অপেক্ষায় সিলেট আওয়ামী লীগ নেতারা। ঢাকা থেকে সিলেটে ফিরলেও তাদের অপেক্ষার শেষ নেই। এখনো তৃপ্ত নন নেতারা। এবারের সম্মেলনে নতুন কিছু পাননি তারা। আগের কমিটিতে প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এবারের কমিটিতেও তিনি একই পদে বহাল রয়েছেন। আর উপদেষ্টা হিসেবে আগেই ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও ইনাম আহমদ চৌধুরী। তারাও বহাল হলেন।
তাদের সঙ্গে এবার উপদেষ্টা হয়েছেন এডভোকেট আবু নসর। এখনো হিসাবের খাতায় নতুন কিছু জুটেনি সিলেট আওয়ামী লীগের। ফলে এবার অনেক উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন সিলেটের নেতারা। সম্মেলন ও কাউন্সিলে যোগ দিয়ে তারা দেখা করে এসেছেন সবার সঙ্গে। সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, এবারের সম্মেলনে তারা নতুন নেতৃত্বের অধীনে কেন্দ্রীয় সম্মেলনে যোগ দেন।
নতুন নেতৃত্বের মধ্যে রয়েছেন, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, জেলার সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান। তারা তিনজন এবার সম্মেলনে গিয়ে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। বিশেষ করে তারা দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গেও এক ফাঁকে দেখা করেন।
এ সময় তারা শেখ হাসিনার কাছ থেকে দোয়া নেন। এবং নতুন করে সভানেত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারা শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান। সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, প্রবাসী শহর সিলেটে আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন দলীয় প্রধান।
এদিকে সম্মেলন ও কাউন্সিল পর্ব শেষ করে সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে অনেকেই ঢাকা থেকে ফিরেছেন। কিন্তু এবার এখনো অতৃপ্তি তাদের মনে। এখনো সিলেট আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটিতে সিলেটের নতুন কোনো নেতা পায়নি। আজ ঘোষণা হতে পারে কেন্দ্রীয় কমিটি। সেখানে কারো নাম থাকবে কিনা- সেটিও গতকাল পর্যন্ত পরিষ্কার হওয়া যায়নি।
ফলে অপেক্ষা ছাড়া এখন আর কিছু করার নেই তাদের। আওয়ামী লীগের বিগত ৩ কমিটি থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছিলেন, এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। এবার পুরনোদের নিয়ে ইতিমধ্যে কমিটির অর্ধেকের বেশি নেতার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে আসেনি মিসবাহ সিরাজের নাম।
এবার মিসবাহ পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে থাকবেন কিনা সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মিসবাহ’র পাশাপাশি এবার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের নাম শোনা গিয়েছিল। ঢাকা ফেরত সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, ঢাকায় নেতাকর্মীদের মুখে মুখে ছিল কামরানের নাম।
ঘোষণা না হওয়ার কারণে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কামরান আগের কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া এবার মহানগরের সভাপতি হিসেবেও তাকে রাখা হয়নি। ফলে কামরানকে নিয়ে নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস বেশি। কামরান ছাড়াও সিলেটের আরো দুই নেতাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এরা হচ্ছে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ।
শফিকুর রহমান চৌধুরীর পক্ষে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের একটি অংশ লবিং চালাচ্ছে বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন। এদিকে সিলেট জেলা ও মহানগর কমিটি থেকে বাদ পড়া নেতাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়েছেন তাদের অনুসারীরা। দাবি তুলেছেন- সিলেটের নেতাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার।
মহানগর আওয়ামী লীগের অভিনন্দন: আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতি ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক পদে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন এক অভিনন্দন বার্তায় বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তার সুদক্ষ নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আজ গণমানুষের দলে পরিণত হয়েছে। নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এতে দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসন আরো শক্তিশালী হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান





















