০৩:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মিয়ানমার-বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

  • নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত : ০৫:৪৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯
  • 87

মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রধান এবং তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার রাজধানী মায়ানমার নেপিদোতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ৭টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ বৈঠকে মিয়ানমার বিমান বাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়গুলো হলো:

(১) যে কারণে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যেতে নিরুৎসাহীত হচ্ছে তা তুলে ধরা হয়। এই লক্ষ্যে মিয়ানমার কর্তৃক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী, ASIAN Humanitarian Emergency Response Team এবং রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিকে শিগগিরই settlement এলাকা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানাবে বলে জানায়।

(২) বাংলাদেশ কর্তৃক বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পরিকল্পিত বর্ডার রোড নির্মাণে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বিজিপি কর্তৃক সর্বাত্বক সহযোগিতার নিশ্চয়তা দেয়।

(৩) বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থল মাইন এবং আইইডি (IED) এর উপস্থিতিতে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি জানানো হয়।

(৪) মিয়ানমার সামরিক হেলিকপ্টার এবং ড্রোন কর্তৃক বাংলাদেশের আকাশ সীমা লঙ্ঘনের বিষয় তুলে ধরা হয়। সেইন্ট মার্টিন দ্বীপে ও তাদের ড্রোন পাঠানোর বিষয় তলে ধরে বাংলাদেশের উদ্বেগ এর কথা জানানো হলে এ বিষয়ে তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে জানান।

(৫) সীমান্ত এলাকার মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মাদক কারখানার উপস্থিতি এবং সেই মাদক বাংলাদেশে প্রবেশে বাংলাদেশের উদ্বেগ এর বিষয়টি জানানো হয়। মাদক পাচারের বিরুদ্ধে মায়ানমার সেনাবাহিনী সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।

মিয়ানমার-বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
(৫) বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় যেকোন উদ্ভূদ পরিস্থিতিতে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ভুল বুঝাবুঝি নিরসনে কাজ করতে সন্মত হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনী কেবল মাত্র Counter Insurgency Operation এর জন্য সীমান্ত এলাকায় তাদের সৈন্য সমাবেশ ঘটায় বলে জানায়। তারা কখনও দুই দেশের সীমানা অতিক্রম না করার বিষয়ে আশ্বস্থ করার চেষ্টা করে।

(৬) বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় যেহেতু মায়ানমার সেনাবাহিনী Counter Insurgency Operation পরিচালনা করছে, তাই তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাহায্য চেয়েছে যে, যখন মিয়ানমার সেনাবাহিনী বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় Counter Insurgency Operation পরিচালনা করবে তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যেন বাংলাদেশ ভূখণ্ডে থেকে সীমান্ত এলাকায় তাদেরকে সহায়তা করে যাতে তাদের Insurgent group তাড়া খেয়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে এসে আশ্রয় নিতে না পারে।

(৭) দুইদেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে exchange program বৃদ্ধি, বিভিন্ন পর্যায়ের সৌজন্যমূলক ভিজিট বৃদ্ধি ইত্যাদি আলোচনা হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

মিয়ানমার-বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

প্রকাশিত : ০৫:৪৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রধান এবং তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার রাজধানী মায়ানমার নেপিদোতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ৭টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ বৈঠকে মিয়ানমার বিমান বাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়গুলো হলো:

(১) যে কারণে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যেতে নিরুৎসাহীত হচ্ছে তা তুলে ধরা হয়। এই লক্ষ্যে মিয়ানমার কর্তৃক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী, ASIAN Humanitarian Emergency Response Team এবং রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিকে শিগগিরই settlement এলাকা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানাবে বলে জানায়।

(২) বাংলাদেশ কর্তৃক বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পরিকল্পিত বর্ডার রোড নির্মাণে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বিজিপি কর্তৃক সর্বাত্বক সহযোগিতার নিশ্চয়তা দেয়।

(৩) বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থল মাইন এবং আইইডি (IED) এর উপস্থিতিতে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি জানানো হয়।

(৪) মিয়ানমার সামরিক হেলিকপ্টার এবং ড্রোন কর্তৃক বাংলাদেশের আকাশ সীমা লঙ্ঘনের বিষয় তুলে ধরা হয়। সেইন্ট মার্টিন দ্বীপে ও তাদের ড্রোন পাঠানোর বিষয় তলে ধরে বাংলাদেশের উদ্বেগ এর কথা জানানো হলে এ বিষয়ে তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে জানান।

(৫) সীমান্ত এলাকার মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মাদক কারখানার উপস্থিতি এবং সেই মাদক বাংলাদেশে প্রবেশে বাংলাদেশের উদ্বেগ এর বিষয়টি জানানো হয়। মাদক পাচারের বিরুদ্ধে মায়ানমার সেনাবাহিনী সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।

মিয়ানমার-বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
(৫) বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় যেকোন উদ্ভূদ পরিস্থিতিতে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ভুল বুঝাবুঝি নিরসনে কাজ করতে সন্মত হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনী কেবল মাত্র Counter Insurgency Operation এর জন্য সীমান্ত এলাকায় তাদের সৈন্য সমাবেশ ঘটায় বলে জানায়। তারা কখনও দুই দেশের সীমানা অতিক্রম না করার বিষয়ে আশ্বস্থ করার চেষ্টা করে।

(৬) বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় যেহেতু মায়ানমার সেনাবাহিনী Counter Insurgency Operation পরিচালনা করছে, তাই তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাহায্য চেয়েছে যে, যখন মিয়ানমার সেনাবাহিনী বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় Counter Insurgency Operation পরিচালনা করবে তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যেন বাংলাদেশ ভূখণ্ডে থেকে সীমান্ত এলাকায় তাদেরকে সহায়তা করে যাতে তাদের Insurgent group তাড়া খেয়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে এসে আশ্রয় নিতে না পারে।

(৭) দুইদেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে exchange program বৃদ্ধি, বিভিন্ন পর্যায়ের সৌজন্যমূলক ভিজিট বৃদ্ধি ইত্যাদি আলোচনা হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান