সংবাদ মানেই কিন্তু খুন-খারাপি বা কেবল নেতিবাচক বিষয়ের নয়। বছর জুড়ে অনেক ইতিবাচক খবরও কিন্তু উঠে এসেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে। ২০১৯ সালে এমন কিছু ভালো খবর নিয়েই এই আয়োজন। একশ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া বিশালাকৃতির কচ্ছপের খোঁজ পাওয়া গেছে।
এটির খোঁজ মিলেছে ইকুয়েডর উপকূল থেকে এক হাজার কিলোমিটার দুরে প্রশান্ত মহাসাগরের গ্যালাপাগোজ দ্বীপে। এই প্রজাতির কচ্ছপ সর্বশেষ দেখা গিয়েছিলো ১৯০৬ সালে। কচ্ছপটির বয়স একশ বছর। তবে এ প্রজাতির জীবিতদের মধ্যে তিনিই একমাত্র নন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তার আরও কিছু স্বজন এখনও বেঁচে আছে। সামুদ্রিক কচ্ছপের জন্য এটি অত্যন্ত ভালো সংবাদ। ১৯৭৩ সালে সংরক্ষিত প্রজাতি ঘোষণার পর থেকে সামুদ্রিক কচ্ছপের সংখ্যা বেড়েছে ৯৮০%। বিশ্বে কুঁজো তিমির সংখ্যা বেড়েছে ৯৩ শতাংশ।
ফলে ১৯৮০’র দশকে এই প্রজাতির তিমির হারিয়ে যাওয়ার যে আশংকা তৈরি হয়েছিলো সেটি দূর হয়েছে। ২০১৯ সালে এর প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২৫ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। শতবর্ষ জুড়ে তিমি শিকারের কারণে আটলান্টিকের দক্ষিণ পশ্চিমে এটি হারিয়ে যাওয়ার যে প্রবণতা দেখা দিয়েছিল, তা আপাতত বন্ধ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা মানবকোষকে রূপান্তর করেছে ইনসুলিন-উৎপাদিত সেলে। আর এই বড় উদ্ভাবনটিই টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বড় আশা তৈরি করেছে। তিনটি কারণে এই রোগ নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন তারা রোগটির অগ্রগতি কমিয়ে দিতে সক্ষম হবেন। তারা বলছেন, মস্তিষ্কের কোষে আলঝেইমার সৃষ্টির মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য ভবিষ্যৎ চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বার্কলের গবেষকরা বলছেন, তারা ঔষধের মাধ্যমে মস্তিষ্কের প্রদাহ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে যা রোগটির গতি কমিয়ে দেবে।
আর জার্মানির বিজ্ঞানীরা বলছে লক্ষ্মণ দেখার আগেই রোগটিকে সনাক্ত করা সম্ভব হবে। লানচেট মেডিকেল জার্নালের সমীক্ষা অনুযায়ী চিকিৎসার মাধ্যমে যৌন সংসর্গের দ্বারা এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানো যাবে। প্রায় এক হাজার সমকামী জুটির ওপর পরীক্ষা চালিয়েছেন তারা যাদের প্রতিটি জুটির একজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত এবং তাতে চিকিৎসার সাহায্যে তাদের যৌন সংসর্গের মাধ্যমে সংক্রমণ ঠেকানো হয়েছে। ম্যালেরিয়া রোগ মুক্ত হয়েছে আলজেরিয়া ও আর্জেন্টিনা। চলতি বছর এই সুখবরটি জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। এর ফলে বিশ্বের ৩৮টি দেশ মশাবাহিত এ রোগটি থেকে মুক্ত হলো।
লোহিত সাগরের প্রবাল প্রাচীর সংরক্ষণে জোট বেঁধেছে ইসরায়েল ও তার আরব প্রতিবেশীরা। পর্যটকদের আধিক্য, সি ওয়াটার ওয়ার্মিংসহ নানা কারণে প্রবালের সংখ্যা হুমকি মুখে ছিলো। এর দক্ষিণে কিছু প্রাচীর ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও উত্তরের দিকে এগুলো ভালোই আছে। এখন ইসরায়েল, জর্ডান, মিসর, সৌদি আরব, ইয়েমেন, ইরিত্রিয়া, জিবুতি ও সুদান মিলে তৈরি করবে রেড সি ট্রান্জেশনাল রিসার্চ সেন্টার যা পরিচালিত হবে সুইস ফেডারেল ইন্সটিউট অফ টেকনোলজি ও পরীক্ষা হবে কিভাবে প্রবাল প্রাচীরের ক্ষতি রোধ করা যায়। আশা করা যায় এর মাধ্যমে রক্ষা পাবে প্রবাল প্রাচীর।
নাসা বলছে, পৃথিবী ২০ বছর আগের চেয়েও পাঁচ শতাংশ বেশি সবুজ হয়েছে। বিশ্বজুড়ে নিবিড় কৃষিকাজ, ব্যাপক বৃক্ষ রোপণ হয়েছে বিশেষ করে আফ্রিকা, ভারত ও চীনে।
























