যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বছররের সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি নানা কারণেই উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে। এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে ঢুকতে দেয়নি প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে ডিগ্রি নেননি বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী। তবে প্রতিবাদ করে সবার নজর কেড়েছেন ভারতের ঐতিহ্যবাহী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের কৃতী ছাত্রী দেবস্মিতা চৌধুরী।
সমাবর্তনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিলিপি ছিঁড়ে ফেলেন নিজের বিভাগে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়া এই ছাত্রী। এরপর তিনি বলেন, ‘হাম কাগজ নেহি দিখায়েঙ্গে। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’তারপরই এগিয়ে যান স্বর্ণপদক নিতে। সহ-উপাচার্য প্রদীপকুমার ঘোষের কাছ থেকে পদক নেয়ার পর তিনি বলেন, ‘দেশ জুড়ে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছে। আমার মনে হয়েছিল, স্বর্ণপদক নেওয়ার জন্য মঞ্চে ওঠার সুযোগটা প্রতিবাদ জানানোর কাজে লাগানো উচিত। অবশ্য সমাবর্তনের পুরো অনুষ্ঠান জুড়েই ছড়িয়ে ছিলো প্রতিবাদের আবহ। শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে এদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারননি রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দ্বারা দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তিনি ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হন। পরে আচার্যের চেয়ার ফাঁকা রেখেই শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাবর্তন অনুষ্ঠান। এরপরও অনেক শিক্ষার্থী‘নো এনআরসি, নো সিএএ’লেখা ব্যাজ পরে ডিগ্রি নিয়েছেন।

অনেকেই স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যপাল এলে তারা তার হাত থেকে ডিগ্রি নিতেন না। বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতটা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। তাদের কেউ মঞ্চে উঠে প্রতিবাদ করেছেন, কেউ প্রতিবাদের ব্যাজ পরে এসেছেন। কেউ পদক নেওয়ার মুহূর্তটাই প্রতিবাদের কাজে লাগিয়েছেন। কেউ অনড় থেকেছেন রাজ্যপালের বিরোধিতায়। রাজ্যপাল না-আসা সত্ত্বেও প্রায় ৩০ জন শিক্ষর্থী এ দিন ডিগ্রি নেননি। ডিগ্রি না-নিয়েই সার্বিকভাবে নাগরিকত্ব আইন এবং তার প্রতিবাদ আন্দোলনে নিহতের ঘটনার বিরুদ্ধে সমাবর্তন স্থলের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তারা। বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সোমাশ্রী চৌধুরী বলেন, ‘সংবিধান-বিরোধী আইন মেনে নেওয়া যায় না। জামিয়া, আলিগড়ের পড়ুয়াদের উপরে পুলিশ চড়াও হয়েছে।
একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।’এরই প্রতিবাদে তারা সমাবর্তনে ডিগ্রি নিলেন না। এদিকে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজ্যপাল বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এটা পুরোপুরি প্রশাসনিক ব্যর্থতা। রাজ্য সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে রাজনীতি করছে। এতে শিক্ষার্থীদেরই ক্ষতি হচ্ছে। রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, এটা না করতে।’
























