বাংলাদেশের প্রথম নারী কবি ছিলেন চন্দ্রাবতী। সতেরশ শতকে কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারি গ্রামে ‘মনসামঙ্গল’ পালার কবি দ্বিজ বংশীদাস আর সুলোচনা দেবীর ঘরে জন্ম হয়েছিল তাঁর। বাংলাদেশের সাধারণ সামাজিক পরিমণ্ডল থেকে একজন নারী কীভাবে হয়ে উঠলেন দেশের প্রথম নারী কবি- তারই গল্প বলা হয়েছে নয়নচন্দ্র ঘোষ রচিত ‘চন্দ্রাবতীর পালা’য়।
সেই পালায় এবার মঞ্চে আনছে ময়মনসিংহের নাট্যদল ‘নাট্যকথন থিয়েটার’। নাটকটি অনুষ্ঠিত হবে ২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে। ‘চন্দ্রাবতীর পালা’র নির্দেশনা দিয়েছেন তরুণ নির্দেশক চিন্ময় দেবনাথ।
কবি চন্দ্রাবতীর ব্যক্তিগত জীবন ছিল নাটকের চেয়েও নাটকীয়। যৌবনে কবির সঙ্গে দেখা হয় সুদর্শন যুবাপুরুষ জয়ানন্দের। তিনি চন্দ্রাবতীর প্রেমে পড়েন। সেই প্রেম ধীরে ধীরে গভীর হয়। বিয়ের দিন তারিখও ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু বিয়ের দিন জানা যায়, জয়ানন্দ ধর্মান্তরিত হয়ে অন্য রমনীকে বিয়ে করেছেন! এই সংবাদ প্রচণ্ড ধাক্কা হয়ে আসে চন্দ্রাবতীর জন্য।
ব্যক্তিগত জীবনের এই শোকই আজীবন অবিবাহিতা চন্দ্রাবতীকে কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এর পেছনে তার বাবার ভূমিকাও অনস্বীকার্য। বহুদিন পর আবার দেখা হয় জয়ানন্দ-চন্দ্রাবতীর। গল্পের শেষ হয় বেদানবিধুর ঘটনায়।
কবি চন্দ্রাবতীর মৃত্যুর পর তার এই জীবনকাহিনী নিয়ে পালা রচনা করেন কবি নয়নচাঁদ ঘোষ। যে যুগে নারীর জন্য বিদ্যাচর্চা কিংবা কাব্যচর্চা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার ছিল, সেই যুগে তিনি বাবার উৎসাহ, নিজের প্রতিভা আর সৃজনশীলতায় রচনা করেছেন অসাধারণ সব লোকগীতিকা, পালাকাব্য, গান ও রামায়ণ।
আজও চন্দ্রাবতীর জীবনের করুণ কাহিনি কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে ফিরে। চন্দ্রাবতী লিখিত ‘মলুয়া’, ‘দস্যু কেনারামের পালা’ ও ‘রামায়ণ’ পালা স্থান করে নিয়েছে মৈমনসিংহ গীতিকায়।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান


























