় বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান




















