১১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘যত চাও, তত খাও’

হাড় কাঁপানো শীত। অসহায় দরিদ্র, ছিন্নমূল পথশিশুদের কাছে শীত মানেই দুঃস্বপ্ন। আর মায়ের হাতের পিঠা পুলি খাওয়া তো শুধু স্বপ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

তাই এসব শিশুদের দুঃস্বপ্ন দূর করতে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সম্ভাবনা অষ্টমবারের মতো আয়োজন করেছে পুষ্পকলিদের শীত উৎসব। প্রায় ৩০০ জন পথশিশুদের সাথে নিয়ে সম্ভাবনার উৎসবে মেতেছিল।

পথশিশুদের জন্য আয়োজিত এই উৎসবে ছিল ‘যত চাও, তত খাও’ নামক হরেক রকমের পিঠা পুলি খাওয়া, দিনের শীত নিবারণের জন্য দেওয়া হয় ভারী জ্যাকেট এবং রাতের শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল। উৎসবের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে ছিল ম্যাজিক শো, পাপেট শো, মিউজিক শোসহ এবং পুষ্পকলি দের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

শিশুদের সাথে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শিশু অভিভাবক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টান্ডার্ড গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক তোফাজ্জেল আলী, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি। বেলা একটার দিকে তারা ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাঁচ নম্বর গেট প্রাঙ্গণে এ উৎসবের আয়োজন করে ‘সম্ভাবনা’।

আরো উপস্থিত ছিলেন নারী উদ্যোক্তা হাসিনা মুক্তা, হাসিনা জান্নাত থাকি, নাহিদ আক্তারসহ সম্ভাবনার স্বেচ্ছাসেবী এবং শুভাকাঙ্খীরা।

তোফাজ্জেল আলী বলেন, এদের একত্র করতে এবং ধরে রাখা যে কত কঠিন তা তারাই জানেন। যার যে সামর্থ সে অনুযায়ী আমরা যেন এগিয়ে আসি। যার যেমন সামর্থ‌্য আছে সে অনুযায়ী তিনি সবাইকে তাদের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

মুস্তাফিজ শফি বলেন, কাউকে পিছনের রেখে সেভাবে এগোনো যায় না। সমতা লাগবে। সুষম বণ্টন লাগবে। সবাইকে নিয়ে এগোতে হবে। কবি কাজী নজরুল ইসলামও সুবিধাবঞ্চিত থেকে উঠে এসেছেন।

যারা সুবিধা বঞ্চিত থেকে উঠে আসার চেষ্টা করছে, আমার বিশ্বাস তারা আমাদের চেয়ে মেধাবী। সম্ভাবনা বা অন্য যে সংগঠনগুলো এই কাজ করছেন তাদের প্রোমোট করার জন্য আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনারা যে আয়োজন করেছেন এটা অত্যন্ত ভালো লেগেছে। সবাই এগিয়ে যাক সেই প্রত্যাশা করি।

পথ শিশুদের নিয়ে এ আয়োজন সম্পর্কে সম্ভাবনার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম জানান, শীতের এই আমেজটা কিংবা মমতাময়ী মায়ের হাতের পিঠা পুলি খাওয়ার সুযোগ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা পায়না। সম্ভাবনা চায় বিভিন্ন উৎসব আমরা যেভাবে পালন করি, শিশুরাও যেন সেভাবে পালন করতে পারেন। যে কেউ চাইলেই আমাদের শিশুদের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারে।

উল্লেখ‌্য, ‘বঞ্চিত শিশু ও আগামীর সম্ভাবনা’ স্লোগান নিয়ে ২০১১ সালে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সম্ভাবনার পথ চলা শুরু হয়। সেই থেকে সম্ভাবনা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পুষ্পকলি স্কুল নামে একটি অবৈতনিক স্কুল পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে মিরপুর স্টেডিয়াম, রবীন্দ্র সরোবর এবং মিরপুর কালশী বস্তিতে পুষ্পকলি স্কুলের তিনটি শাখা রয়েছে।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার কবর জিয়ারত

‘যত চাও, তত খাও’

