নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের (এনআরসি) বিরুদ্ধে চলা প্রতিবাদ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, ‘মুসলিমদের ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হবে বলে কংগ্রেস ও তাদের জোটসঙ্গীরা গুজব ছড়াচ্ছে।’
আজ রোববার দিল্লির রামলীলা ময়দানে এক জনসভায় মোদি এসব কথা বলেন বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘কংগ্রেস, তাদের জোটসঙ্গীরা ও কিছু আরবান নকশাল গুজব ছড়াচ্ছে যে, সব মুসলিমদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে। অন্তত আপনাদের শিক্ষার মূল্যায়ন করুন। একবার অন্তত নাগরিকত্ব আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জির নিয়ম পড়ুন। এটা মিথ্যা এবং দেশে বিভাজন তৈরি করছে।’
বিস্তারিতভাবে নাগরিকত্ব আইন পড়া এবং গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, ‘যেভাবে মিথ্যা ছড়ানো হচ্ছে, তা খুবই দুঃখজনক। কিছু মানুষ বলছে, নাগরিকত্ব আইন দেশের গরিব মানুষের বিরুদ্ধে।’
এর আগে ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে বিভিন্ন রাজ্যে এ পর্যন্ত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার উত্তরপ্রদেশে বিক্ষোভে পুলিশের গুলি ও সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামেও গত সপ্তাহের বিক্ষোভে ছয়জন নিহত হয়েছেন।
গতকাল শনিবার তামিলনাডুর রাজধানী চেন্নাই ও বিহারের উত্তরাঞ্চলীয় শহর পাটনাসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার লোক নতুন করে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। রাজধানী নয়াদিল্লিতেও সড়কে ব্যাপক জমায়েত দেখা গেছে। ধর্মভিত্তিক এই আইনটি নিয়ে মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
বিক্ষোভ দমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। আওরঙ্গবাদ, মহারাষ্ট্রে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। শনিবার থেকে শুরু হয়ে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে গতকাল প্রায় এক লাখ মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১১ ডিসেম্বর ভারতের পার্লামেন্টে আইনটি পাস করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। এতে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে অমুসলিম অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে আইনটি থেকে মুসলমান সম্প্রদায়কে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান
























