বাংলাদেশের রাজনীতিতে পারিবারিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। সেই ধারাবাহিকতায় দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর পিতা-মাতার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করে নেতৃত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর সন্তান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই দুই নেতার ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাঁদের উত্তরাধিকার বহন করাও এক বড় দায়িত্ব।
রাজনীতিতে উত্তরাধিকার কখনোই কেবল আবেগের বিষয় নয়; এটি একই সঙ্গে প্রত্যাশা ও পরীক্ষার ক্ষেত্র। দলীয় নেতা-কর্মীরা তারেক রহমানকে সংগঠনের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন এবং আশা করছেন তাঁর নেতৃত্বে দল সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক কৌশলে সমৃদ্ধ হবে। সমর্থকদের প্রত্যাশা—তিনি গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে বাস্তবমুখী রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।
অন্যদিকে সমালোচকদের দৃষ্টি তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, অতীত বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থার দিকে। ফলে তাঁর নেতৃত্ব কেবল আবেগনির্ভর নয়; বরং তা কার্যকারিতা, গ্রহণযোগ্যতা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ নানা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দূরদর্শী নেতৃত্বই হতে পারে স্থিতিশীলতার চাবিকাঠি।
তারেক রহমানের সামনে তাই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—একদিকে পারিবারিক ঐতিহ্যের মর্যাদা রক্ষা, অন্যদিকে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কার্যকর নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন। রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাফল্য নির্ভর করবে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, সহনশীলতা এবং জনগণের আস্থা অর্জনের সক্ষমতার ওপর।
যোগ্য পিতা-মাতার রেখে যাওয়া আসনে বসা নিঃসন্দেহে গৌরবের, তবে সেই আসনকে মর্যাদাপূর্ণ রাখা আরও বড় দায়িত্ব। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শেষ কথা বলে জনগণই। সময়ই নির্ধারণ করবে—এই উত্তরাধিকার কতটা শক্তিতে রূপ নিল এবং নতুন নেতৃত্ব কতটা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্থায়ী প্রভাব রাখতে সক্ষম হলো।
