প্রকাশিত : ০৭:২১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জানুয়ারী ২০২০

হাড় কাঁপানো শীত। অসহায় দরিদ্র, ছিন্নমূল পথশিশুদের কাছে শীত মানেই দুঃস্বপ্ন। আর মায়ের হাতের পিঠা পুলি খাওয়া তো শুধু স্বপ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

তাই এসব শিশুদের দুঃস্বপ্ন দূর করতে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সম্ভাবনা অষ্টমবারের মতো আয়োজন করেছে পুষ্পকলিদের শীত উৎসব। প্রায় ৩০০ জন পথশিশুদের সাথে নিয়ে সম্ভাবনার উৎসবে মেতেছিল।

পথশিশুদের জন্য আয়োজিত এই উৎসবে ছিল ‘যত চাও, তত খাও’ নামক হরেক রকমের পিঠা পুলি খাওয়া, দিনের শীত নিবারণের জন্য দেওয়া হয় ভারী জ্যাকেট এবং রাতের শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল। উৎসবের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে ছিল ম্যাজিক শো, পাপেট শো, মিউজিক শোসহ এবং পুষ্পকলি দের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

শিশুদের সাথে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শিশু অভিভাবক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টান্ডার্ড গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক তোফাজ্জেল আলী, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি। বেলা একটার দিকে তারা ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাঁচ নম্বর গেট প্রাঙ্গণে এ উৎসবের আয়োজন করে ‘সম্ভাবনা’।

আরো উপস্থিত ছিলেন নারী উদ্যোক্তা হাসিনা মুক্তা, হাসিনা জান্নাত থাকি, নাহিদ আক্তারসহ সম্ভাবনার স্বেচ্ছাসেবী এবং শুভাকাঙ্খীরা।

তোফাজ্জেল আলী বলেন, এদের একত্র করতে এবং ধরে রাখা যে কত কঠিন তা তারাই জানেন। যার যে সামর্থ সে অনুযায়ী আমরা যেন এগিয়ে আসি। যার যেমন সামর্থ‌্য আছে সে অনুযায়ী তিনি সবাইকে তাদের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

মুস্তাফিজ শফি বলেন, কাউকে পিছনের রেখে সেভাবে এগোনো যায় না। সমতা লাগবে। সুষম বণ্টন লাগবে। সবাইকে নিয়ে এগোতে হবে। কবি কাজী নজরুল ইসলামও সুবিধাবঞ্চিত থেকে উঠে এসেছেন।

যারা সুবিধা বঞ্চিত থেকে উঠে আসার চেষ্টা করছে, আমার বিশ্বাস তারা আমাদের চেয়ে মেধাবী। সম্ভাবনা বা অন্য যে সংগঠনগুলো এই কাজ করছেন তাদের প্রোমোট করার জন্য আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনারা যে আয়োজন করেছেন এটা অত্যন্ত ভালো লেগেছে। সবাই এগিয়ে যাক সেই প্রত্যাশা করি।

পথ শিশুদের নিয়ে এ আয়োজন সম্পর্কে সম্ভাবনার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম জানান, শীতের এই আমেজটা কিংবা মমতাময়ী মায়ের হাতের পিঠা পুলি খাওয়ার সুযোগ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা পায়না। সম্ভাবনা চায় বিভিন্ন উৎসব আমরা যেভাবে পালন করি, শিশুরাও যেন সেভাবে পালন করতে পারেন। যে কেউ চাইলেই আমাদের শিশুদের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারে।

উল্লেখ‌্য, ‘বঞ্চিত শিশু ও আগামীর সম্ভাবনা’ স্লোগান নিয়ে ২০১১ সালে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সম্ভাবনার পথ চলা শুরু হয়। সেই থেকে সম্ভাবনা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পুষ্পকলি স্কুল নামে একটি অবৈতনিক স্কুল পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে মিরপুর স্টেডিয়াম, রবীন্দ্র সরোবর এবং মিরপুর কালশী বস্তিতে পুষ্পকলি স্কুলের তিনটি শাখা রয়েছে।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান