তিন বছর আগে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে ৮ আসামির মধ্যে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
এ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত পাড়াসহ রাজধানী ও সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মামলার রায় শোনার পর আদালতে দাঁড়িয়ে ‘আল্লাহ আকবর’, ‘নারায়ে তাকবির’ বলে চিৎকার দিয়েছেন ফাঁসির দণ্ড পাওয়া জঙ্গিরা। আসামিরা এজলাসে রায় শোনার পর অশ্লীল ব্যবহার করতে শুরু করে বলে জানা যায়। এসময় আসামিরা বলতে থাকেন- ‘আমাদের বিচার এখানে নয়, হাশরের ময়দানে হবে’।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বহুল আলোচিত এ হামলা মামলার রায় পড়া শুরু হয়। এসময় নৃশংস এ হামলা মামলার ৮ আসামি এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- হামলার পরিকল্পনাকারী, হামলাকারীদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সরবরাহ ও হামলায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, নব্য জেএমবির প্রশিক্ষক ও গুলশান হামলায় জড়িতদের প্রশিক্ষণ ও প্ররোচনাদানকারী রাকিবুল হাসান রিগ্যান ওরফে রাফিউল ইসলাম রাফি ওরফে রিপন ওরফে হাসান ওরফে অন্তর, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান হাসান ওরফে হাতকাটা সোহেল মাহফুজ, বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন সরদার ওরফে রাশেদ ইসলাম ওরফে আবু জাররা ওরফে র্যাশ, হামলাকারীদের মেস ভাড়া করে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, অর্থ লেনদেন, অস্ত্র-গ্রেনেড সরবরাহ ও হামলায় সহায়তাকারী হাদিসুর রহমান সাগর, হামলার পরিকল্পনাকারী, হামলাকারীদের প্রশিক্ষণ, প্ররোচনা দেয়া শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও হামলার পরিকল্পনাকারী এবং অস্ত্র সরবরাহকারী মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন। অপরাধ প্রমাণ না হওয়ায় মামলার অপর আসামি মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ ও নৃশংস জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দেশি-বিদেশি ২০ জন নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করে সশস্ত্র জঙ্গিরা। জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডে দুই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা মারা যান। একপর্যায়ে যৌথ বাহিনীর কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। এ ছাড়া ওই ঘটনার সময় রেস্তোরাঁর একজন শেফ মারা যান।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত শেষে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট গত বছরের ২৩ জুলাই হামলায় জড়িত ২১ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।
আলোচিত এই মামলায় ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর মামলার বাদী এসআই (উপপরিদর্শক) রিপন কুমার দাসের জবানবন্দির মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। মামলায় ২১১ সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জন সাক্ষ্য দেন।
এর মধ্যে ১৩ জঙ্গি বিভিন্ন সময়ে অভিযানে নিহত হওয়ায় মামলার বিচার থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়। বাকি আটজনের বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরু হয়।
গত ১৭ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ২৭ নভেম্বর (আজ) রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন বিচারক।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান


























